রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা ও ২০১৭

download-4-1-1-1.jpg

১৯৭৮ সালে এলএলবি ফাইনেল পরীক্ষা দিয়ে ফলাফল প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছি। সাংবাদিকতার সাথেও জড়িত। সপ্তাহিক নয়াযুগ পত্রিকার কক্সবাজার সংবাদদাতা। নিয়মিত আড্ডা চলতো কক্সবাজার প্রেসক্লাবে। তখন কক্সবাজার প্রেসক্লাবকে কক্সবাজারের বুদ্ধিজীবীদের আড্ডাখানা বলত অনেকে। যারা সাংবাদিকতা করতেন সমাজে তাদের বেশ বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহনযোগ্যতা ছিল। তখন আমারা খবর পাই যে বার্মার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ব্যাপক নির্যাতন,খুন ও বাড়ীঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, মহিলাদের ধর্ষণ করছে। উখিয়া গিয়ে আমরা দেখলাম অভিযোগ সত্য। অনেক রোহিঙ্গা মুসলমান রিফিউজীকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট স্থানে বিডিআর সদস্যরা ঘেরাও করে রেখেছে। সাংবাদিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা
বার্মায় নির্যাতিত হয়ে বাড়ীঘর ফেলে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সেই সংবাদ প্রচার না করার জন্য। তখন দেশে সামরিক শাসন,ক্ষমতায় জিয়াউর রহমান। হাজার হাজার নারী পুরুষ শিশু প্রায় অনাহারে,চিকিৎসাহীন,আশ্রয়হীন অবস্থায় আছে। আমারা কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকরা কক্সবাজার প্রেসক্লাবে বসে ’কমিটি ইন এইড অব রোহিঙ্গা মুসলিম রিফিউজী’ নামে একটি কমিটি গঠন করলাম। কমিটির সভাপতি হলেন এডভোকেট ছালামতউল্লাহ এবং সম্পাদক প্রফেসর মফিদুল আলম। প্রেসক্লাবের অন্য সদস্যরা সবাই উক্ত কমিটির সদস্য ছিলেন। আমরা স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে চাউল,আটা,ডাল,শুকনা খাবার,কাপড় ইত্যাদি নিয়ে ট্রাক ভাড়া করে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে রিফিউজীদের মধ্যে বিলি করতাম। কয়েক দিন পরে আমরা খবর পেলাম আটা কিভাবে খেতে হয় তারা জানে না বা আটা তারা আগে দেখে নাই। ক্ষুধার্থ অনেকে কাচা আটা খেয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। তখন আমরা মহিলাদের রুটি বানানো ও আগুনের চুলাতে গরম করে কিভাবে খেতে হয় তা শিখানোর জন্য দুইজন ছাত্রী রেবেকা সুলতানা ডেইজী (এখন হাইকোর্টের এডভোকেট), বিউটি (সাবেক এমপি কাজলের বোন ও এখন ইঞ্জিনিয়ার সুজার স্ত্রী) ও নিলুফার নামের একজন ভদ্রমহিলা আমাদের সাথে রিফিউজী ক্যাম্পে গিয়ে রোহিঙ্গা মহিলাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিতেন। বিডিআর আমাদের কাজে কোন বাধা দিত না,শুধু বাধা ছিল সংবাদ প্রকাশের ওপর। দিন দিন রিফিউজী প্রবেশের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলে তা স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছিল না। আমারা কমিটির পক্ষ থেকে ঢাকা প্রেসক্লাবে গিয়ে প্রেস কনফারেন্স করে দেশীবিদেশী সাংবাদিকদের গুরুতর মানবিক সমস্যার কথা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এডভোকেট ছালামতউল্লাহ,প্রফেসর মফিদুল আলম ও আমি এবং কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতাসহ ঢাকা যাই। যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে রোহিঙ্গা মুসলামানদের নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহন সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ একটি লিফলেট এক পৃষ্টায় বাংলায় ও অপর পৃষ্টায় ইংরেজীতে এবং বর্মি সেনাদের হাতে ধর্ষিতা হয়ে নিহত এক মহিলার ছবিও তাতে ছাপানোর ব্যবস্থা করি। প্রচারপত্রটি দেখে কিছু সংশোধন করে দিয়েছিলেন তখন চট্টগ্রামস্থ কক্সবাজার সমিতির সভাপতি এডভোকেট সফিক আহমদ(এখন মরহুম) ও সম্পাদক এডভোকেট আমিরুল কবির চৌধুরী ( যিনি পরে সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি হয়ে অবসর নিয়েছেন)। ঢাকা প্রেসক্লাবে প্রেস কনফারেন্সের সমস্ত ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন কক্সবাজারের সন্তান সাংবাদিক জাফর আলম ( বাংলাদেশের বিশিষ্ট অনুবাদ সাহিত্যিক)। ঢাকা প্রেসক্লাবে প্রেস কনফারেন্স হবে সেই মর্মে সংবাদ ঢাকার কাগজে ছাপা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলন চলা কালে প্রেসিডেন্ট হাউজের লোক পরিচয় দিয়ে কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা তখন দেশে চলমান সামরিক আইনের বিধান লংঘন করা হচ্ছে মর্মে বাধাঁ দিলে সাহসী সাংবাদিকরা এটা প্রেসক্লাব,এটা আপনাদের প্রেসিডেন্ট হাইজের অংশ নয় বলে তাদের প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেন। আমরা কনফারেন্স শেষ করে হোটেল