শিশুর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছে ‘মুক্তি কক্সবাজার’

montosh_pic.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
কক্সবাজারে ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ট্রাভেল ট্যুরিজমের মাধ্যমে শিশুর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছে ‘মুক্তি কক্সবাজার’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা। কর্ম এলাকার শিশুসহ কিশোর-কিশোরী, বাবা-মা, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার সকল পর্যায়ের লোকজনকে সম্পৃক্ত করে নানামুখি কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। এতে স্থানীয় লোকজন ব্যাপকভাবে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি হ্রাস পাচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক যৌন নির্যাতনের ঘটনাও।
দাতা সংস্থা ‘টিডিএইচ নেদারল্যান্ডস্’ এর আর্থিক সহযোগীতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির লীড পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভা, সদর উপজেলার খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, ঝিলংজা, ঈদগাঁও, পিএমখালী ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নে এ প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। বিগত ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ চলবে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
‘ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ট্রাভেল ট্যুরিজমের মাধ্যমে শিশুর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ’ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: আলমগীর হোসেন বলেন, ‘যে সকল কিশোর-কিশোরী ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ট্যুরিজমের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হয় বা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তাদের জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে মনোবল দৃঢ় করতে কাজ করছে মুক্তি। এছাড়াও নির্ধারিত কর্ম এলাকায় বাল্য বিয়ে, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণসহ অন্যান্য সকল প্রকার লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক, ক্যাম্পেইনসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুদের আইনী সহায়তা প্রদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা সেবা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’
মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কর্মসূচি সংগঠক অর্চনা দাশ ঊর্মি বলেন, ‘কক্সবাজার পৌরসভার বন্দরপাড়া এলাকায় একটি সোস্যালাইজেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত স্থানীয় শিশু, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণী পেশার লোকজনকে সাথে নিয়ে বৈঠক করা হয়। নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে লোকজনের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করছেন প্রকল্পের ৫ জন দক্ষ কর্মী। কর্ম এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ, ইয়ুথ গ্রুপ ও থিয়েটার গ্রুপ করা হয়েছে। তারাও লোকজনকে সচেতন করছেন। বর্তমানে এ প্রকল্পের উপকারভোগী শিশু ও অভিবাবকের সংখ্যা ৪০০ জনের বেশি।’
এই প্রকল্পের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা প্রাক্তন প্রকল্প সমন্বয়কারী হীরা বণিক কর্মক্ষেত্রের নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘অনলাইনে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দিয়ে অপবাদ দেয়া, মোবাইলে হুমকি দেয়া, বড় অংকের টাকা দাবী করে ফোন করা, ব্ল্যাকমেইল করাÑএই ধরনের বিষয়গুলোতে প্রতিবাদ করতে বা সাহসী ভূমিকা নিতে অভিবাবকরা ভয় পায়। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার ভয়ে অনেকে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করতে চায় না। এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে মুক্তি। সফলতাও আসছে ব্যাপকভাবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top