সদর মডেল থানা: ঘুষ না দিলে মিলছে না সেবা

20141014_1154331.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক :
কক্সবাজারে সদর থানায় ঘুষ না দিলে মিলছে না ডিউটি অফিসারের সেবা। জিডি, অভিযোগ ও এজাহার জমা দিতেই টাকা দিতেই হচ্ছে দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার ওতার সহকারীকে। না হয় মিলছে না কাঙ্খিত সেবা। আর টাকার বিনিময়ে সেবা বিক্রি হওয়ায় ভুক্তভোগীরা পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ।

এ বিষয়ে পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুন্না বলেন,“ আমার ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে। তিনদিন আগে আমি এ ব্যাপারে জিডি করতে থানায় যাই। সেসময় ডিউটি অফিসার ছিলেন একজন নারী পুলিশ। আমার জিডি’র কপি নিয়েই তিনি আমার কাছে খরচের টাকা চান। আমি কিসের খরচ জানতে চাইলেই পাশে থাকা এক কনস্টেবল চোখ রাঙ্গিয়ে বলে ব্যাংকে টাকা দেওয়ার কথা মনে থাকে আর পুলিশের টাকার কথা বেমালুম ভুলে যান কেন ? তখন আমি দুইশত টাকা দিলে পুলিশ ওই টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলে পাচঁশ টাকা দেন। শেষে আমি তিনশত টাকা দিয়ে চলে আসি । ”শুধু মুন্না নয় গত কয়েকদিন যাবৎ এমন অভিযোগ নিয়ে অনেকেই এসেছেন “দৈনিক কক্সবাজার ” অফিসে।

ভোক্তভুগিদের এসব অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার একটি টিম গতকাল কয়েকদফা সদর থানা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সদর থানায় ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান করে ঘুষ ছাড়া কাজ না হওয়ার সত্যতাও পেয়েছে টিমটি।
সরেজমিনে পরিদর্শণকালে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কায়সারুল নামের এক যুবক পরিচয় পত্র হারানোর জিড়ি করতে সদর থানায় যান। তিনি জিডি’র কপিটি ডিউটি অফিসার এএসআই রাশেদের হাতে দেয়। ডিউটি অফিসার সেখালে সীল ও স্বাক্ষর দিয়ে তার সামনে বসা কনস্টেবল রাজিবুল আলমের কাছে দেয়। এবং কায়সারকে বলে ওই কনস্টেবলের সাথে যোগাযোগ করতে। তখন কনস্টেবল তাকে ভেতরে ডুকতে বলে এবং টাকা দিতে বলে। তখন কায়সার জানতে চান কত টাকা। এর প্রতিত্ত্যুরে কনস্টেবল রাজিবুল বলেন এমনিতে ৫০০ টাকা লই, আজ চাপ বেশী, কথা না বাড়িয়ে ৩০০ টাকা দিয়ে কপি নিয়ে যান।

এসময় ছালেহা বেগম নামের এক নারীও হারানো পরিচয়পত্র বিষয়ে জিড়ি করতে আসেন। যার জিডি নম্বর ৬৭৫। তার কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেন দায়িত্বরতরা। এ ছাড়া একইদিন জাতীয় পরিচয়পত্র হারানোর বিষয়ে জিডি করেছেন বেলাল নামের এক যুবক। ট্যুরিজম ব্যবসায়ী ওই যুবক ৫০০ টাকার বিনিময়ে জিড়ির কপি সংগ্রহ করেছেন।

এ বিষয়ে গতকাল বিকেল ৫ টায় মুঠোফোনে কথা ডিউটি অফিসার এএসআই রাশেদের সাথে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন স্লীপের বিষয়ে জিড়ি’র পরিমান বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ৬০/৭০ জিডি জমা হয়েছে। কাজের খুব চাপ। দুপুরের খাবারও খেতে পারেননি।

টাকার নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই রাশেদ বলেন, জিডি করতে কোন টাকা লাগেনা। তাই টাকা নেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তাছাড়া ডিউটি অফিসার কক্ষের পাশেই সিনিয়র অফিসারদের কক্ষ। তাঁরা বিষয়টি জানতে পারলে শাস্তি দিবে। তাই ভুলেও তিনি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেয়নি।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি রনজিৎ বড়ুয়া বলেন, জিডি করতে কোন টাকা লাগে না। কারো কাছ থেকে যদি কোন পুলিশ টাকা চায় তবে টাকা না দিয়ে তাকে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তার অনুপস্থিতিতে ওসি তদন্ত কিংবা ওসি অপারেশনকে অবহিত করার অনুরোধ করেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, ভোক্তভুগিরা যদি এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন তবে এসব কাজের জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন সহজ হয়। তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সদর থানা পুলিশকে সর্তক করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top