রোহিঙ্গাদের ত্রাণ যাচ্ছে সারা দেশে

2-21.jpg

রফিকুল ইসলাম :
উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রিত রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মাঝে অতিরিক্ত ত্রাণ বিতরনের ফলে স্থানীয় বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এসব ত্রাণ বিক্রি করে স্থানীয় কিছু দরিদ্র লোক নতুন আয়ের সুযোগ পেয়েছে। বিকেল থেকে উখিয়ার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বসে নিয়মিত রোহিঙ্গা ত্রাণের হাট। দেশী-বিদেশী এসব ত্রানের পণ্য সামগ্রী সস্তায় কিনে নিয়ে বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত কর্মচারী-কর্মকর্তারা দেশের সর্বত্র নিজ বাড়ী ঘরে স্বজনদের কাছে পাঠাচ্ছে।
উখিয়া ও টেকনাফে বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মিয়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিকের অবস্থান। দেশী-বিদেশী নানা সংস্থা এসব উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের মাঝে হরেক রকমের পণ্য সামগ্রী ত্রান হিসেবে বিতরন করছে। চাল, ডাল, মরিচ, তৈল, কম্বল, মাদুরা, বদনা, কলসি সহ সব প্রকারের তৈজস, প্রসাধনী সমগ্রী, তেরপালিন সহ প্রায় সব কিছু দেওয়া হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের স্থায়ী পারিবারিক রেশন বা ত্রাণ কার্ড না থাকায় যে কেউ এসব ত্রান বা রেশন সামগ্রীর কার্ড পেয়ে এগুলো উত্তোলন করছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক হাই কমিশন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, ব্র্যাক, এমএসএফ, অক্সফাম সহ অসংখ্য এনজিও আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে নানা ধরনের পণ্য সমাগ্রী ত্রাণ হিসেবে দিয়ে আসছে।
এসব পণ্য সামগ্রী বিতরনের পূর্বে রোহিঙ্গাদের দেওয়া হয় ত্রান কার্ড বা টোকেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আইএনজিও, এনজিওতে কর্মরত কতিপয় কর্মচারী কর্মকর্তারা ত্রাণ সামগ্রীর কার্ড বা টোকেন বিতরন করে থাকে রোহিঙ্গাদের মাঝে। ইতি মধ্যে এসব ত্রাণ সামগ্রীর টোকেন বা কার্ড বিতরন নিয়ে এলাকায় নানা কথা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখিত ত্রানের টোকেনের বিক্রির মূল্যও অঘোষিত ভাবে ঘোষিত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ২৫ কেজির প্রতি ব্যাগ তিনশ টাকা, কম্বলের টোকেন (নুন্যতম প্রতি পরিবারে ৫জন হারে) দুই শত টাকা, তেরপালিন প্রতি পিছু দেড়শ-দুই শত টাকা, অন্যান্য পণ্য সামগ্রীর বড় প্যাক দুই’শ, ছোট প্যাক এক’শ-দেড়’শ টাকা হারে সংশ্লিষ্ট ত্রাণ দাতা সংস্থা মাঠ কর্মীরা বিক্রি করে থাকে রোহিঙ্গাদের মাঝে।
আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রতি পরিবারে পাওয়ার কথা একটি টোকেন সে ক্ষেত্রে টাকা দিয়ে এনজিও কর্মীদের যোগসাজশে এক পরিবারে ৫জন থাকলে ৫জনই পাচ্ছে ত্রানের টোকেন। এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের চাহিদা অতিরিক্ত ত্রাণের মজুদ ও বেচা বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত ত্রাণ গুলো নুন্যতম মূল্যে স্থানীয়দের মাঝে রোহিঙ্গা মাঝিদের মাধ্যমে বেচা বিক্রি হয়ে থাকে। প্রক্ষান্তরে এনজিও ত্রাণ দাতাদের মাঠ কর্মী ও তাদের এক শ্রেণীর কর্মকতারা নিলে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণের অর্থ। সরজমিনে দেখা গেছে উখিয়া সদর, কোটবাজার, মরিচ্যা, সোনারপাড়া, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী সহ বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে স্থানীয় কিছু দরিদ্র লোক ও মৌসুমে ব্যবসীয়রা কিনে নিয়ে হাট বসিয়ে থাকে। বিশেষ করে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত অবধি এসব হাটে ত্রাণের পণ্য সমগ্রী বিক্রি হচ্ছে।
দেখা গেছে চাল প্রতি কেজি ২০/২২ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৩৫/৪০ টাকা, তেরপালিন প্রতিটি ৬/৯শ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৬৫/৭০ টাকা, কম্বল প্রতিটি ক্ষেত্র বিশেষ ৮০/২৫০ টাকা। মাদুরা প্রতিটি ৭০/১৫০ টাকা, প্লাষ্টিক বালতি প্রতিটি ৫০/৭০ টাকা। তৈজস পত্রের উন্নত মানের ষ্টিলের প্রতি কাটুন ৭/৮শ টাকা, লাক্স সাবান প্রতিটি ১০/১২ টাকা, স্প্রে প্রতিটি ৬০/১০০ টাকা হারে এবং আরো অসংখ্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী নাম মাত্র মূল্যে বেচা বিক্রি হচ্ছে। এ সুযোগে কক্সবাজার জেলার বাইরের জেলার সারা দেশ থেকে বিভিন্ন এনজিও ও দাতা সংস্থা কর্মরত কর্মচারী কর্মকর্তারা এসব পণ্য সস্তায় কিনে কুরিয়ার সার্ভিস সহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজ নিজ ঘরবাড়ি ও আত্মীয় স্বজনের নিকট প্রেরন করছে। এব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রদত্ত ত্রান সামগ্রী কোন ভাবে বেচা বিক্রি করা বৈধ নয়। যারা এসব পণ্য বেচা বিক্রিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top