সাগরের উচ্ছ্বাসে উজ্জীবিত লাখো পর্যটক

12980003.jpg

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। ছবিটি বুধবার বিকেলে তোলা।

কক্সবাজার রিপোর্ট ।।

নীল জলের উত্তাল ঢেউ আর তার সুরের আবহ, এ যেন সাগরের চিরকালীন পরিবেশ। আর এ পরিবেশে নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতা এড়িয়ে ছুটে আসা মানুষগুলো যেন পুরোদমে উজ্জীবিত। ঢেউয়ে ঢেউয়ে কেউ ভিজিয়ে নিচ্ছেন শরীর কেউবা বালিয়াড়িতে খালি পায়ে এগিয়ে অবলোকন করছেন মেঘ-সাগর আর আকাশের সৌন্দর্যকে। আনন্দঘন এসব মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করার লোভ বা প্রতিযোগিতাও দেখা যায় এর পাশাপাশি।

এসব বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে উজ্জীবিত হওয়া মানুষগুলোর দেখা মিলছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। ঈদ উপলক্ষে কক্সবাজার এখন যেন ঠাঁইহীন নগরী। গত ২ দিন ধরে বিপুল সংখ্যক পর্যটকে ভরপুর এ শহর।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, ২ দিন ধরে কক্সবাজারে গড়ে এক লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণে আসছেন। এসব পর্যটক কক্সবাজারের সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউসে অবস্থান নিচ্ছেন। আর এসব পর্যটক কক্সবাজার সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

পর্যটকরা বেশি ভিড় করেছেন সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে। এরপরই পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে হিমছড়ি ও পাথুরে সৈকত ইনানী। প্রতিটি পর্যটন স্পটে পর্যটকরা নিজেদের সাধ্যমতো আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করছেন। সমুদ্র সৈকতে গোসলের পাশাপাশি হিমছড়ি ঝর্ণা, পাহাড়ের ওপর থেকে সৈকত ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা। ইনানী সৈকতে পাথর, ঘোড়া ও বিচ বাইকে বেড়াতেও পর্যটকেরা আকৃষ্ট হচ্ছেন।

ঈদের ছুটিতে পরিবারকে নিয়ে ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছেন তারিকুল ইসলাম। পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা। তারিকুলের সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী সানজিদা ইসলাম ও একমাত্র ছেলে সানজামুল ইসলাম।

তারিকুল বলেন, “তাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, রামু বৌদ্ধ বিহার, পাথুরে সৈকত ইনানী এবং হিমছড়িতে ঘুরে বেড়াবেন। তাই এবারের ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার ছুটে এসেছেন।”

শুধু তারিকুলই নন, তার মতো অসংখ্য পর্যটক এবার ঈদের ছুটিতে বেড়াতে এসেছেন পর্যটন শহর কক্সবাজারে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, সি-গাল, কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি ও ইনানী সৈকতে ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।

আগামী শনিবার পর্যন্ত এই রকম দৃশ্য থাকবে বলে মনে করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্য মতে, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছে প্রায় দুই লাখের অধিক পর্যটক।

বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বেড়াতে আসা সাকিবুর রহমান বলেন, “ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার ভ্রমণ অন্য রকম আনন্দের। তাই সবার সঙ্গে কক্সবাজার সৈকতে গোসল ও ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছুটে আসা।”

বেড়াতে আসা ডা. শিরিন আকতার বলেন, “সমুদ্র সৈকতের কাছে নিরিবিলি জায়গায় পরিবারের সঙ্গে একান্ত কিছু মুহূর্ত কাটানো খুবই প্রয়োজন মানুষের। তাই ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার আসা। খুবই মজা হচ্ছে, আর ঈদ ঈদ আমেজ থাকাতে ছুটিটা কক্সবাজারে ভালই কাটছে।”

পুরান ঢাকার বাসিন্দা হামিদ আহমেদ বলেন, “সবসময় তো ঢাকাতে ঈদ করি। বাইরে কোথাও গিয়ে আসলে ঈদ করার সময় পাওয়া যায় না। তাই এবার সময় পাওয়াতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজারে ঈদের আনন্দ ও ছুটিটা ভালো উপভোগ করছি।”

সিলেট থেকে আসা রিয়াজুল কাদের দম্পতি বলেন, “ঈদের আনন্দ ব্যতিক্রমভাবে উপভোগ করার জন্য কক্সবাজারে ছুটে আসা। কক্সবাজার সৈকত হচ্ছে একটি চমৎকার স্থান। যেখানে ঈদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।”

জসিম উদ্দিন নামের আরেক পর্যটক বলেন, “ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি আর ঈদ মানে কক্সবাজার। প্রতিবছর আমি কক্সবাজার আসি। বিশেষভাবে ঈদের দিনটা উদযাপন করার জন্য।”

সমুদ্রে স্নানরত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সি-সেইভ লাইফ গার্ডের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমদে জানান, সমুদ্রস্নানে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ইয়াছিন, রবি, সি-সেইভ লাইফ গার্ডের কর্মীরা। এবারের ঈদে যেহেতু অতিরিক্ত পর্যটক আগমন ঘটায় দায়িত্ব পালনে লাইফ গার্ড কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে বর্ষা মৌসুমে সুইমিং জোনে পর্যটকদের গোসল করেই ভালো। কারণ এসময় সমুদ্র উত্তাল তাকে। এক্ষেত্রে পর্যটকদেরও নিজেদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বী বলেন, “এবারের ঈদে ধারণার চেয়েও বেশি পর্যটকের আগমন ঘটেছে। ফলে পুলিশের দায়িত্ব পালনেও হিমশিমে খেতে হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে আরও প্রচুরসংখ্যক পর্যটক আসবেন বলে আমাদের ধারণা। সে অনুযায়ী পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তাসহ পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।”

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top