স্থানীয়দের ক্ষতি করে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবতা আর কতদিন?

Rohingya_Myanmar-4.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :

২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী নৃশংস জাতিগত নিধনের সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত নির্যাতন। ২৫শে আগস্টের পর থেকে চলা এ ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে কক্সবাজারে অনুপ্রবেশ করে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় দেয়া হলেও তারা এখন নানামুখী সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন উজাড়, পাহাড় কাটা, কৃষি জমি দখল, সংক্রমণ ব্যাধি, পরিবেশ বিপর্যয়, অপরাধ, শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরির কারণ হিসেবে রোহিঙ্গাদের দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় প্রশাসন বলছে, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহায়তার আওতায় আনার জন্য কাজ করছে সরকার।

গত বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারের সীমান্ত চৌকিতে হামলার জের ধরে শুরু হয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের কারণে বানের পানির মতো বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। নতুন ৭ লাখসহ কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। আর এসব রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মানবিক কারণে আশ্রয় দিতে গিয়ে অপরাধ, বন উজাড়, পাহাড় কাটা, পরিবেশ বিপর্যয় এবং সংক্রামক ব্যাধিতে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে উখিয়া ও টেকনাফ।

কক্সবাজার-৪ আসন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি বলেন, ‘রোহিঙ্গার আশেপাশে যারা আছেন তারা অনেক অসুবিধায় আছেন।’

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘সোশ্যাল কিছু ব্যাঘাত ঘটছে, কারণ তারা এ দেশের আইন-কানুন জানে না।’

বায়োমেট্রিক পদ্ধতি পুরানো ও নতুন রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের আওতায় এসেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ রোহিঙ্গা। সরকারের এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানিয়ে দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দাবি জানালেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের এ নেতা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদ  প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহামুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘তাদেরকে মিয়ানমারে প্রত্যাবসান করলেই আমাদের সমস্যার সমাধান হবে।’

শীর্ষ কর্মকর্তারা জানালেন স্থানীয়দের সমস্যা সমাধানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের কারণে উজাড় হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার একর বনভূমি ও স্থানীয়দের ১শ একরের বেশি কৃষি জমি। কাটা হয়েছে ৪শ কোটি টাকার গাছ। আর প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ৭৫০ মেট্রিক টন বনের গাছ।
এইডস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১২৭ জন ও ডিপথেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে ২হাজার ৭শ রোহিঙ্গা। বিভিন্ন অপরাধে সাজা হয়েছে ৬০৭ জনের; মামলা হয়েছে ২৮টি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top