ইরানে মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে গ্রেফতারের খবর জানালো সৌদি গণমাধ্যম

iran-98125.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নামে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড। বিক্ষোভে উস্কানির অভিযোগে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ করেছে সৌদি গণমাধ্যম। দেশটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এরমধ্যেই সরকার সমর্থকদের বিক্ষোভ-সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।

তীব্র শীত আর প্রবল তুষারপাত উপেক্ষা করে রোববার ইরানের শের এ কর্দ শহরের রাস্তায় জড়ো হন হাজার হাজার ইরানি। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর পাল্টা জবাব হিসেবে সরকারের সমর্থনে ৫ম দিনের মত এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। জাতীয় পতাকা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ছবি হাতে বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-বিরোধী বক্তব্য দেয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের ইরান-বিরোধী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

শের-এ কর্দ শহর ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি শহরে এদিন শোভাযাত্রা বের করে সরকার-সমর্থকরা। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানোর তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে খামেনির পাশে থাকার কথা জানান বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা পরাজিত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নামে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরবের ইরানবিরোধী ষড়যন্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

সরকারবিরোধীদের উস্কানির অভিযোগে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ করেছে সৌদি গণমাধ্যম। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। সৌদি গণমাধ্যম আল-আরাবিয়ার খবরে বলা হয়, গেল ডিসেম্বরে বুশেহরে দেয়া এক বক্তব্যে বিক্ষোভের উস্কানির অভিযোগে সিরাজ শহর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খবর পাওয়া না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ’ প্রবাসী। ইরানের ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরানের স্থিতিশীলতা রক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফকে আমন্ত্রণ জানান তিনি। অন্যদিকে, ইরানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমা গ্যাব্রিয়াল বলেছেন, আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের নীতি অনুসরণ করবে না বার্লিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top