পেকুয়ায় অস্ত্রসহ আটক ২

download-3-1.jpg

পেকুয়া প্রতিনিধি :

পেকুয়ায় অস্ত্রসহ ২ জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ১ জন লবণ চাষী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। লিটন নামের ১ জনকে আটকের কয়েক ঘন্টা পর সন্ধ্যার দিকে দায় থেকে মুক্তি দেন পুলিশ। গতকাল রবিবার ২৪ ডিসেম্বর দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ধারিয়াখালী এলাকা থেকে পুলিশ অস্ত্রসহ এ ২ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন মগনামা ইউনিয়নের ধারিয়াখালী এলাকার বদিউল আলমের ছেলে আবদুর রহিম(২৪) ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সিরাদিয়া এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে লিটন(২৫)। পেকুয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান অস্ত্রসহ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানায়, একটি দেশীয় অস্ত্রসহ আবদু রহিমকে আটক করা হয়েছে। ২ জনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে লিটনকে স্বাক্ষী হিসেবে থানায় আনা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় অস্ত্রসহ ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা অস্ত্র উদ্ধার ও পুলিশ অভিযানের বিষয়টিকে পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। লিটনকে আটকের পর ছেড়ে দেয়া ও আবদু রহিমকে আটকের বিষয়টিকে ঘিরে সন্দেহের যথেষ্ট অবতারনা খুঁজছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা আবদু রহিমকে ফাঁসানো হয়েছে বলে মত দিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আবদুর রহিম একজন লবণ চাষী। তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে। লবণ চাষ ও দিনমজুরী করে সংসার চালায়। অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হওয়ায় প্রশ্ন আসে না। ধারিয়াখালীতে ৩ একর ৬০ শতক জমি নিয়ে ফতেহ আলী মাতবর বাড়ীর আমেরিকা প্রবাসী শফিউল আলম চৌধুরী ও মগনামার বাইন্নাঘোনা এলাকার ছালেহ আহমদের ছেলে আবুল কালাম, কামাল হোসেন গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কামাল হোসেন ও আবুল কালাম ১৩০০ ও ১৮৭৪ দলিল মুলে এ জমি শফিউল আলম চৌধুরীর ভাই নুরুল হামিদ চৌধুরীর নিকট থেকে খরিদ করে। জমিতে লবণ চাষ করছিলেন আবদু রহিম। ওই দিন আবদু রহিম মাঠ প্রস্তুতির কাজ করছিলেন। শফিউল আলম চৌধুরীর পক্ষে গোঁয়াখালী এলাকার আফতাব উদ্দিনের ছেলে আমির আশরাফ রুবেল ওই দিন পুলিশ নিয়ে জমিতে যান। স্থানীয়রা জানান, এ সময় লিটনসহ বেশ কিছু ভাড়াটে লোকজন ভিন্ন ইউনিয়ন থেকে জমিতে যান। পুলিশ দেখতে পেয়ে লবণ চাষী আবদু রহিম দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় লিটনসহ ভাড়াটে লোকজন তাকে ধরে ফেলে। এ সময় অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। ধারিয়াখালী ও বাইন্নাঘোনার লোকজন জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত প্রহসনের। আবদু রহিম অবিচারের শিকার হয়েছে। এর আগেও তার হাতে অস্ত্রের গর্জন আমরা লক্ষ্য করছিলাম। আবদু রহিমের পিতা বদিউল আলম জানায়, আমার ছেলে নির্দোষ। অস্ত্র কি সেটি আমার ছেলে দেখেনি। আবদু রহিমের মা মনজুরা বেগম জানায়, রুপাইখালের চরে বাস করছি। মাছ শিকার ও দিনমজুরী করে সংসার চলে। শফি আলম চৌধুরী কয়েকদিন আগে দেশে আসে। এর আগেও এসে হানাহানি ও রক্তপাত হয়েছিল। এবার এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। আমেরিকার ডলার দিয়ে আমার ছেলেকে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন তিনি। আবদু রহিমের স্ত্রী রুজিনা আক্তার জানায়, আমার স্বামী নির্দোষ। তাকে ধাওয়া দিয়ে পুলিশকে ধরে দেয়। অস্ত্রটি তারা নিজেরা এনে এ নাটক সাজিয়েছে। আমার দু ছেলের ভবিষ্যত অন্ধ। আমি এ ঘটনায় আইনের নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। আমেরিকার ডলার নিয়ে পুলিশ ম্যানেজ হয়েছে। মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম জানায়, কাগজপত্র ও জমির দখল আবুল কালাম ও কামাল হোসন গংদের। বিচার আছে পরিষদে। তবে আবদু রহিম একজন দিনমজুর।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top