আলোরমুখ দেখেনি কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পুন:নির্মাণ কাজ

IMG_20180109_004119.jpg

মুহিববুল্লাহ মুহিব॥
দুই বছরেও আলোরমুখ দেখেনি কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পুন:নির্মাণ কাজ। জেলার বৃহৎ এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ভবন বা সেডটি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধিনে হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনেও রয়েছে ভবনটির অংশ বিশেষ। দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভিন্ন ভিন্ন কথায় জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ ভবনটির নির্মাণ কাজ নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

জানা যায়, ২০১২ সালের আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের কারণে মৎস্য অবতরন ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর ২০১৫ সালের জুলাই মাসে এসে ঝুকিপূর্ণ একটি অংশ বিশেষ ধসে পড়ার আশংকা থাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভেঙ্গে ফেলে জেলা প্রশাসন। কিন্তু জেলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ভবনটির বাকি অংশ বিশেষ যে কোন মূহুর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন মৎস শ্রমিকরা।

কক্সবাজার মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন সুত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে ফেলে ঐ স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক আগে থেকেই মন্ত্রনালয়ে চিঠি চালাচালি করছে। কিন্তু ২০১৬ সালের শুরুর দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক সিসি ব্লক ডাম্পিং ও প্লেসিং এর কাজ শুরু করে দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষও করে। কিন্তু এরপর পরই ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা ছিল মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পার হলেও শুধু উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে দায় এড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন গিয়ে দেখাযায়, বাঁকখালী নদীর কিনারে গড়ে উঠা ‘৬ নং ফিশারীঘাট’ নামে খ্যাত জেলার একমাত্র ‘মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র’ এখন বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে। দু’তলা বিশিষ্ট ভবনটির নিচের মাটি, পিলার ও সিঁড়ি ভেঙ্গে গেছে। পুরো ভবন জুড়ে শুধুই ফাটল। খসে পড়ছে ফাটলের কিছু কিছু অংশ। এ নিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হওয়ার পাশাপাশি আশঙ্কাবোধও করছে। দেয়ালে একের পর এক ফাটল, ভবনের পিলারগুলোর নীচের মাটি সরে যাওয়া, সিঁড়ীর ভাঙ্গন সব মিলিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে ‘কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র।’

মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কক্সবাজার ফিশারীঘাটে কাজ করে যাচ্ছে হাজারো মৎস্য ব্যবসায়ীরা। চার বছর আগে মূল ভবনের দু’তলার বেশ কযেকটি আড়তঘর পরিত্যক্ত ঘোষনা করে তা খালি করে ভবন ছাড়ার জন্য ব্যবসায়ীদের নোটিশ দিলেও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কাজে এখনো দোতালায় যাওয়াআসা করছেন।
কক্সবাজার সদর, খুরুশকুল, টেকনাফ, মহেশখালী, সোনাদিয়া, কুতুবদিয়াসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলথেকে কক্সবাজার মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৮ হাজার মৎস্য সংশ্লিষ্ঠসহ বহিরাগত মানুষের আনাগোনা থাকে।

কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, জেলার প্রায় ২০ হাজার মৎস্য সংশ্লিষ্ট পরিবারের উপার্যনের একমাত্র উৎস এই অবতরন কেন্দ্র। ঝুকিঁপূর্ন এই ভবনটির দাড়িয়ে থাকা অংশ বিশেষ যেকোন সময় ধ্বসে পড়বে আর বেকার হবে অন্তত ১৫ হাজার মৎস্য শ্রমিক।

তিনি আরো বলেন, ভবনের পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে বাঁকখালী নদীর ¯্রােতের কারণে পিলারের নিচের মাটি সরে গেছে। এতে ১৩ টি পিলার শূণ্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে পুরো ভবন জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ফাটল। ঝুঁকির্পূণ ভবনের নীচে জড়ো হয় প্রতিদিন কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা। ভবনটি যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে।

ট্রলার মালিক কামাল হোসেন জানান, সাগর থেকে মাছ আহরণ করে জেলেরা এখানে নিয়ে আসেন। কেন্দ্রে মাছ তোলার জন্য চারপাশে প্রায় ১২ টি সিঁড়ি করা হয়। জোয়ারের পানির ধাক্কায় এসব সিঁড়ি ভেঙ্গে গেছে। এতোদিন কাঠের তৈরী সিঁড়ি দিয়ে কোন রকমভাবে কাজ চললেও বর্তমানে সিসি ব্লক ফেলার কারণে সে সিঁড়িও ভেঙ্গে গেছে অনেক আগে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে কক্সবাজার অবতর কেন্দ্রে মাছধরা ট্রলার আসাও অনেকাংশে কমে যাবে। ফলে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, ব্লক ফেলা ও ডাম্পিং এর কাজ অনেক আগেই শেষ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর ভবন নির্মাণের কাজটি করার কথা ছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কোন কাজ নেই বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন’র ব্যবস্থাপক মো: শরিফুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভাঙ্গার জন্য প্রতিমাসেই উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের অবহিত করতে চিঠি দেয়া হচ্ছে। ভবনটি ধ্বসে পড়লে কি পরিমান ক্ষতি হবে মন্ত্রনালয়কে সেটি বোঝানোর জন্য চিঠির সাথে ছবিও পাঠাচ্ছি। পাশাপাশি যে অংশটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে সেটিও পুন: নির্মাণের বিষয়েও জানাচ্ছি। কিন্তু তারা বার বার বিষয়টি প্রসেসিংয়ে আছে বলছে। জেলার এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলে পুন:নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলেও আশা করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top