কোচিং বাণিজ্যকারি শিক্ষকদের সেন্টারে অভিযান

cosig-news.doc.jpg

?

মাহবুবুর রহমান ও এম. বেদারুল আলম :
কক্সবাজার শহরের দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি নিয়ে চলমান কোচিং বানিজ্যের বিরুদ্বে অবশেষে অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখার দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা প্রিয়াংকা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন বেগম সেতু অভিযানে নেতৃত্ব দেন। গতকাল বিকাল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে প্রথমেই শহরের কবরস্থান সড়কের পাশে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইকবাল ফারুকের নেতৃত্বে চলমান বিশাল কোচিং সেন্টারে যান এ সময় ম্যজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যান শিক্ষক ইকবাল ফারুক সহ আরো কয়েক জন। পরে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কোচিং করতে আসা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তাদের কাছ থেকে ২৫০০ টাকা করে নিয়েছে কোচিংবাজ শিক্ষকরা। পরে দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করেও উক্ত শিক্ষকের দেখা পাননি ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিন চৌধুরী । এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন ইকবাল ফারুকের কোচিং সেন্টারে যেভাবে গাদাগাদি করে বসে প্র্ইাভেট পড়াচ্ছে সেটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এখানে শিক্ষার কোন পরিবেশ নেই। আর ১৫/২০ দিনের জন্য এত বিপুল পরিমান টাকা নিচ্ছে সেটা ও কোন ভাবে কাম্য নয়। পরে সেখান থেকে বের হয়ে একই স্কুলের শিক্ষক আবু সুফিয়ান এবং আনোয়ারুল আজিমের পরিচালনাধীন কোচিং সেন্টারে যান ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় তাদের কোচিংরত অবস্থায় পেয়ে কোচিং বানিজ্য বন্ধে সরকারি নির্দেশনা নিয়ে কথা বলেন পরে উক্ত শিক্ষকদের কোচিং বন্ধ করতে নির্দেশ দেন এবং প্রাথমিক ভাবে তাদেরকে সতর্ক করেন। পরবর্তিতে কোচিং করালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান অভিযান পরিচালনাকারি বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়।
এদিকে শহরের কোচিং সেন্টারে প্রশাসনের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে কোচিংরত শিক্ষকরা তড়িঘড়ি তরে তাদের ছাত্র ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে পালিয়ে যান। তারই ধারাবাহিকতায় ভ্রাম্যমান আদালত কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকারিয়া মোঃ ইয়াহিয়ার কোচিং সেন্টারে গেলে সেখানে আগে থেকেই দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান উক্ত শিক্ষক। একইভাবে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আবদু রহিম এবং বার্মিজ মার্কেট এলাকায় আবু তৈয়ব দিদারের কোচিং সেন্টারে গেলেও সেখানে কোচিং সেন্টারগুলো তালা বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সুরেশ বড়ুয়া,আবুদল আমীন, জালাল উদ্দিনের কোচিং সেন্টারে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। একই সাথে আনসারুল হক চৌধুরী, উম্মে জাহেদা সুলতানা, রফিকুল ইসলাম, সুমন দত্ত, জাহিদুর রহমান, মছরুজ্জামান, রিয়াজুদ্দীন ফারুক, আবু জোবাইর, সহ অসংখ্য কোচিং শিক্ষক তাদের নির্দিষ্ট কোচিং সেন্টার ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে ফারজানা প্রিয়াংকা সাংবাদিকদের বলেন ,আমরা আজ প্রাথমিকভাবে কোচিং বানিজ্যকারি শিক্ষকদের সতর্ক করলাম। যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদের অফিসিয়াল ভাবে চিঠি দেওয়া হবে। এবং প্রশাসন মনে করে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি কোচিং এর নামে এভাবে বানিজ্যিক ভিত্তিতে কোচিং করিয়ে শিক্ষকরা আইনের লংঘন করছেন। ভর্তি কোচিং বানিজ্যকারি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
এসময় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের গৃহীত যে কোন পদক্ষেপ আমরা বাস্তবায়ন করবো।
এদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইটিসি মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন কোচিং করানো কোন ভাবেই মেনে নেওয়া হবেনা। আপাতত প্রাথমিক ভাবে সতর্ক করা হয়েছে পরবর্তিতে কেউ কোচিং করালে কঠোর ব্যবস্থা নেওযা হবে। উল্লেখ্য গত ৩০ নভেম্বর দৈনিক কক্সবাজারে প্রকাশিত‘ শহরে দু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি কোচিং বানিজ্য , ২২ দিনে ১৮ শিক্ষকের পকেটে অর্ধ কোটি টাকা’ শিরোনামে তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং প্রশাসন সংবাদের গুরুত্ব দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল প্রশাসন উক্ত অভিযান পরিচালনা করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top