সম্রাটে চলে আসি। হোটেলের রুম ছেড়ে দিয়ে সবাই কক্সবাজার চলে আসেন। আমাকে লিফলেটগুলো বিলি করার দায়িত্ব দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্যসেন হলে কক্সবাজারের ছাত্র খালেকুজ্জামান বাহারের কক্ষে রেখে আসেন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তৎতালীন আবাসিক ছাত্র শহীদুল্লাহর ( রায়পুরা কলেজের অধ্যাপক হিসেবে অবসর নিয়ে এখন কক্সবাজারস্থ বাড়ীতে আছেন) সাহায্যে লিফলেটগুলো বিলি করি। পরের দিন দেখি কোন সংবাদপত্রেই রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আমাদের প্রেস করফারেন্স সম্পর্কে কোন সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। আমি নয়াযুগ পত্রিকার সম্পাদক কাজী জাফর আহমদ সাহেবের সাথে দেখা করে জানালাম আমরা প্রেস কনফারেন্স করলেও একটি সংবাদপত্রেও সেই সংবাদ ছাপানো হয় নাই জানিয়ে তার পত্রিকায় ছাপানোর অনুরোধ জানালাম। তিনিই প্রথম আমাদের লিফলেটে দেওয়া নিহত মহিলার ছবিসহ নয়াযুগ পত্রিকায় বার্মা থেকে হাজারে হাজারে রোহিঙ্গা মুসলমান রিফিউজী অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার সংবাদটি প্রকাশ করেন। পরের দিন থেকে প্রায় সবগুলি পত্রিকা সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সংবাদটি প্রচার করে। বিষয়টি জাতীয়ভাবে ও আর্ন্তজাতিকভাবে প্রচারিত হয়ে যায়। ইউএনএইচসিআর সহ অন্যান্য এনজিওরা আসে। রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্প নির্মাণ করে সাম্ভাব্য সব সাহায্য করে। ১৯৭৮ সালে আসা রোহিঙ্গা মুসলমান রিফিউজীদের তাদের নাগরিক হিসেবে ইউএনএইচসিআর এর মধ্যস্থতায় বার্মায় বা মিয়ানমারে ফেরত নিয়ে যায়। রোহিঙ্গারা বাঙ্গালী হলে কেন তারা লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালীকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে আর্ন্তজাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে ফেরত নিয়েছিল? ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন করে মিয়ানমার সরকার নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে ফেরত নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক নয় বলে ঘোষণা করলে সেই আইন কি আর্ন্তাজাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বা মান্য করার যোগ্য হবে?
আবার ১৯৯২ সালে যখন লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমানরা রিফিউজী হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় তখন আমি ইউএনএইচসিআর কর্তৃক নিযুক্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই বারও এখনও বাংলাদেশে স্বীকৃতভাবে থেকে যাওয়া প্রায় ত্রিশ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ব্যতীত লক্ষ লক্ষ শরণার্থী মিয়ানমার সরকার আর্ন্তজাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে তাদের নাগরিক হিসেবে ফেরত নিয়ে যায়। রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারের নাগরিক না হলে কেন তাদের আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতিতে সরকারীভাবে মিয়ানমারে দ্বিতীয় বারের মত ফেরত নেওয়া হল? বিশ্ববাসী কি তা ভুলে গেছে? উল্লেখিত লেখাটি বিগত ৪/১২/১৬ইং তারিখ দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় অতিথি কলামে ’রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। তখন ২৫ আগস্ট ২০১৭ থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের দ্রুত গতিতে মাত্র ৪ মাসের মধ্যে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৪ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর বৌদ্ধ মগ সন্ত্রাসীদের ধর্ষণ,গণহত্যা,নির্বিচারে বাড়ীঘরে অগ্নি সংযোগ ও জাতিগত নিধনের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে আশ্রয় গ্রহন করবে তা কল্পনায়ও ছিল না।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে তাদের জন্মভুমি,মাতৃভুমি থেকে রোহিঙ্গাদের পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সমূলে নির্মূলের নিষ্ঠুরতা পৃথিবীর বর্বরতার,গণহত্যার.জাতিগত উচ্ছেদের সকল ইতিহাসকে ম্লান করে দেয়। