জেলায় আমনের বাম্পার ফলন

images-2.jpg

এম. বেদারুল আলম :
কক্সবাজারে অগ্রাহায়ণে নবান্ন উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের খবর পাওয়া না গেলেও নবান্নের আমেজ এখন জেলার সকল কৃষান পরিবারে। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ যেন চাষিদের বুকজুড়ে। এ বছর আমনের উৎপাদন সরকারি লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ কারনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সকল প্রান্তিক ও বর্গাচাষির নিরলস প্রচেষ্টা অগ্রগন্য। সরকার মওসুমের শুরুতে কৃষকদের সুবিধার্থে চাষাবাদের জন্য সার ও বীজে ভর্তুকি প্রদান করায় বাম্পার ফলনের অন্যতম কারন বলে মনে করছেন কৃষকরা। গেল বছর ধানের দাম পাওয়ার কারনে এ বছর এমনিতে কৃষকদের আমন চাষে বাড়তি আগ্রহ ছিল। ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ আমন ধান কাটা হয়েছে এবং ৪০ শতাংশ চলতি সপ্তাহের মধ্যে কাটা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আকম শাহারিয়ার। তিনি বলেন- আমনে এ বছর তেমন কোন রোগ বালাই না থাকায় এবং মাঠে অধিদপ্তরের কর্মীরা কৃষকদের নানা পরার্মশ প্রদান করায় বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারন করেছিলাম তা এবছর ছাড়িয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জেলার ৮ উপজেলায় এবার ৭৭ হাজার ৭’শ ৩৩ হেক্টর জমিতে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার ৫শ ৭৮ মেট্রিক টন চাল। এ বছর আমন মওসুমে তিন জাতের ধানের আবাদ করা হয়। আবাদকৃত তিন জাতের ধান হল উফশী, স্থানীয় এবং হাইব্রীড। এদের মধ্যে হাইব্রীড জাতের ৯৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা র্নিধারণ করা হয়েছিল ৩৩০৮ মেট্রিকটন। উপসী জাতের ৬৮,৯৮৮ হেক্টরে ১,৯৩,১৬৬ মেট্রিকটন। এছাড়া স্থানিয় জাতের ৭৮০০ হেক্টরে ৩১,১০৪ মেট্রিকটন। এ বছর ২ দফা বন্যার কারণে চাষাবাদে কৃষকদের বিঘœ ঘটলে ও শেষ পর্যন্ত শতভাগ আমন চাষ শেষ করে কৃষকরা। মওসুমের শুরুতে বন্যার কারণে রোপা সংকটের ধকল কাটিয়ে পুরোদমে আবাদ শেষ করেছিল কৃষকরা। গত বছরের মত এ বছর ও আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হাতে নিয়েছিল কর্মকর্তারা।
এদিকে নিবিড় বার্ষিক সফল উৎপাদন কর্মসূচীর আওতায় ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে আমন ধানের উপজেলা ভিত্তিক জমি আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ৭৭ হাজার ৭শ ৩৩ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৯ হাজার ৫’শ ৭৮ মেট্রিক টন চাল। উপজেলা ভিত্তিক আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে চকরিয়ায় ১৯ হাজার ২শ ২৮ হেক্টরে ৫২ হাজার ১১মেঃ টন। পেকুয়ায় ৮ হাজার ৪শ ৫০ হেক্টরে ২২ হাজার ৫শ ৯৬ মেঃ টন। রামুতে ৯ হাজার ৪শ ৫ হেক্টরে ২৫ হাজার ৬শ ৬৬ মেঃ টন। সদরে ৯ হাজার ১শ হেক্টরে ২৪ হাজার ৫শ ৮৪ মেঃ টন। উখিয়ায় ৯ হাজার ১০ হেক্টরে ২৪ হাজার ৮শ ৪৭ মেঃ টন। টেকনাফে ১০ হাজার ৮শ ৪০ হেক্টরে ২৯ হাজার ১শ ৮৬ মেঃ টন। মহেশখালীতে ৮ হাজার ২শ হেক্টরে ২২ হাজার ৫শ ৬৮ মেঃ টন এবং কুতুবদিয়ায় ৩ হাজার ৫শ হেক্টরে ৮ হাজার ১শ ২০ মেঃ টন। জেলায় ৩ জাতের ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এদের মধ্যে ৩৭ হেক্টরে হাইব্রীড জাতের ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৪৫ হেক্টরে ৩৩০৮ মেট্রিক টন। উফশী জাতের ৬৮ হাজার ৯শ ৮৮ হেক্টরে ১ লাখ ৯৩ হাজার ১শ ৬৬ মেঃ টন এবং স্থানীয় জাতের ৭৮০০ হেক্টরে ১৩ হাজার ১শ ৪ মেঃ টন চাল।
এদিকে সদর উপজেলার ঝিলংজা ও পিএমখালীর কয়েকজন প্রান্তিক ও বর্গাচাষি ফয়েজ উল্লাহ, সৈয়দ করিম, মোহাম্মদুল হক, কামাল উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, সিরাজুল্লাহ, মোহাম্মদ কালু জানান, গত বছর ধানের দাম বাড়ার কারণে আমরা এ বছর আগ্রহ নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম, আমাদের ভাগ্য সহায় হয়েছে , মাঠে ফলন ভাল হওয়ায় আশা করছি ধার দেনা শোধ করতে পারব। তাদের অভিযোগ ঝিলংজা বীজের খামারে সরকারিভাবে আনা বীজ মৌসুমের শুরুর দিকে কালোবাজারে চলে যাওয়ায় চড়া দামে বীজ কিনতে হয়েছিল।
জেলায় মওসুমের শুরুতেই এ বছর বন্যা বেশি হওয়ায় আমনের উৎপাদনের লক্ষ্যামাত্রা অর্জন নিয়ে শংকা ছিল। আমনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় জেলার খাদ্য সংকট কাটিয়ে দেশের নীট উৎপাদনে অবদান রাখবে সোনালি আমন ধান।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top