রামুতে ২ অস্ত্রসহ ৩ অপহরণকারী আটক

download-3-1.jpg

মাঈনুদ্দিন খালেদ :

রামুর পাহাড়ি জনপদ কচ্ছপিয়ার ঘিলাতলীর গহীন বনে গড়া ৪০ ডাকাতের আস্তানায় সাড়াশি অভিযানে কুখ্যাত শাহীন বাহিনীর সেকেন্ট ইন কমান্ড সহ ৩ ডাকাত ও অপহরণকারীকে ২ অস্ত্র সহ আটক করেছে থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো,আবদুর রহিম (২৬),নুরুল আলম সোনা মিয়া ও জালাল আহমদ। তাদের সকলের বাড়ি গর্জনিয়ার বেলতলী গ্রামে। আটকের পর এসব ডাকাতকে গতকাল ৬ ডিসেম্বর সকালে ককসবাজার কোর্টে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
পুলিশ জানান,গত মাস খানেক ধরে ঘিলাতলীর এ আস্তানায় ডাকাত সদস্যদের আনা গোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়ে। অপরদিকে গর্জনিয়া ফাড়িঁ পুলিশ কর্মকর্তারা পরিকল্পনা আকেঁ এদের আটকের। এ কারণে সোর্স লাগিয়ে ডাকাতের গতিবিধি মনিটরিং করে পুলিশের এ কর্মকর্তারা। অবশেষে গত ৫ ডিসেম্বর বিকেলে ছদ্মবেসে পুলিশের ফাড়িঁ ইনর্চাজ কাজী আরিফ উদ্দিন ,এসআই গোলাম মোস্তাফা,এএসআই জুয়েল বড়–য়া,এএসআই কাইসারের নেতৃত্বে পুলিশের ১৪ সদস্যের চৌকস দলটি
ডাকাতের আস্তানাটিতে অভিযানে নামে। তারা সে দিন বিকেলে ডাকাতের জঙ্গালাকীর্ণ এলাকার এ আস্তানাটি ঘিরে ফেলে মূর্হুতের মধ্যেই। র্সোসের কথা মতো আস্তানায় এ সময় ৮ ডাকাত থাকার কথা থাকলেও চালিত অভিযানে পাওয়া যায় ৪০ ডাকাত ও অপহরণকারীর প্রধান ২ নায়ককে। যারা এ আস্তানার প্রতিষ্ঠাতা শাহীন বাহিনীর সেকেন্টে ইন কমান্ড আবদুর রহিম ও থার্ড ইন কমান্ড সোনা মিয়াকে। এর পরে মাঝিরকাটা এলাকা থেকে আটক হয় অপর সদস্য জালাল আহমদ। এ ডাকাত ত্রয়ের বয়স ২৩ থেকে ২৭ বছর। তাদের প্রত্যেকের ৭/৮ টি করে ওয়ারেন্ট রয়েছে। অভিযানে নের্তৃত্বদানকারী কাজী আরিফ উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানান,অভিযানকালে অল্পের জন্যে দু পুলিশ সদস্য রক্ষা পায় এ ডাকাত দল থেকে। কেননা পুলিশ দেখার সাথে সাথেই নিজেদের হাতে থাকা বন্দুক তাক করে গুলি ছুটতে চেষ্টা করে ডাকাত সদস্যরা তাদের উপর। কিন্তু নাছোড়বান্দা পুলিশ কর্মকর্তারা এসবকে তোয়াক্কা না করে এদের ঝাপড়িয়ে ধরেই অস্ত্র সহ আটক করতে সক্ষম হন ডাকাতদেরকে। তিনি আরো জানান,আটক ৩ আসামী ই স্বীকার করেছে যে, ছাগলখাইয়া থেকে গত ২২ নভেম্বর রাতে অপহরণ করে ঈদগড় পাহাড়ে লুকিয়ে রেখে পরে মুক্তিপনের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা তারাই করেছে। এর আগেও এ ধরনের অনেক ঘটনা তারাই ঘটিয়ে এসেছে এ এলাকায়। এটা তাদের পেশা। তিনি আরো জানান, আটক আসামীরা ভয়ংকর ডাকাত ও পেশাদার অপহরণকারী। তারা দীর্ঘদিন ধরে এ কাজে জড়িত। বাইশারী,ঈদগড়,ছাগলখাইয়া,বাকখালী সহ রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রায় সকল ডাকাতি ও অপহরণ কাজে এদের পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৭/৮ টা করে ওয়ারেন্ট রয়েছেও রামু এবং নাইক্ষ্যংছড়ি থানায়। সর্বশেষ এদের আস্তানার বাকী সদস্যের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবী করে পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top