ব্র্যাকের মানবিক সহায়তায় সুফল পাচ্ছে রোহিঙ্গারা

News-Ukhiya-29-12-2017.docx29-12-17.jpg

স্টাফ রিপোর্টার, উখিয়া :
মিয়ানমারে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা ও নানা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে প্রশংসিত হয়েছেন, বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাহায্যার্তে স্বাস্থ্য সম্মত স্যানেটারি ল্যাট্রিন, টিউবওয়েল স্থাপন ও গোসল খানা নির্মান করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও নানা রকম রোগ বালাই থেকে মুক্ত হয়েছেন নির্যাতিত রোহিঙ্গারা।
খোজ খবর নিয়ে জানাযায়, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতন, হত্যা, বসতবাড়ীতে অগ্নি সংযোগ ও হামলার শিকার হয়ে প্রাণের ভয়ে গত ২৫ আগষ্ট থেকে উখিয়া ও টেকনাফে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা নাগরিক আশ্রয় নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপন্ন রোহিঙ্গাদেরকে মানবিক সহায়তায় দেশি-বিদেশী সংস্থাদের কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক এগিয়ে এসে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ায়। স্বাস্থ্য সেবা থেকে শুরু করে নানা রকম কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে। দায়িত্বশীল সূত্রে জানাযায়, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাজার হাজার স্যানেটারি ল্যাট্রিন, টিউবওয়েল ও গোসলখানা নির্মান করে। সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কুতুপালং কিউ কিউ ব্লক, লম্বাশিয়া, মধুরছড়া ক্যাম্পে ব্র্যাকের অসংখ্য গোসলখানা তৈরির কাজ চলছে। ঠিকাদার মুনীর আহমদ জানান, এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের অর্থায়নে গোসল খানা তৈরি করা হচ্ছে। সংস্থার সিডিউল মোতাবেক ও নির্ধারিত ডিজাইন এবং নির্দেশ অনুযায়ী গোসল খানা থেকে শুরু করে টিউবওয়েল স্থাপন এবং স্যানেটারি ল্যাট্রিন বসানো হয়। কাজের গুনগত মান বজায় রেখে মানবিক সেবা করতে হয়। এতে কোন অবস্থাতে অনিয়মের সুযোগ নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্র্যাকের মনিটরিং টিম কাজের গুনগত মান দেখার জন্য পরিদর্শন করে থাকেন। এছাড়া ও জেলা এবং উপজেলা কর্মকর্তা সহ ফ্লিড অফিসার কাজ চলাকালে সার্বক্ষনিক ক্যাম্পে উপস্থিত থাকেন।
কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের মাঝি ফরিদ ও রোহিঙ্গা নাগরিক ইউনুস বলেন, ব্র্যাক সংস্থার টিউবওয়েল থেকে পানি পান করে হাজার হাজার বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্টি জীবন বাঁচিয়েছে। ল্যাট্রিন স্থাপন ও গোসলখানা তৈরি করায় ক্যাম্পে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। অনেক ঠিকাদার জানান, ব্র্যাক একটি স্বচ্ছ প্রতিষ্টান। ব্র্যাকের শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে হয়। গুনগত মানসম্পন্ন কাজ করেই বলে ব্যাপক প্রসংশিত ব্র্যাক।
নির্ভর যোগ্য সুত্রে জানাযায়, ব্র্যাক ই-টেন্ডারের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ বাস্তবায়ন সহ ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। সম্পূন্ন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গোসল খানা তৈরি, টিউবওয়েল স্থাপন ও স্যানেটারি ল্যাট্রিন বসানো হয়। এদিকে ব্র্যাকের উচ্চ পর্যায়ের টিম পরিদর্শনে চলমান কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও বি-দেশী দাতা সংস্থা আই ও এম, ইউনি সেফ, ডব্লিউ এফ পি, ডিএফআইডি ও গ্লোবাল ফাউন্ডের একাধিক টিম প্রতি নিয়ত ব্র্যাকের রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়ক কর্মসূচী বাস্তবায়ন দেখে প্রসংশা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top