পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বাড়ছে ছিনতাই

COX_BEACH.jpg

সুজাউদ্দিন রুবেল :

পর্যটন মৌসুমে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত শহর কক্সবাজারে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীরা। প্রতিদিনই সৈকতের কোন না কোন পয়েন্টে পর্যটকদের মোবাইল, ব্যাগ কিংবা সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। প্রশাসনের নাকের ডগায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্মে শঙ্কিত পর্যটকসহ সংশ্লিষ্টরা। হোটেল মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়হীনতার কারণে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে ছিনতাইকারীরা। তবে ছিনতাইকারীদের ধরতে নড়ে ছড়ে বসেছে পুলিশ।

টুরিস্ট পুলিশের কার্যালয় থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে লাবণী পয়েন্টের প্রবেশদ্বার জাম্বুর মোড়। এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ বক্স। কিন্তু পুলিশ বক্স থাকলেও নেই পুলিশ। আর এই স্থানেই ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গত ১ ডিসেম্বর নিহত হন বেড়াতে আসা ফেনী সোনাগাজি উপজেলার আবু তাহের।

শুধু জাম্বুর মোড় নয়; সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সড়ক, কক্স-টুডে সড়ক, সী-ইন ও কলাতলী পয়েন্টসহ প্রায় ১০টি পয়েন্টে রয়েছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম। ফলে শঙ্কিত পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা।

কয়েকজন পর্যটক জানান, এখানে ভালো কোনো নিরাপত্তা তারা পাচ্ছেন না বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কোন নিরাপত্তাই থাকে না। এখানে পুলিশ থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতো না বলেই তাদের মত।

টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়হীনতার কারণে সৈকত এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে বলে জানালেন হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন।

তিনি বলেন, ‘টুরিস্ট পুলিশ এবং জেলা পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ছিনতাইকারীরা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি বিদেশি কোন পর্যটক হতাহতের ঘটনা ঘটে এটা আমাদের পর্যটনের পাশাপাশি দেশের জন্যও অশনি সংকেত।’

তবে পুলিশের এই জানিয়েছে, ছিনতাইকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং সমন্বয়ের সাথে কাজ করছেন তারা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘আমাদের কাছে ছিনতাইকারী চক্রের যে তালিকা রয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী তাদের বাড়ি বাড়ি পর্যন্ত রেড দিচ্ছি। তাছাড়া ছিনতাই প্রবণ স্পটগুলোতে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা রেখেছি।’

পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার শহরের দেড়’শো ছিনতাইকারীর তালিকা করা হয়েছে। যার মধ্যে আটক করা হয়েছে ১২ জনকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top