জেলা বিএনপি’র কমিটি পুনর্গঠন হচ্ছে

download-4.jpg

মনতোষ বেদজ্ঞ :
প্রায় ৮ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক পুনর্গঠন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলীয় চেয়ারপার্সনের মতামত ও অনুমোদন পেলে খুব শিগগিরই এ নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ শীর্ষ কয়েকটি পদে পুরনোরাই বহাল থাকছে। বাকি পদগুলোতে দলের যোগ্য ও প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পুরনোদের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন মুখও কমিটিতে স্থান পেয়েছে। জেলা বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, কমিটি পুনর্গঠনে আগামী নির্বাচনে আসনভিত্তিক সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ও তৃণমূল নেতাদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তাই বেশ কিছু চমক থাকছে জেলা বিএনপির নতুন কমিটিতে। বাড়ানো হয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদের সংখ্যা। কিছু নতুন পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। আগের কমিটিতে সহ-সভাপতির সাতটি পদ থাকলেও এবারের কমিটিতে সহ-সহভাপতি হবেন ১৫ জন। আগে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছিল একটি। সেই সংখ্যা বাড়িয়ে তিনটি করা হয়েছে। যুগ্ম সম্পাদকের পদে আগে দুই জন দায়িত্ব পালন করলেও নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন পাঁচজন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, দপ্তর সম্পাদক পদে ইউসুফ বদরী এবং প্রচার সম্পাদক পদে প্রফেসর আকতার চৌধুরী বহাল থাকছেন। ১৫১ সদস্যের কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবে থাকবেন মোট ৭৬ জন।
সূত্রমতে, আগামী সংসদ নির্বাচন ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে সম্ভাব্য আন্দোলনকে বিবেচনায় রেখে চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারসহ দেশের মোট ১৮টি জেলা শাখার নতুন কমিটি চূড়ান্ত করেছে দলটি।
নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত, তৃণমূলের ঐক্য অটুট, গতিশীল নেতৃত্ব বাছাই ও কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা রাখতে বিগত ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানকে। কিন্তু নানা কারণে বারবার পিছিয়েছে সময়সীমা। গত এপ্রিলে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে দ্রুত জেলা বিনএপির নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে নির্দেশনা দেন উপস্থিত কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ। এর প্রেক্ষিতে গত রমজানের আগে জেলা থেকে নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরী করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কক্সবাজারে কর্মী সভা করেন। ওই সভায় নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণে উখিয়া সফরে যাওয়া-আসার পথে ফেনীতে দুই দফা হামলার শিকার হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। এ ঘটনার পর দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় জোর দেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের তাগিদ দেন খালেদা জিয়া।
জেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘নতুন কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। কখন এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের উপর এটি নির্ভর করছে। গত এপ্রিলে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনের পর থেকেই মূল আমরা এ কমিটি গঠনের অপেক্ষায় আছি।’
সভাপতি পদে তিনি পুনরায় বহাল থাকছেন কিনাÑএমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘ওই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। ওই বিষয়ে আমি বা আমরা সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ নই।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবি বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে ঘোষনা আসার আগ পর্যন্ত জেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে কিছুই বলা সম্ভব নয়। ঘোষনা এলেই সকলের কাছে বিষয়টি পরিস্কার হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এবার দলীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের মত পদগুলো সংখ্যায় বেড়েছে।’
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ গত ২০০৯ সালের ২০ নভেম্বর কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রিয় নেত্রী সেলিমা রহমান সভাপতি পদে শাহজাহান চৌধুরী ও ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নার নাম ঘোষনা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top