কোচিং ফি’র নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়

download-2.jpg1_.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
শিক্ষা মন্ত্রনালয়, শিক্ষা বোর্ডের কড়া নির্দেশনা এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের কড়াকড়িতে জেলায় মাধ্যমিক স্কুল গুলোতে প্রথম বারের মত এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরনের সময় শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় কিছুটা বন্ধহলেও স্কুলের কোচিং ফির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবী কোচিং না করলেও কোচিং ফির নির্ধারিত টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছে স্কুল কতৃপক্ষ। এদিকে অভিবাবক ও সচেতন মহলের দাবী ১ ফেব্রুযারী এসএসসি পরীক্ষা হলে ৩ মাসের আগাম কোচিং ফি এখন থেকে কিভাবে আদায় করতে পারে ? এছাড়া যারা কোচিং করবে না তাদের কাছ থেকে ও স্কুল কতৃপক্ষ কিভাবে ফি আদায় করছে সেটা প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার। এছাড়া অনেক স্কুলে নির্বাচনী পরীক্ষায় ১ বা তারো বেশি বিষয়ে খারাপ করা শিক্ষার্থীদের প্রমোশন দিতে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন তাদের স্কুলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরনের জন্য প্রতিজন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা শাখায় ১৭০০ টাকা আর বিজ্ঞানে ১৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে এর বাইরে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ মাসের কোচিং ফি বাবদ ১৫০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে। এ সময় প্রধান শিক্ষকের কাছে কোচিং ফি আগাম কেন দিতে হচ্ছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন এটা কমিটির সিদ্ধান্ত। এদিকে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বর্তমানে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান তাদের কাছ থেকে জেএসসি ফরম পূরনের জন্য ২৮০০ টাকা করে নিয়েছে।
তার পার্শবর্তি খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেখানে বোর্ড নির্ধারিত ১৫৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে কিন্তু সাথে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোচিং ফির নামে ১৫০০ টাকা নিচ্ছে। এই স্কুলের এক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে আমাদের বলা হয়েছে কেউ যদি কোচিং নাও করে তাহলেও কোচিং ফি বাধ্যতামূলক দিতে হবে। আর এটা নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করছে না সবাই দিয়ে দিচ্ছে। এদিকে কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। বেলা সাড়ে ১১ টার সময় শিক্ষাথীরা মাঠে খেলাধুলা করছে। ক্লাসে শিক্ষক নেই। এলাকাবাসির অভিযোগ এই স্কুলে কোন কমিটি নেই বেশ া৩য় পৃষ্ঠার ১ কলামে দেখুনা
কোচিং ফি’র নামে
(১ম পৃৃষ্ঠার পর)
কয়েক বছর ধরে সবচেয়ে বড় সমস্যা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খুবই অনিয়মিত তিনি মাঝে মধ্যে স্কুলে আসেন। তাই স্কুলের শিক্ষার মান খুবই নিচে নেমে গেছে। এ সময় এসএসসি ফরম পূরন করতে আসা ২ ছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে স্কুলের অফিস সহকারী বলেছে ফরম পূরন করতে ৩ হাজার টাকা লাগবে। এ সময় আরেক ছাত্রী বলেন আমি নির্বাচনী পরীক্ষায় ২ বিষয়ে খারাপ করেছিলাম। অনেক চেস্টা করে প্রমোশন পেয়েছি। তবে সে জন্য টাকা চাইছে ৫ হাজার। আর আমাকে বলেছে কয়েক দিন পরে আসতে ৫ হাজার টাকা নিয়ে। এ ব্যাপারে সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্র ফোন কেটে দেন। আর ফোন রিসিভ করেন নি। এই স্কুলের বেশ কয়েক জন শিক্ষক বলেন শহরের কাছের এরকম একটি স্কুল এভাবে নস্ট হয়ে যাচ্ছে প্রশাসন বা স্থানীয় কোন মানুষ কি এটা দেখছে না ? আর এখানে গত বারের জেএসসি ফরন পূরনের সব টাকা কোথায় গেছে কেউ জানে না এছাড়া জেএসসিতে বোর্ড ফির বাইরে বিপুল টাকা নিয়েছে প্রধান শিক্ষক। এবারও বাড়তি টাকা আদায় করছে। আর সবছেয়ে বড় কথা যারা প্রমোশন পেয়েছে তাদের কাছ থেকে ২বা ৩ হাজার টাকাও বাড়তি নিচ্ছে যা প্রধান শিক্ষক ও প্রধান সহকারী ভাগবাটোয়ারা করে আত্বসাৎ করছে। এদিকে কক্সবাজারের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মোঃ ছৈয়দ করিম বলেন মানবিক এবং ব্যবসা শিক্ষায় ১২০০ টাকা আর বিজ্ঞানে ১৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে পেশকার পাড়ার এক ছাত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ২৮০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরন করেছি। এবং সবার কাছ থেকে ২৮০০ টাকাই নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে সেখানেও শিক্ষার্থীলা বোর্ড ফি দিয়ে ফরন পূরন করছে কিন্তু কোচিং ফি সহ তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রামু খিজারী উচ্চ বিদ্যালয়, রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, চাইল্যতলী উচ্চ বিদ্যালয়, উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সহ উখিয়ার বেশ কয়েকটি স্কুল এছাড়া চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বেশির ভাগ স্কুলে বোর্ডর ফির সাথে বাধ্যতামূলক ভাবে কোচিং ফি আদায় করা হচ্ছে।
এব্যাপারে কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এমএ বারী বলেন আমার জানা মতে কোচিং ফি বলতে কোন কিছু নেই। যতটুকু জানি সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিশেষ ক্লাস আছে আর সেই ক্লাসের জন্য স্কুল কতৃপক্ষ একটি ফি নিতে পারে। সেটাও ছাত্র এবং অভিবাবকের সম্মতিতে। কোন অবস্থাতেই বাধ্য করা যাবে না। এখন ফেব্রুয়ারীর ১ তারিখে এসএসসি পরীক্ষা হবে সেটার জন্য যদি আগাম ফি নেওয়া হয় সেটা কোন ভাবেই যুক্তি সংগত নয়। তবে এবারই প্রথম বারের মত বেশির ভাগ স্কুলে বোর্ড ফি নিয়ে এসএসসির ফরম পূরন করা হচ্ছে এটা খুবই ভাল দিক। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকা দরকার।
একই মত দেন কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন, তিনি বলেন, কোচিং ফি নামের কোন শব্দ নেই, বিশেষ ক্লাসের জন্য কোন টাকা নিলে সেটা মাসের টা মাসে নিয়ম অনুযায়ী আদায় করা যায়। তাই যারা পড়তে আগ্রহী তাদের কাছ থেকে কোন ভাবেই জোর পূর্বক টাকা আদায় করা যাবে না।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটিসি) মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন বাংলাদেশে কোচিং ফি বা কোচিং বলতে কিছু থাকবে না। আর কক্সবাজার দেশের বাইরে নয়। আর আগাম কোন টাকা আদায় করা যাবে না। এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেন অনেক আগে থেকেই এসএসসি ফরম পূরনে যাতে কোন অনিয়ম না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন কোচিং ফি আদায় সম্পর্কে যে বিষয় উঠে আসছে সেটাও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top