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১২ টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের সরকারী ব্যবস্থাপনায় ৭টি ক্যাম্পের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন চলছে। গত ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৯ লক্ষ ২২ হাজার ৮ শত ৮৫ জন রোহিঙ্গাকে নিবন্ধন করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক এ সময়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩ শত ৭৩ জন এতিম শিশু সনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ হাজার ৩ শত ৯৫ জন ছেলে এবং ১৮ হাজার ৯ শত ৭৮ জন মেয়ে। মা-বাবা নেই এমন এতিমের সংখ্যা ৭ হাজার ৭ শত ৭১ জন। উল্লেখ্য জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে ২৫ আগস্টের পর থেকে আশ্রয়গ্রহনকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখ হলেও কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের রির্পোট মোতাবেক মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ৬ লাখ ৭২ হাজার ৪ শত জন এবং ২৫ আগস্ট ২০১৭ এর পূর্বে আগত মিয়ানমারের নাগরিকের সংখ্যা ২ লক্ষ ৪ হাজার ৬০ জন।
২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারী বাংলাদেশ থেকে প্রথম ধাপে আশ্রয়গ্রহনকারী ৪৫০ হিন্দু শরণার্থীকে ফেরত নেওয়া হবে বলে মিয়ানমার সরকার সম্মতি দিয়েছে এবং আরো এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা প্রস্তুত করতে বলেছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়। এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পর রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে জাতিসংঘের পক্ষে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সেখানে ফেরত পাঠানোর আগে দরকার যে ফিরে গিয়ে তারা আবার সহিংসতা নির্যাতনের শিকার হবে কিনা। জাতিসংঘ কর্মকর্তা বলেন, রুয়ান্ডার গণহত্যার পর এত দ্রুত এত বিপুল সংখ্যাক মানুষকে ঘরবাড়ী ছাড়া হতে দেখিনি। আমাদের মনে রাখতে হবে এই সংকট হঠাৎ করে তৈরী হয়নি। এটি দশকের পর দশক ধরে চলা বৈষম্য আর গত চার পাঁচ বছর ধরে পরিচালিত তীব্র নিপীড়নের ফল। গত আগস্ট থেকে যা ঘটেছে তা ছিল রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহৃ করে দেয়ার একটা ধারাবাহিক,সচেতন এবং পরিকল্পিত চেষ্টা।
বাংলাদেশ পড়েছে উভয় সংকটে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করলে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে। আবার বাংলাদেশ পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে দেখেশুনে জাতিসংঘকে সাথে নিয়ে টেকসই প্রত্যাবাসন চুক্তি করতে চাইলে মিয়ানমার অভিযোগ করে আর্ন্তজাতিক সাহায্য লাভের আশায় বাংলাদেশ আশ্রয় গ্রহনকারী মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত দিতে উৎসাহ দেখাচ্ছে না, চুক্তি করতে চাইছে না। এখনও রোহিঙ্গা বিতাড়ণ বন্ধ না করে কিসের প্রত্যাবাসন চুক্তি সে প্রশ্ন কি মিয়ানমারকে কেউ করে না?
কক্সবাজারের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ জানতে চায় ১৯৭৮ সালে ও ১৯৯২ সালেও চুক্তি করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতনের মাধ্যমে আবার পালিয়ে আসতে বাধ্য করেছিল। ফিরিয়ে নেওয়া একজন রোহিঙ্গাকেও কি মিয়ানমারে বসবাস করছে মর্মে মিয়ানমার সরকার দেখাতে পারবে? এই বারও যে আগের মত বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপ থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করে কয়েক লাখ ফিরিয়ে নিয়ে আবার কোলা বা বাংগালী আখ্যায়িত করে নির্যাতন করে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? মিয়ানমার সরকার যাদের ফিরিয়ে নেবে না মেই লাথ লাথ রোহিঙ্গাদের অবস্থা কি হবে তা কি চুক্তিতে আছে ? জাতিসংঘকে বাদ দিয়ে আর্ন্তজাতিক আইন বা মান উপেক্ষা করে তাড়াহুড়া করে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে মিয়ানমার বেশী উৎসাহী কারণ অতীতে সব সময় মিয়ানমার লাভবান হয়েছে। এই বারের চুক্তিতে আপাতত বাংলাদেশ লাভবান হয়েছে শুধু একটি ক্ষেত্রে । তা হল যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক নয় বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল প্রত্যাবাসন চুক্তির মাধ্যমে তারা স্বীকার করছে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। অবশ্য জাতিসংঘ ও বিশ্ববিবেকের চাপ কমে গেলে আবার অস্বীকার করবে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপ একটু কমলে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ছলে বলে কৌশলে ফিরিয়ে নেবে না, শুধু তাড়িয়ে দেবে। মিয়ানমারের পূর্ব পরিকল্পিত প্রতারণা,ফাঁদ ও ধাপ্পাবাজী থেকে বাংলাদেশকে আরো সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
লেখকঃ একজন কলামিষ্ট, সাবেক সভাপতি কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটার, বহু বইয়ের প্রণেতা এবং কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন সিনিয়ার আইনজীবী।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top