ফরহাদ মজহার ও ফরিদা আখতারের নামে সমন

98568_rd-e1514783325308.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক : 

মিথ্যা তথ্যে অভিযোগ দায়েরের মামলায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের নামে সমন জারির আদেশ দিয়েছে আদালত। ওই দম্পতিকে আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার হাকিম আদালতে উপস্থিত থাকার নিন্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই সমনে। পুলিশের করা আর্জি শুনে ঢাকার মহানগর হাকিম সুব্রত ঘোষ শুভ রোববার এই আদেশ দেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানরান ফরহাদ মজহারের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।
অপহরণের ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে গত ২৮ ডিসেম্বর ফরহাদ মজহার ও ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে এই মামলা করে গোয়েন্দা পুলিশ।
ফৌজদারি দ-বিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করলে অথবা কোনো অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে মামলা দায়েরকারীকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদ- বা অর্থদ- কিংবা উভয় দ- দেওয়া যাবে। তবে অভিযোগের বিষয় যদি মৃত্যুদ-, যাবজ্জীবন বা সাত বছরের বেশি সাজার যোগ্য হয়, আর সেই অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে মিথ্যা অভিযোগকারীর সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদ-সহ অর্থদ- হবে।
আর ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া, উসকানি দেওয়া বা সহযোগিতার বিষয়ে বলা হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে আসামি যে অপরাধ করার ষড়যন্ত্র করেছেন বলে প্রমাণিত হবে, তার ক্ষেত্রে সেই অপরাধের শাস্তিই প্রযোজ্য হবে। গত ৩ জুলাই সকালে রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বেরিয়ে ফরহাদ মজহারের নিখোঁজ হওয়ার খবর আসে। ওই দিনই ফরিদা আখতার তার স্বামীকে অপহরণের অভিযোগ এনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যা পরে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এই অন্তর্ধান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সব মহলে আলোচনার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা পর গভীর রাতে নাটকীয়ভাবে যশোরে একটি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করার কথা জানায় র‌্যাব ও পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সেদিনই বলেছিলেন, অপহরণের কোনো নজির তারা পাননি; ফরহাদ মজহার নিজেই অপহরণের ‘নাটক’ করেছিলেন বলে তারা মনে করছেন। তবে ফরহাদ মজহার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অপহরণের কথাই বলেন। তিনি সেখানে দাবি করেন, তাকে অপহরণ করে খুলনায় নেওয়া হয়েছিল। অপহরণকারীরা তার কাছ থেকে মুক্তিপণও দাবি করেছিল।
এ বিষয়ে তদন্ত শুরুর পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গত ১০ জুলাই ঢাকার আদালতে অর্চনা রানি নামে এক নারীকে হাজির করে। নিজেকে ফরহাদ মজহারের ‘শিষ্য’ বলে জবানবন্দিতে দাবি করেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, সেদিন ফরহাদ মজহার তার জন্য অর্থ জোগাড় করতেই বেরিয়েছিলেন এবং ১৫ হাজার টাকাও পাঠিয়েছিলেন। খুলনায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের দোকানে ফরহাদ মজহারের যাওয়ার এবং ওই এলাকায় তার একাকী ঘোরাফেরার একটি ভিডিও পরে সাংবাদিকদের সরবরাহ করে পুলিশ। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুল হক গত ১৪ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মজহার দম্পতির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার অনুমতি চান। ওই দিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) গোলাম মোস্তফা রাসেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “অভিযোগটি ছিল মিথ্যা। এ কারণে ফৌজদারি দ-বিধির ২১১ ও ১০৯ ধারায় ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে, যাতে তাদের এবং সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা হয়।”
আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর গত ২৮ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম আদালতের নন জিআর শাখায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার এই প্রসিকিউশন মামলাটি পাঠান। পুলিশ মামলার অনুমতি নেওয়ার পর ফরহাদ মজহার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, তাকে ‘গুম’ করার উদ্দেশ্যেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। সে অবস্থা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উদ্ধার করলেও পরে চাপ দিয়ে তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। আর ফরিদা আখতার পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নারাজি আবেদন দাখিলের অনুমতি চেয়েছিলেন আদালতের কাছে। বিষয়টি আবার ৯ জানুয়ারি আদালতে ওঠার কথা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top