বছরের ১ম দিনেই শিক্ষার্থীর‍া হাতে পাবে নতুন বই

download-5-2.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
প্রতি বছরের ন্যায় নতুন বছরের প্রথম দিনে কক্সবাজারের ১ম থেকে ৯ম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ নতুন বই বিতরণ করা হবে। একই সাথে ১ জানুয়ারী সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারেও বই উৎসব পালন করবে কক্সবাজারের প্রতিটি স্কুলে। এদিকে এত বিপুল পরিমান শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ন বিনা মুল্যে সরাকরি ভাবে বই বিতরণ করা সরকারের অত্যন্ত সাহসি পদক্ষেপ বলে জানান সচেতন মহল। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যয় ভার কমা সহ সার্বিক ভাবে ্উপকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি বছর জেলায় ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ৫২ লাখ ৭৫ হাজার বই বিতরণ করা হবে। ১ জানুয়ারী এই বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌছাবে। ইতি মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ বই কক্সবাজারে চলে এসেছে এবং সেটা উপজেলা পর্যায়েও পৌছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে প্রাথমিক পর্যায়ে বইয়ের চাহিদা প্রায় ৬৭ লাখ বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে বেশির ভাগ এসে পৌচেছে। আর কিছু বই বাকি আছে সেটা ্ও এসে পৌছাবে। এদিকে কক্সবাজার বিভিন্ন কেজি স্কুলের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সরকারের এই বিশাল সাহসি উদ্যোগের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রমজান আলী বলেন আমার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে এরকম সাহসি উদ্যোগ দেখিনি। সরকার চাইলে যে সব কিছু পারে এটা তার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। এক সাথে দেশে সব শিক্ষার্থীকে সম্পুর্ন বিনা মুল্যে সরকারি ভাবে বই দেওয়ার দৃস্টান্ত বোধয় আর কোন দেশে আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। এতে শিক্ষার খরচ কমেছে, সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বড় উপকার হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলা বাজার কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমআর মাহবুব বলেন সরকারি ভাবে সব স্কুলে বই দেওয়াটা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী বিনা মুলে বই পাচ্ছে। কিন্তু বই বিতরণের খেত্রে কেজি স্কুল গুলোর সাথে একটি বিমাতাসূলভ আচরন করা হয়। আগে সরকারি স্কুল গুলো এমনকি মাদ্রাসা গুলোকে দিয়ে তার পর কেজি স্কুল গুলোকে সরকারি বই দেওয়া হয়। এতে কেজি স্কুলের মেধাবি শিক্ষার্থীরা দেরীতে বই পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। যদি শিক্ষা কর্মকর্তারা সমন্নয় করে সবাইকে এক সাথে বই দেওয়ার ব্যবস্থা নেয় তাহলে খুবই উপকার হতো।
এদিকে পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউট এর সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান এর মাধ্যমে উক্ত স্কুলের ৮ শ্রেনীর এক ছাত্রী অভিবাবক হারেছ মিয়া বলেন আমার ৩ ছেলে মেয়ে স্কুলে পড়ে। আগে তাদের ছোট বেলায় প্রতি বছরের শুরুতে তাদের বই কিনে দিকে আমার হিমশিম খেতে হতো। পেশায় রিক্সা চালক হিসাবে সংসারে তেমন টাকা জমানো থাকতো না। তাই বছরের শুরুতে ছেলে মেয়েদের কয়েক হাজার টাকা কিনে দিতে আমার অবস্থা করুন হয়ে যেত। কিন্তু এখন বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ছেলে মেয়েদের বিনা মুল্যে বই দিয়ে আমাদের মত গরীব মানুষের জন্য খুবই উপকার হয়েছে। এখন আমাকে আর বইয়ের টাকার জন্য চিন্তা করতে হয় না। তবে কিছু গাইড বই কিনতে হয় যার মূল্য অনেক বেশি। এটা যদি কোন ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যেত তাহলে অনেক উপকার হতো।
্এ সময় পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে সফলতার জন্য অনেক কিছু করেছে যা বলে শেষ করা যাবে না। এর মধ্যে অন্যতম এক সাথে জেলায় ১ কোটির বেশি বই দিচ্ছে তাহলে সারা দেশে কত হাজার কোটি বই দিচ্ছে সাহসি পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই না। এছাড়া এক সাথে সব প্রাথমিক বিদ্যালয় কে সরকারি করণ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করণ কলেজকে সরকারি করন করা এত সহজ কথা না। এটা আসলেই প্রশংসার দাবীদার। আর বর্তমানে ১ জানুয়ারী দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে সম্পূর্ণ বিনামুল্য বই উপহার দেওয়াটা সত্যি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মাইল ফলক।
এদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ছালেহ আহাম্মদ চৌধুরী বলেন ১ জানুয়ারী বই উৎসব করার জন্য আমরা সর্বাত্তক প্রস্তুতি গ্রহন করেছি। জেলার সব স্কুল,মাদ্রাসা সহ সব খানে বই দেওয়া হবে। ইতি মধ্যে বেশির ভাগ বই চলে এসেছে বাকি যা আছে তাও খুব দ্রুত চলে আসবে। তিনি সরকারি ভাবে প্রদত্ত এই্ বইকে যতœ সহকারে ব্যবহার করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইটিসি মোঃ মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন নতুন বই বেশির ভাগ উপজেলা পর্যায়ে পৌছে গেছে, এ বিষয়ে আমরা নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছি। ১ জানুয়ারী সবাই বই উৎসব পালন করবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top