স্কুলে নজর বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

manobkantha-276.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক : 

সারা দেশে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার মান ঠিক রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ নিন্দেশনা দেন। তিনি বলেন,“আমাদের স্কুলগুলোর দিকে একটু নজর দেওয়া দরকার। সেখানে সঠিকভাবে পড়াশোনা হচ্ছে কিনা; এই বিষয়টার দিকে একটু বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এটা খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি।” গণভবনে এই ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা সচিব এবং মন্ত্রনালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সারা দেশে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে যার যার বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে দেন। জেএসসি ও জেডেসিতে এবার পাসের হার এবং জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের চেয়ে কমেছে। সম্মিলিতভাবে এবার পাস করেছে ৮৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী; এক লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। গত বছর জেএসসি-জেডিসিতে ৯৩ দশমিক ০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৮ জন পূর্ণ জিপিএ পায়। পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,“এ বছর যেহেতু আপনাদের নজরদারি বেড়েছে; সে কারণে হয়ত একটু কম। আশাকরি ভবিষ্যতে যেন বাড়ে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে, আমরা সব রকম সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি। সেখানে,তারা ফেল করবে কেন? তাদের মেধা আছে।” স্কুলগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠক্রম পরিবর্তনের তাগিদ দেন তিনি। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এবারের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন।
এবার প্রাথমিকে ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে প্রাথমিকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৬০৯ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৫ হাজার ২৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই হিসাবে পঞ্চমের এই সমাপনী পরীক্ষাতেও পাসের হারের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ জিপিএ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে এবার। প্রাথমিকের ফলাফল পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এসএসসি পরীক্ষায় এখনকার ছেলেমেয়েদের এখন আর ভয় কাজ করে না। তারা তো পরীক্ষা দিয়ে একটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে। ক্লাস ফাইভে একটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে, এইটে একটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে।”
আগের বৃত্তি পরীক্ষায় সকলের মেধার প্রকাশ ঘটত না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে বৃত্তিটা আমরা দেব সবাই পরীক্ষা দেবে। কোথায় যে কার মাঝে কোন মেধাটা লুকিয়ে আছে; আমরা তা জানব কী করে?” প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, “বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের ছেলেমেয়েরা পিছিয়ে থাকতে পারে না? “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে; আমাদের ছেলেমেয়েরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে এবং আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” সরকার যা চাইছে, শিক্ষক-কর্মকর্তারা তা ‘অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে’ করছেন মন্তব্য করে এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top