কক্সবাজারে তিনদিন ব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু হচ্ছে আজ

images-1-3.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
কক্সবাজারে তিনদিন ব্যাপী ইজতেমা শুরু হচ্ছে আজ। কক্সবাজার শহরের সমুদ্র সৈকতের ডায়বেটিস পয়েন্টে আজ বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ইজতেমার কার্যক্রম। ৯ ডিসেম্বর আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। ইজতেমা কমিটি সুত্রে জানা যায় অন্তত সাড়ে ৫ লাখ মুসল্লি ইজতেমায় অংশগ্রহন করবেন।
কক্সবাজারের সাগর পাড়ের ডায়বেটিস পয়েন্টে শুরু হচ্ছে ইজতেমা। গতকাল থেকে ইজতেমার স্থানে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। ইজতেমার মাঠের দায়িত্বরত আতাউর রহমান জানিয়েছেন, প্রচারণার কোন কার্যক্রম তাবলীগ জামাতে নেই। ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কক্সবাজারের ইজতেমা শেষে অন্তত ৩০ হাজার মুসল্লি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, তাবলীগ জামায়াতের শীর্ষ ব্যক্তিরা কক্সবাজারে বয়ান দেবেন। অন্তত সাড়ে ৫ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটবে ইজতেমায় এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় জন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য ৬০০টি টয়লেট, ১০০টি টিউবওয়েল ও ১০০০টি প্রসাবখানা অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া তাবলীগ জামাতের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তাবু টাঙ্গাানো ও চট বিছানো হয়েছে ইজতেমার স্থলে। মুসল্লিরা নিজেরাই থাকার জিনিসপত্র সাথে এনেছেন।
কুতুবদিয়া বড়ঘোপ থেকে এসেছেন মোহাম্মদ আবুল কালাম(৭৫), তিনি জানিয়েছেন, পছন্দনীয় স্থানে বসার সুযোগ করে নেওয়ার জন্য একদিন আগে এসেছেন। তাদের ১৫ জনের একটি দল থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। এই তিনদিন ইজতেমাস্থলেই সব হবে। মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির জন্য ইজতেমায় এসেছেন জানিয়েছেন তিনি বলেন, বাকী জীবনটা তাবলীগ জামাতের সাথে ইবাদত বন্দিগীর মাধ্যমেই কাটিয়ে দেবেন। ইজতেমা শেষে চিল্লায় যাবেন এমন ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।
রামুর ঈদগড় থেকে ইজতেমায় এসেছেন নুর মোহাম্মদ (৬৫), তিনি বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এত মুসল্লির সাথে বয়ান শুনা ও মোনাজাতে শরিক হওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ডঃ এ কে এম ইকবাল জানিয়েছেন, ইজতেমা স্থলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে। ইজতেমার আশপাশের এলাকাও নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। ইজতেমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন জানিয়েছেন, কক্সবাজারের ইজতেমা সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে ও মুসল্লিদের ভোগান্তি দুর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজতেমা কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top