টেকনাফ সড়কে যানবাহনে ডাকাতি পর্যটকসহ আহত ৬

download-2-8.jpg

টেকনাফ সংবাদদাতা :

টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে বিভিন্ন ধরনের ১৫টি যানবাহনে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে পর্যটকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাস ও ট্রাক চালক-শ্রমিকেরা সড়কে এলোপাতাড়ি যানবাহন রেখে তিন ঘন্টা ব্যাপী সড়ক অবরোধ করেন।
গতকাল শনিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফের মিনাবাজার ও ঝিমংখালীর মাঝামাঝি একটি কালর্ভাট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের ঝিমংখালী-মিনাবাজার কালভার্ট সংলগ্ন সড়কে নারিকেল গাছের গুঁড়ি ফেলে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ১৫-২০ জনের সঙ্গবদ্ধ একটি মুখোশধারী ডাকাত দল। এসময় তাদের হাতে থাকা ভারি অস্ত্র ও লম্বা কিরিচ নিয়ে পর্যটকবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাসসহ ১৫টি যানবাহন আটকে রেখে এক ঘন্টা ব্যাপী যাত্রীদের কাছে থাকা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল সেটসহ বিভিন্ন মালামাল লুটে নেয়। এ সময় ডাকাতে মারধরে আলী হোসেন, কবির আহমদ, খোরশেদ আলম, নুরুল কবির, ফাতেমা বেগম, হামিদা বেগম নামে ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছে। পরে ডাকাত দল পালিয়ে গেলে এ ঘটনার প্রতিবাদে বাস ও ট্রাক চালক-শ্রমিকেরা সড়কে এলোপাতাড়ি যানবাহন রেখে সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় জনদুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পর্যটকেরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ডাকাত দলের সদস্যদের আটক করার আশ্বাস দিলে তিন ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। ওই সময় সড়কের উভয় পাশে প্রায় শতাধিক পযর্টকবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পড়েছিল।
ডাকাতির শিকার বাসের চালক লাল মিয়া বলেন, এলাকাটি ডাকাত প্রবণ হলেও পুলিশের গাফলতির কারণে এটি হয়েছে। মুখোশধারী ডাকাতরা সড়কের উপরে নারিকেল গাছের গুঁড়ি ফেলে গতিরোধ করে মালামাল লুটে নিয়ে যায়। অথচ, একটু দূরে স্তানীয় কিছু লোকজন টর্চ লাইট দিয়ে ডাকাতির ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও কেউ কোনো ধরনের সহযোহিতায় এগিয়ে আসেনি। ঘটনার পর এসে বলেন, মাদক সেবনের টাকার জন্য এলাকার কিছু যুবকেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই স্থানে দুইবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ২/৩ বছর আগেও প্রতিমাসের ওই এলাকায় ৭-১০ বারের মতো ডাকাতির ঘটনা সংগঠিত হতো।
হোয়াইক্যং পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব পোদ্দার বলেন, সড়কের ডাকাতির ঘটনায় ট্রাক-বাস চালকেরা কয়েক ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে তাদের বুঝি অবরোধ তুলে নিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top