রামুতে পরিবেশ সহায়ক জিগজ্যাগ পদ্ধতির এম,জি,এ ইটভাটা মাটি কাটায় পরিত্যক্ত জমিতে চলছে চাষাবাদ ॥ নেই তামাকের আগ্রাসন

ramu-pic-MGA-eitvata-01.01.18.jpg

স্টাফ রিপোর্টার, রামু :
রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা স্কুল পাড়া গ্রামে পরিবেশ রক্ষা ও তামাক চাষ বর্জন করে নির্মিত পরিবেশবান্ধব ইটভাটা মেসার্স এম,জি,এ ব্রিকস ইউনিট-১ ও ইউনিট-২। এ ইটভাটায় মাটি সরবরাহের ফলে আশপাশের চাষ অনুপযোগী ও উঁচু-নিচু অনেক কৃষি জমিও চাষাবাদের উপযোগী হচ্ছে। কমে গেছে বিষাক্ত তামাকের চাষাবাদ।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ১২ ধারা ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালার ১৯৯৭ এর বিধি ৭ অনুসারে ২০১৪ সালের ১১ জুন আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, রামু উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাগণ জমিটি পরিদর্শন করেন। তারা দেখতে পান জমিটি উচু-নিচু, চাষাবাদের অনুপযোগি এবং চিটাগাং সাউথ লীফ রিজিওন নাইক্ষ্যংছড়ি তামাক চাষের রেজিস্ট্রিভূক্ত চাষিদের জমি ছিলো। উক্ত মতামতের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মতিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর এ ইটভাটার অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদান করে।
পরবর্তীতে উক্ত জমিতে পরিবেশবান্ধব জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে ইটভাটা নির্মাণ হওয়ার পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর এ ইটভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান করে। পরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং বাংলাদেশ স্টান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) থেকেও এ ইটভাটায় ইট পুড়ানো এবং খারখানার লাইসেন্স প্রদান করে। রয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স। এছাড়া ভ্যাট, আয়কর, অন্যান্য ইউনিয়ন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে এ ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে।
মেসার্স এম,জি,এ ব্রিকস ইউনিট-১ ও ইউনিট-২ ইটভাটার ম্যানেজার নুরুল আমিন জানিয়েছেন,এ ইটভাটা পরিবেশবান্ধব জিগজ্যাগ পদ্ধতির। ফলে এটি কালো ধোঁয়া মুক্ত এবং পরিবেশের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়। এ ইটভাটার কারনে আশপাশের অনেক উচু-নিচু ও চাষাবাদের অনুপযুক্ত জমি চাষাবাদের উর্বর জমিতে পরিনত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুর আজিম, মোক্তার, এহসান, কাছিম জানান, এ জমিতে তামাক ক্ষেত ছাড়া কিছুই ছিলো না। সেখানে ইটভাটা স্থাপনের ফলে অপ্রযোজনীয় মাটি সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে। এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ইটভাটার কয়েকপাশে কৃষিজমিতে এখনো ব্যাপক তামাক ক্ষেত রয়েছে। ২/৩মাসের মধ্যে সেখানে গেলে বিষাক্ত তামাকের ক্ষেত চোখে পড়বে।
সম্প্রতি দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকায় রামুতে তামাকের ভয়াবহ আগ্রাসন নিয়ে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওইসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালে রামুতে ২৭০ একর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে। তামাকের আগ্রামনে জর্জরিত এমন এলাকাতে পরিবেশবান্ধব মেসার্স এম,জি,এ ব্রিকস ইউনিট-১ ও ইউনিট-২ ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছিলো। যার কারনে এ ইটভাটা বিষাক্ত তামাক চাষের পরিবর্তে এলাকাবাসীকে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা শিল্প উপহার দিয়েছে। যেখানে পরিত্যক্ত মাটির ব্যবহার ব্যবহারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে এলাকার বেকার জনগোষ্ঠি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top