মিয়ানমার সেনাদের গুলিবর্ষণে সীমান্তে সংঘাতের আশঙ্কা

RohingyapeoplecrosstheborderfencetoenterinsideBangladeshborderinCox’sBazarBangladeshAugust272017..jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনা করে অবশেষে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের তমব্রু নো-ম্যান্সল্যান্ডে অবস্থানরত ১৫ হাজার রোহিঙ্গাকে উখিয়ার কুতুপালং আশ্রয় শিবিরে নিয়ে আসা হচ্ছে।

সীমান্তের একেবারে জিরো পয়েন্টে এসব রোহিঙ্গাকে ঘিরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রতিনিয়ত গুলিবর্ষণসহ উস্কানিমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ায় সীমান্তে সংঘাত সৃষ্টির আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় চলতি মাসেই তাদের আশ্রয় শিবিরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিবি।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শুরুর দিকে বিজিবি’র বাধার মুখে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তমব্রু, চাকমার কূল সীমান্তের নো-ম্যানসল্যান্ডে অবস্থান নেয় হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

তাৎক্ষণিকভাবে উখিয়ার কতুপালং এবং বালুখালী আশ্রয় শিবিরে স্থান সংকুলান না হওয়ার পাশাপাশি নানা জটিলতার কারণে নো-ম্যান্সল্যান্ডেই হয়ে ওঠে তাদের আশ্রয় কেন্দ্র। কিন্তু অবস্থানরত এসব রোহিঙ্গাকে ঘিরেই নানা ধরণের উস্কানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

রোহিঙ্গারা বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং মগরা এই রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করে তাই খুব ভয় লাগে। আমাদের ওপারে যেতে দেয় না সেদিন ৫-৬ জন যাওয়ার চেষ্টা করেছিলো।’

রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে ভিন্নখাতে নিতে প্রথম থেকেই মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্তের খুব কাছাকাছি এসে গুলিবর্ষণ করছে। এ অবস্থায় মিয়ানমারের সাথে সংঘাত এড়াতে নো ম্যান্সল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানালেন ৩৪ বিজিবি উপ অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘এইখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে। এবং বর্ডার ম্যানেজমেন্ট ক্ষেত্রেও এটা বাধার সৃষ্টি করে। এই জন্য তাদের আমরা নিয়ে আসছি।’

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির নো-ম্যান্সল্যান্ডে অবস্থানরত ১৫ হাজার রোহিঙ্গার জন্য নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে উখিয়ার কুতুপালং আশ্রয় শিবিরের ইউইউ শেডে বলে জানালেন কক্সবাজার উখিয়া ইউএনও মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান চৌধুরী।

উখিয়া কুতুপালং আশ্রয় শিবির ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম, ‘হয়তো ১-২ সপ্তাহের মধ্যে নো-ম্যানসল্যান্ড থেকে রোহিঙ্গাদের আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।’

এর আগে একই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থানরত অন্তত ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে সরিয়ে আনা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top