কক্সবাজারে টমটমে চলাফেরার নিরাপত্তা কোথায়?

8.jpg

॥ এডভোকেট মোঃ আবু নাসের চৌধুরী ॥
কক্সবাজার বাংলাদেশের একটি পর্যটন শহর। দেশ বিদেশের বহু ভ্রমণ বিলাসী পর্যটক পরিবার পরিজন নিয়ে একটু চিত্ত বিনোদনের প্রত্যাশায় ছুটে চলে আসেন পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেটসহ কয়েকটি অত্যাধুনিক শপিং মল গড়ে উঠেছে কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্র বাজারঘাটায়। দেশ বিদেশের পর্যটকেরা কক্সবাজারে শপিং করতে এসে মহাসংকটে পড়ে যায় কক্সবাজারের প্রধান সড়কে এসে। প্রধান সড়কটা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টমটমের দখলে চলে যায়। কক্সবাজারের প্রধান সড়কটা পার হতে ১০ মিনিটের পথ লেগে যায় ১ ঘন্টা। দিনের বেলায় কক্সবাজার শহরটা টমটমের শহরে পরিণত হয়ে যায়।
টমটম গাড়ীগুলো কক্সবাজার পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। টমটম সমূহ নাম্বার বিহীন অবস্থায় সারাক্ষণ চলাফেরা করতে দেখা যায়। টমটম ড্রাইভারদের হাবভাব দেখে মনে হয় তাদের কোন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নেই। তাদের চলাফেরার গতিবিধি দেখে মনে হয়, তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করে। ড্রাইভারগণ ট্রাফিক আইন মেনে চলে না। ইচ্ছামত টমটম গাড়ী সমূহ চলাফেরা করে। টমটমের ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ১২-১৬ বৎসরের ছেলেরা প্রশিক্ষণ না নিয়ে কিভাবে টমটম গাড়ীর ড্রাইভার হতে পারে দেখলে অবাক লাগে। মেয়াদ উত্তীর্ণ অনেক টমটম গাড়ীও রাস্তায় যেভাবে চলাফেরা করে, ভাবলে অবাক লাগে এগুলি দেখার মত কি কোন কর্তৃপক্ষ নেই? কিছুদিন আগে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের সহকারী মোঃ আইয়ুবের একজন মেয়ে কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে টমটমের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লেগে মৃত্যুবরণ করেছে। এরকম অকালে অনেক মেয়ে অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করেছে।
তাছাড়া অনেক যাত্রী টমটমে চড়ে হাত-পা ভেঙ্গে পঙ্গু হয়ে গেছে এমন প্রমাণও আছে। গত ৩/৪ মাস আগে সৈকত সড়কে টমটমের দুইজন যাত্রী ট্রাকের সাথে সামনাসামনি সংঘর্ষে মৃত্যুবরণ করে। কক্সবাজার সৈকত বালিকা মাদ্রাসার একজন ছাত্রী ও টমটমে চড়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। এরকম টমটমে অনেক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
গত ০৮/০৮/২০১৭ইং তারিখে কক্সবাজার জেলার সাবেক পিটিআই সুপার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডায়াবেটিক হাসপাতালের ও কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর আজীবন সদস্য ও উপদেষ্টা রাজবিহারী চৌধুরী প্রধান সড়কে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী টমটমের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন এবং তাকে সাথে সাথে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তাঁর ডান পাশে ও চোখে প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হয়ে উক্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে। তিনি মুখ মন্ডলেও মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে অনেকদিন শয্যাশায়ী ছিলেন।
টমটমের এরকম বেপরোয়া গতিতে প্রতিনিয়ত কত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে তা সচেতন মহল উপলব্ধি করেও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। এব্যাপারে কক্সবাজারের টমটম গাড়ীর নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে আরো সতর্ক হলে দৈনন্দিন দূর্ঘটনা কমে আসবে বলে আপামর জনসাধারণ মনে করছেন। এ বিষয়ে সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে টমটমের যাত্রীরা নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে।

লেখক ঃ একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ও পত্র-পত্রিকায় কলাম লেখক।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top