বছরে দেড় কোটি টাকার চাঁদা বাণিজ্য

download-1.png

এম. বেদারুল আলম :
জেলা অটোরিক্সা টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের নাম দিয়ে সিএনজি ও মাহিদ্র চালকদের ঘামের টাকা মেরে দিচ্ছে সমিতির নেতা নামধারী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তারা গরিব অসহায় গাড়ি চালকদের কাছ থেকে দৈনিক অন্তত ৩০ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। বাজারঘাটার আইবিপি মাঠে প্রধান কার্যালয়সহ ১৮টি শাখা অফিসের মাধ্যমে সিএনজি চালকদের জিম্মি করে টোকেনের মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগি চালকদের অভিযোগ। অথচ আদায়কৃত উক্ত টাকার সিংহ ভাগই আত্মসাৎ করছে সংগঠনের কর্মকর্তারা দাবি চালকদের বৃহৎ একটি অংশের। নেতাদের ভয়ে অনেক সিএনজি চালক মুখ খুলছেনা বলে জানা গেছে।
১৯৯১ সাল থেকে অদ্যাবধি চালকরা চাঁদা দিয়ে আসলেও তাদের দেওয়া টাকার হিসাব ও সঠিক পাওনা ফেরত পায়নি। সমিতির সদস্য এবং শ্রমিক উন্নয়নের নামে এই টাকা ব্যয় হয় বলে কর্মকর্তারা দাবী করলেও চালক ও শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন চাঁদার সিংহভাগ টাকা নেতারা পকেটে পুরছে। চালকরা নেতাকর্মীদের হাতে জিম্মি থাকার কারণে কোন হিসাব চাইতে গিয়ে উল্টো নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। টাকার অংক এবং সমিতির একাউন্টে জমানো টাকা আত্মসাৎ করার লোভে ইতোমধ্যে ২টি শক্তিশালী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একটি চক্র বর্তমান কমিটিকে হটিয়ে দখল নিতে মরিয়া, অপরদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ মজা ছাড়তে পারছেনা অপরপক্ষ। ফলে চালক শ্রমিকদের ঘামের টাকা আত্মসাতে চলছে দু দলের মধ্যে হামলা, মামলা। বার বার নির্বাচন নামের গ্যাড়াকলে শ্রমিকরা পিষ্ট হচ্ছে। সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক পক্ষ নিয়মানুযায়ি তপশিল দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করলে ও অপর শক্তিশালী পক্ষ বার বার নিবার্চন পেছাতে ব্যস্ত। ফলে শ্রমিকরা দু দলের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ৪ বছর আগে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হলেও ভোটার তালিকা নিয়ে মামলার মাধ্যমে একটি পক্ষ তা স্থগিত করে যা এখনো বন্ধ রয়েছে। ফলে সমিতির দখল নিতে দুটি শক্তিশালী পক্ষ চালিয়ে যাচ্ছে প্রানান্ত প্রচেষ্টা।
এ সমিতিটিকে বাগিয়ে নেওয়ার প্রানান্ত প্রচেষ্টার কারন অনুসন্ধানে জানা যায় , প্রতিদিন সিএনজি নিয়ে রামু থেকে শহরে প্রবেশের সময় ২ দফা টোকেনের মাধ্যমে ১০ টাকা করে ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এ চাঁদা আদায়ের জন্য প্রতিটি ঘাটে সমিতির বেতনধারী চাঁদা উত্তোলনকারী কর্মচারী থাকে। টোকেনের মাধ্যমে এ টাকা আদায় করে সন্ধ্যায় সমিতির নেতাও আদায়কারী মিলে উত্তোলনকৃত টাকা ভাগ ভাটোয়ারা করে। শহরের বাজারঘাটায় পূর্বের জেলা অফিসের সামনে চাঁদা উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানাান , সমিতির নেতাদের নির্দেশে প্রতি সিএনজি থেকে ১০ টাকা, মাহিন্দ্র থেকে রশিদের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা হারে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, নতুন সদস্য ভর্তির মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকা, পুরাতন সদস্যদের ১২ হাজার টাকাসহ বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়।
জানা যায়, দৈনিক চাঁদা আদায়কৃত শাখা সমূহ হল খুরুশকুল, রামু, গর্জনিয়া, পিএমখালী, পানির ছড়া, ঈদগাঁও খুটাখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, টৈটং, হাজি বাজার, মহেশখালীর কালামারছড়া, শাপলাপুর, টেকনাফ শামলাপুর, হ্নীলা, মরিচ্যা বাজার, সোনার পাড়া, কোট বাজার। এসব শাখা হতে জেলা কার্যালয়ের সভাপতি, সহ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের কাছে দৈনিক উত্তোলিত চাঁদা থেকে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে টাকা পাঠিয়ে দিতে হয়।
এদিকে ১৯৯১ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা হলেও জবাবদিহিতা, দুর্নীতির কারণে এগোতে পারছে না অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ কতিপয় শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে। দৈনিক মাসিক চাঁদা আদায়, সদস্য ভর্তির সময়, নতুন সিএনজি ও মাহিন্দ্র সমিতিতে অন্তর্ভূক্তির সময় এবং ১৮টি শাখা থেকে মাসিক চাঁদা আদায় সহ বিশাল অংকের টাকার হদিস নেই। শ্রমিকরা তাদের ঘামের টাকার সঠিক হিসাবের দাবি জানান এবং বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাতকারিদের ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top