সাগরতলের এক আশ্চর্য জগৎ ফিশ অ্যাকুরিয়াম

FISH_02.jpg

সুজাউদ্দিন রুবেল :
সুড়ঙ্গের মতো সাজানো, নানা জাতের মাছ, নান্দনিক শিল্পকর্ম ও বৈদ্যুতিক আলোয় ঝলমলে ছোট-বড় শতাধিক অ্যাকোরিয়াম। এ যেন সাগরতলের এক আশ্চর্য জগৎ। এখন থেকে যার দেখা মিলবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। শহরের ঝাউতলায় বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম মেরিন ফিশ অ্যাকুরিয়ামটি, যা পর্যটন শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই যেন সাগর তলদেশের বর্ণিল রাজত্ব। চারদিকে নানা প্রজাতি মাছের রাজ্য, যেন সাগর তলদেশের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সুড়ঙ্গ দিয়ে ঢুকতেই হঠাৎ হাজির হতে পারে বিশাল এক হাঙ্গর; যার ওজন প্রায় ৫০ কেজি। ছুটে আসতে পারে মানুষ খেকো মাছ পিরানহাও। তারপর দেখা মিলবে লবস্টার, কোরাল, জেলি ফিশসহ নানা মাছ। অ্যাকুরিয়ামগুলোতে রাখা হয়েছে কৃত্রিম প্রবাল। সেই প্রবালের ভেতরে রং বেরঙের মাছ সাঁতরে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও আছে কচ্ছপ-কাঁকড়াসহ সাগরের গভীর তলদেশের নানা কীটপতঙ্গ।

সাগরতলের এই অপরূপ প্রকৃতির দেখা মিলবে দেশের প্রথম ও একমাত্র মেরিন ফিশ অ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্সে। কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায় এ অ্যাকুরিয়ামে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুকুর ও সমুদ্রের গভীর তলদেশে প্রাণী বসবাসের চিত্র। আছে গাছপালা, লতাপাতা, ফুল। ইটপাথর আর কংক্রিটে আবদ্ধ জীবনে থেকে এখানে এসে চমকে যেতে পারেন দেশী-বিদেশী পর্যটকসহ দর্শণার্থীরা।

মা-বাবা’র সাথে ঘুরতে আসা শিশু সাবিম বলেন, এখানে অনেক ধরণের মাছ দেখতে পেলাম। যার মধ্যে সার্ক, লবস্টার, কাঁকড়া ও জেলি ফিশ দেখে খুবই মজা পেলাম।

আরেক শিশু লুনিয়া বলেন, মা-বাবার সাথে মাছ দেখতে এলাম। মাছগুলো দেখে আমার খুব মজা লেগেছে।

ঘুরতে আসা দর্শনার্থী প্রিয়াঙ্কা বলেন, এখানে অনেক প্রজাতির সামুদ্রিক, মিঠাপানি ও বিলুপ্ত প্রায় মাছ রয়েছে। যার ফলে বাচ্চারা এই মাছগুলো দেখছে এবং মাছ সম্পর্কে জানতে পারছে।

আরেক দর্শনার্থী সিয়াম বলেন, এটা আন্তর্জাতিক মানেই করা হয়েছে। আগে দেখতাম বিভিন্ন দেশে এ ধরণের অ্যাকুরিয়াম রয়েছে। এবার দেশেই এমন অ্যাকুরিয়াম তৈরি হওয়ায় ঘুরতে এসেছি।

একশো কোটি ব্যয়ে বেসরকারিভাবে অ্যাকুরিয়ামটি তৈরি করেছে রেডিয়েন্ট গ্রুপ। আন্তর্জাতিকমানের এই অ্যাকুরিয়াম, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটি স্বত্ত্বাধিকারী ও সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারের রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, সাগরের তলদেশে থাকা প্রবাল, শৈবাল ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রাখা হয়েছে এখানে। দর্শনার্থীরাও এগুলো বেশ উপভোগ করছেন।

কক্সবাজারের চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারে এরকম আধুনিক আরও অ্যাকুরিয়াম তৈরি হলে পর্যটক ও স্থানীয়রা সমুদ্রের তলদেশ সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটা পর্যটকদের জন্য বিনোদনের একটি আলাদা মাত্রা যোগ হল।

অ্যাকুরিয়ামটিতে মূলত বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন প্রজাতির দু’শতাধিক সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। অচেনা এবং সাগরের বিলুপ্ত প্রায় মাছও রয়েছে এখানে। এটি কেবল বিনোদনের জন্য নয়, সাগরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাণী সম্পর্কে জানার একটি শিক্ষা কেন্দ্রও।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top