এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে স্বাগত ২০১৮

mahabub.jpg
 ॥ মাহাবুবুর রহমান ॥ 
“সবুজ অরণ্যের শ্যামল ছায়ায় বিস্তৃত সোঁদা মাটির গন্ধে অমলিন এ জীবন, লোভের পসরা ফেলে মানবিকতার ফুল ফোটাবো এ জন্মে-মনুষ্যত্বের আলোয় লৌল্য মনের অপমৃত্যু ঘটিয়ে মায়াময় পৃথীবি গড়বো আজ” যে জাতি ৫২’র ভাষা আন্দোলনে হারেনি, ৭১ সালে চরম শক্তিশালী বাহিনীর সামনে থেকেই বীরদর্পে ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতা সেই জাতিকে কে দমিয়ে রাখবে। আমরা এগিয়ে যাবই। এবং ভালবাসার পৃথীবিতে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু হউক ২০১৮। একই সাথে ফেলে আসা বছরের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব এটাই কমনা হউক। নতুন বছরের শুরুতে কেমন প্রত্যাশা এ বিষয়ে সর্বস্থরের মানুষের সাথে কথোপকন তুলে ধরা হলো।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক কক্সবাজারের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই চলতি বছরের শেষের দিকে আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। সেই নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য টার্নিং পয়েন্ট এখানেই সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে আগামী দিনে কারা দেশে ভাল ভাবে বেচেঁ থাকবে। মৃক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় নাকি যুদ্ধাপরাধীদের আবাসস্থল সেটা নির্ধারন হয়ে যাবে। দেশের মানুষ কি উন্নয়নের সুফল পাবে নাকি দূর্নীতিবাজদের বরণ করবে সেটা সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। তাই সার্বিক বিষয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবন্ধ থাকার কোন বিকল্প নেই। তাই আগামী নির্বাচনে সবাইকে মুক্তিযুদ্বের পক্ষের শক্তির পাশে থাকার আহবান জানান তিনি। কক্সবাজার সিটি কলেজের অনার্স পড়–য়া ছাত্রী সানজিদা তাবাসসুম বলেন আমার জীবনে ২০১৭ স্বরনিয় হয়ে থাকবে কারন এই বছরে আমি আমার পিতাকে হারিয়েছি। তবুও আমরা থেকে থাকিনি,পরিবারের সবাই একমত হয়ে সবার লেখাপড়া আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে শেষ করা শপথ নিয়েছি সে জন্য আমাদের যত কস্টই্ আসুক না কেন আমরা হার মানবো না। প্রয়োজন হলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করবো তার পরও জীবনকে থেকে থাকতে দেব না। তাই ২০১৮ সাল হবে আমার জীবনে সব ছেয়ে চ্যালেঞ্জের বছর।
 কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার ছাত্রী নাছিমা আকতার বলেন আমি যখন প্রথমে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিলাম আমি মনে করেছিলাম আমি বাহিরের দুনিয়ার সাথে কোন দিন আর খাপ খাওয়াতে পারবো না। তবে বর্তমানে সেই ভূল ধারনা ভেঙ্গে গেছে। এখন মনে হচ্ছে আমার মা এবং বড় ভাইয়ের সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।তারা আমাদের মাদ্রাসায় পড়তে নিয়ে খুবই ভাল কাজ করেছে। এখানে সব ধরনের আধুনিক শিক্ষা আছে। তবে এখানো মাদ্রাসা শিক্ষাকে অনেক জায়গায় একটু ছোট করে দেখা হয় আমি চাইবো সরকার এই বিষয়ে একটু নজর দিক এবং দরকার মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি স্থরে আলাদা কোটা সংরক্ষক করা হউক।
শহরের পাহাড়তলী এলাকার রিক্সা চালক আনিসুর রহমান বলেন আমরা গরীব মানুষ নতুন বছর দিয়ে আমরা কি করবো। জীবনে কত নতুন পুরাতন বছর আসলো গেল আমাদের জীবন যেমন ছিল তেমনই আছে। তবে যদি সম্ভব হয় সরকারকে একটি বার্তা দিতে চাই দ্রব্যমুল্যের বাড়তি দামে আমরা খুবই অসুবিধায় আছি বিশেষ করে চাল। এছাড়া সব কিছুর দাম এত বেশি যেটা আমরা গরীব মানুষদের খুবই কস্ট দিচ্ছে তাই দ্রব্যমুল্য সহ নিত্যপণ্যের দাম কমাতে পারলে আমরা খুবই খুশি হবো।
কক্সবাজার লবন শিল্প মিল মালিক সমিতির নেতা ইসলামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুল কাদের বলেন বাংলাদেশের একমাত্র স্বয়ং সম্পূর্ণ খাত হচ্ছে লবণ শিল্প। আর বাংলাদেশে মোট লবণের চাহিদার ৯৯ % লবণ কক্সবাজারে উৎপাদন হয়। বাকি কিছু মাত্র চট্টগ্রামের বাশখালী আর আনোয়ারায় উৎপাদন হয়। তাই কক্সবাজারের মানুষ হিসাবে আমি নতুন বছরে প্রত্যাশা করবো ২০১৬ সালে সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানী করে নি। ফলে কক্সবাজারে লবণ শিল্পে একটি বিপ্লব ঘটেছে। যে লবণের দাম ছিল মন প্রতি ২০০ টাকাএখন সেই লবণ ৪০০ টাকার বেশি। কিন্তু ২০১৭ সালের অক্টোবরে আবারো লবণ বিদেশ থেকে আমদানী করায় আমরা লবণ ব্যবসায়িরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলাম। তাই আমরা প্রত্যাশা করবো ২০১৮ সালে কোন ভাবেই যেন বিদেশ থেকে লবণ আমদানী করা না হয়।আসলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি মধ্যসত্বভোগী বিসিকের মাধ্যমে ভুল রিপোর্ট দিয়ে বার বার লবণ আমদানী করে কক্সবাজারকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। যে লবণ বিদেশ থেকে আনা হয় তার চেয়ে বেশি লবণ আমাদের মাঠে থাকে।
কক্সবাজারের প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার জসিম উদ্দিন বলেন সত্যিকথা বলতে ২০১৭ সালে আমরা প্রচুর কাজ করেছি। সরকার খুবই উন্নয়নে মুখি গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকার যেভাবে কাজ করেছে তার বলার বাইরে, তাই আমি মনে করি বর্তমান সরকার যদি আবার রাস্ট্র ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশে উন্নয়নে আরো বেশি অবদান রাখবে।
কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়–য়া অপু বলেন আমি ক্রীড়া সংস্থায় আছি ১৫ বছরের বেশি হবে এ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের মত খেলাধুলায় আন্তরিক সরকার আর দেখিনি। বর্তমান সময়ে খেলাধুলার একটি জোয়ার বইছে। এমন অনেক ইভেন্ট এখানে খোলা হয়েছে যা আগে কক্সবাজারের ছেলে মেয়েরা দেখেনি যেমন বক্সিং, আরচারী, সাইকেলিং, একেবারে নতুন হয়েছে হকি। আরো অনেক ইভেন্ট আছে সব মিলিয়ে কক্সবাজারের মানুষ দেখেছে সারা বছর জেলার ক্রীড়াঙ্গন কিভাবে খেলাধুলা নিয়ে সরব ছিল। তাই আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি এই সরকার ধারাবহিক থাকলে খেলাধুলার উন্নয়ন হবে। এবং নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা একটি জিমনেসিয়াম করা। এতে আমাদের ইনডোর খেলা গুলো ভাল ভাবে চালানো যেত।
কক্সবাজার দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অজিত দাশ বলেন সত্যি বলতে গেলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেকাংশে পূরণ হয় নি। বিশেষ করে সেবা প্রাপ্তিতে মানুষ এখনো অনেক পিছিয়ে মানুষ এখনো দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে বেরোতে পারে নি। তবে দেশের তথ্য প্রযুক্তিসহ বেশ কিছু জায়গায় মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা থাকবে সর্বস্থরে সচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের সেবার মান বাড়াতে হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ বারী জানান আমি মনে করি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার কারনে সারা বছর ছেলে মেয়েরা পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকে,এতে তাদের সুকুমার বৃত্তি নস্ট হয়ে পড়ছে। পিএসসি এবং জেএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে আগের মত শুধু মাত্র এসএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা দরকার। আর সব পরীক্ষায় প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়া খুবই দুঃখ জনক। এটা স্থায়ী ভাবে বন্ধ করতে হবে।আমি মনে করি প্রতিটি পরীক্ষায় জিপিএ বাড়ছে কিন্তু লেখাপড়ার মান বাড়ছে না।তাই সরকারের কাছে আমার আহবান থাকবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে কারন এটাই জাতীর ভবিষ্যত। আর সর্বক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত না হলে দেশে অস্থিরতা থাকবেই।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড, শামীম আরা স্বপ্না বলেন ২০১৮ হবে দেশের মানুষের মুক্তির বছর,মানুষ এখন সব দিক থেকে পরাধিন অবস্থায় বসাবাস করছে। কেউ কথা বলতে পারে না,মতামত দিতে পারে না,ভুলত্রুটি দেখিয়ে দিতে পারে না।সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পেছনে মামলা মোকাদ্দমা করে যে টাকা খরচ করছে সেটা দিয়ে ১০ টাকায় চাল খাওয়ার ওয়াদা রক্ষা করতে পারতেন। দ্রব্যমুল্য সহ সব দিক থেকে মানুষ দিশেহারা,কেউ পানের দোকান করলেও সেখানেই সরকারি দলেও লোকজনকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। মোট কথা অস্থির এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য অপক্ষো করছে বাংলাদেশের মানুষ। নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা গণতন্ত্র মুক্তিপাক,দেশের মানুষ তাদের হারানো স্বাধীনতা ফিরে পাক।
 দৈনিক কক্সবাজারের মাধ্যমে জেলাবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন ২০১৮ হবে কক্সবাজারের জন্য  সোনালী বছর। কারন এ বছরেই চালু হতে পারে আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর। কক্সবাজারে আসবে রেল লাইন,ইতি মধ্যে চালু হয়েছে মেরিন ড্রাইভ সড়ক,মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যূৎ কেন্দ্রের কাজ এগিয়ে চলছে। শুরু হয়েছে বিকেএসপির স্টেডিয়াম নির্মানের কাজ। এছাড়া কক্সবাজারের গ্রামীন জনপদের সব সড়র পাকা হয়ে যাবে চলতি বছরেই।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষের সেবা করার জন্য সব সময় নিবেদিত থাকে। আর একটি পক্ষ তারা নিজেরাই নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকে। তাই আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করে দেশ কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন জাতীয় পার্টি এখন অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। যার প্রমান দিয়েছি রংপুর সিটি নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীকে ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে। আমি আসা করি জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি তার নিজস্ব স্বকিয়তার পরিচয় দেবে। আমরা এককভাবে নির্বাচন করবো এবং জনগণ এখনো সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের উন্নয়ন এবং অবদানের কথা ভুলেনি। তাই আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির বিজয় হবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন আমি দৃঢ ভাবে বিশ্বাষ করি দেশ সামনে এগিয়ে যাবে কোন অপশক্তি তাদের রুখতে পারবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top