বাইশারীতে শতাধিক স্পটে চলছে পাহাড় কাটা

মাঈনুদ্দিন খালেদ :
দেশের সাদা সোনা রাবার বাগানের জন্যে দেশখ্যাতি পাওয়া বান্দরবানের  নাই্ক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে পাহাড় কাটা চলছে শতাধিক স্পটে। ডজনাধিক ডাম্পার ও অন্যান্য গাড়ি নিয়ে রাত-দিন এ সব পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও পরিবেশ অধিদপ্তর বা স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন রহস্যজনক কারনে নিরব। স্থানীয় সচেতন মহল  বলছেন পাহাড় কাটা বন্ধের বিষয়ে সরকার কঠোর হলেও এখানে ভূমিদস্যুরা তা মোটেও কানে তুলছেনা। যাতে করে অহরহ পাহাড় কাটা চলছে এখানে। ফলে এখানে পরিবেশ বির্পযয় সহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগের  আশংকা করছেন তারা।
সরেজমিন গিয়ে আরো জানা যায়, বাইশারীতে পাহাড় কাটা চলছে আজ দু’মাস ব্যাপী। ক্ষমতার দাপট বা অতি লোভি কিছু ভ’মিদস্যু গায়ের জোরে যত্রতত্র ডাম্পার গাড়ি ব্যবহার করে তারা এ সব করছে।  এলাকার লোকজন জানান,স্থানীয় কবির কোম্পানী পাহাড় কাটছেন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওর্য়াডের ধামনখালী মার্মা পাড়ার উম্মোচিং  পাহাড়। উত্তর বাইশারীতে চেংগার ঘোনা মোজাহের মিয়ার পাহাড় কাটছে আরেকদল ,মধ্যম বাইশারী ফারুখ চেয়ারম্যানের বাড়ির পূর্ব পাশের পাহাড় অন্য আরেক গ্রুপ,বাইশারী আলম কোম্পানীর বাড়ির সামনের পাহাড় কেটে নিয়ে আসছে প্রভাবশালীরা,পূর্ব বাইশারী মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানের পাহাড় কাটছেন এক সাবেক মেম্বার।
লম্বাবিল আবদু জ্জাব্বারের বাড়ির পাশে কাটছেন আরেক ভূমিদস্যু। করলিয়ামূরা গলাছিরা ও মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার পাশের পাহাড় কাটছে পেশাদার ও প্রভাবশালী এক ভূমিদস্যু। আর পূর্ব বাইশারীতে তুফান আলী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের পাহাড় কাটছে একাধিক ভূমিদস্যু।
তাছাড়া বাইশারী বিভিন্ন এলাকা তথা,হলুদিয়া শিয়া,নারিচবুনিয়া,করলিয়া মূরা,লম্বাবিল,যৌথখামার এলাকা,গুইয়া পাড়া,চাকপাড়া, আলিক্ষ্যং,কাগজি খোলা ও ক্যাংগারবিল সহ শতাধিক স্পটে বর্তমানে পাহাড় কাটা চলছে প্রতিনিয়ত ।
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম কোম্পানী জানান,পাহাড় কাটা অপরাধ হলেও বাইশারীতে অনেক স্থানে পাহাড় কাটা চলছে। কিন্তু তিনি তার কাছে থাকা  ক্ষমতা  প্রয়োগের চেষ্টাা করেও ব্যর্থ  হয়েছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল এ বিষয়ে বলেন,নানা মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি বাইশারীতে যান। পাহাড় কাটার প্রমান পেয়ে তিনি কয়েকটি স্পটে অভিযান চালালেও কোন লোকজনকে সেদিন তিনি পাননি। এমন কি কোন গাড়িও ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি তখন। তবুও তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার ও দায়িত্বশীল লোকজনকে  পাহাড়কাটা বন্ধের এবং একাজে ব্যবহৃত ডাম্পার (এক ধরনের ট্রাক)  গাড়ি আটকের বিষয়ে কঠোর হওয়ার জন্যে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন ঘটনাস্থলেই। এছাড়া আরো যত আইনী ব্যবস্থা আছে তা নিয়ে এসব ভূমি দস্যূদের চিহিৃত করতে তালিকা করছেন বর্তমানে। তার পর দেখা যাবে এরা কোথায় পালায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top