উৎসবহীন বর্ষ বিদায়

download-32.jpg

তুষার তুহিন :
নেই কোন আলাদা আয়োজন। আউটডোর উৎসবের অনুমতিও নেই। ইনডোরে তেমন প্রোগাম নেই। সূর্যাস্তের সাথে সাথে হৈ হুল্লুড় থামানোর নির্দেশনা পুলিশের। তাতে কি ? রয়েছে বিশাল সমুদ্র বালিয়াডি, নোনা জলের উত্তাল ঢেউ আর আকাবাকা পাহাড়ী পথ। সাথে যোগ হয়েছে মৃদু শীতের পরশ। প্রকৃতির এই অপরুপ রুপই প্রতিবারের মত এবারও থার্টিফাস্ট উদযাপনে কক্সবাজারে টেনে আনছে ৫ লক্ষ পর্যটককে। শুক্রবার ভোর থেকেই পর্যটকের মিছিলের হাওয়া লেগেছে এই সমুদ্র জনপদে। শহরের পর্যটন জোনে হোটেল মোটেল ইতিমধ্যেই লাখো পর্যটক অবস্থান নিয়েছেন। রং বেং রংয়ের অনুষ্ঠান নেই তারপরও আগতদের ভ্রমনকে নিরাপদ করতে পুলিশও নিয়েছে কঠোর পরিকল্পনা। পর্যটকের ঢেউ আছে কিন্তু নেই উৎসব তাই হতাশ পর্যটন ব্যবসায়ী সহ সংশ্লিষ্টরা।
আর মাত্র একদিন পর শুরু হবে নতুন বছরের পথ চলা। ৩৬৫ দিনের সফলতা-ব্যর্থতা পিছনে ফেলে সুন্দর আগামীর আহ্বানে ৩১ ডিসেম্বর রাতে পালন করা হয় থার্টি ফাস্ট নাইট বা বর্ষবরণ উৎসব। এ উৎসবকে উপলক্ষ করে পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজার ওই সময়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠবে। বিগত এক দশক সময়ে এমন চিত্রই দেখে এসেছে এখানকার ব্যবসায়ী ও অধিবাসীরা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরাতন বছরকে বিদায় জানাতে ৫ লক্ষ পর্যটকের সমাবেশ ঘটবে। ইতিমধ্যে শহরের হোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। কক্সবাজারে এবার শীত মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের ঢল নামে। হোটেল-মোটেলগুলোতে এখন ঠাঁই নেই অবস্থা। আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসেও অনেক হোটেল-মোটেলের আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
কক্সবাজারের তারকা হোটেল কক্স টুড়ের পরিচালক (অপারেশন) মো. শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পর্যটক ঢল। এরই রেশে আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের হোটেলে কোন রুম খালি নেই।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, কক্সবাজারে ছোট-বড় সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে দৈনিক প্রায়ে তিন লাখ লোকের থাকার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া এসবের বাইরেও দুই লাখ মানুষ এপার্টমেন্টসহ বিভিন্নভাবে কক্সবাজারে অবস্থান করেন। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলগুলোর প্রায় সব কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে।
পুলিশ সুপার সূত্র জানায়, এবারের থার্টিফাস্ট উপলক্ষে খোলা আকাশের নীচে কোন আয়োজনের অনুমতি নেই। শুধু ইনডোরে প্রোগামের অনুমতি রয়েছে। সমুদ্র শহরের তারকা মানের হোটেল সাইমন ও ওশান প্যারাডাইস এই ইনডোর প্রোগামের অনুমতি নিয়েছে।তারপরও সমুদ্র জনপথে নামবে পর্যটক ঢল।
এ বিষয়ে হোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির মুখপাত্র কলিম উল্লাহ বলেন, দেখুন কক্সবাজারকে ব্র্যান্ডিং করা মানে পুরো বাংলাদেশকে ব্যান্ডিং করা। ঠুনকো অজুহাত দিয়ে সমুদ্র তটে উৎসবের অনুমতি না দেওয়ায় আমরা হতাশ। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে পর্যটকের জন্য উৎসবের আয়োজন করা দরকার ছিল। প্রয়োজন ছিল আগত পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয় তুলে ধরে রবি লাইফগার্ডের ইনচার্জ সৈয়দ নুর বলেন, কলাতলী, সুগন্ধা, লাবনী বীচে পর্যাপ্ত পরিমান লাইফ গার্ডের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।দূর্ঘটনা উদ্ধার তৎপরতায় যাতে সমস্যা না হয় সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ট্যুরিষ্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, সমুদ্রে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে ট্যুরিষ্ট পুলিশ নানা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। রাতের বেলায় মোটর সাইকেল কলাতলী রোডে মোটর সাইকেল, বীচে পর্যটন বেশে ঘোরাফেরার পাশাপাশি পোশাকধারী পুলিশও রইবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেট ও বীচ কর্মীরা সার্বক্ষনিক বীচের নিরাপত্তায় কাজ করছে। ইভটিজিং, পর্যটকের হারানোর জিনিসপত্র খোজার জন্য কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করি কোন পর্যটকরা কোন ধরনের সমস্যায় পড়বে না।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, এবারের থার্টিফাস্ট উদযাপনে কক্সবাজারে প্রায় ৫ লাখ লোকের সমাবেশ ঘটবে। তাদের নিরাপত্তা কথা চিন্তা করে জেলা পুলিশ ইতিমধ্যে শহরকে ছিনতাইমুক্ত করতে কাজ করছে। এছাড়া পর্যটন জোনে বাড়ানো হয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশের সংখ্যা। লিংকরোড় থেকে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত পুলিশ ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৬ টি তল্লাশী চৌকি বসাবে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, মোবাইল টিম, এ্যাম্বুলেন্স, সাদা পোশাকে পুলিশ, নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট সব প্রস্তুত। অপেক্ষা শুধু পর্যটক ঢলের।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top