হুমায়ূন আহমদের সমুদ্র বিলাসকে বিস্তৃত করছেন শাওন

coxsbazar-beach-tour_1.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক॥
আন্তর্জাতিক মানের বড় কটেজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। হুমায়ূন আহমদের সেন্টমার্টিন দ্বীপের জায়গাটিতেই হবে সেই কটেজ। সমুদ্র বিলাস নামের হুমায়ূন আহমদের করে যাওয়া রিসোর্টটিই সাজানো হচ্ছে নতুন পরিসরে। হুমায়ূন আহমদের ২২ শতক জায়গার উপর করা সমুদ্র বিলাসের সাথেই আরও নতুন ৩০ শতক জায়গা কিনেছেন যোগ করেছেন শাওন। সম্প্রতি ওই জায়গা কিনেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইল মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘২০১০ সাল থেকেই সমুদ্র বিলাস চলছে। এখন পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

শাওন বলেন, ‘সমুদ্র বিলাস নিয়ে যে পরিকল্পনা করেছি তা সবার সামনে গুছিয়ে এনে জানাব।’

জানা গেছে, হুমায়ূন আহমদের রেখে যাওয়া দুটি অবকাশযাপন কেন্দ্র নুহাশ পল্লী এবং সমুদ্র বিলাস পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছিলেন শাওন।

নুহাশ পল্লী এবং সমুদ্র বিলাসের ব্যবস্থাপনা খরচ সামলানোও সমস্যা হচ্ছিল।

ইতোমধ্যে নুহাশ পল্লীর হুমায়ূন আহমদের রেখে যাওয়া বেশ কিছু গাছ, ভাস্কর্য ও নিদর্শন ব্যবস্থাপনার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একইভাবে সমুদ্র বিলাসের ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পর্যটন বান্ধব পরিবেশ না থাকায় কাঙ্খিত পর্যটক হচ্ছিল না। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনা থাকায় শাওন সেখানে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন বলে হুমায়ূন আহমদের ঘনিষ্ঠ একজন পারিবারিক সদস্য জানিয়েছেন।

‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামে খ্যাত বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে মূলত সমুদ্র বিলাস দিয়ে এক রকম বিখ্যাত করে তুলেছেন কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমদ।

প্রতি মৌসুমে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন সমুদ্র বিলাসে সেন্টমার্টিনের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখার আশায়।

সেন্টমার্টিন অন্য দশটি দ্বীপের মতোই সাধারণ দ্বীপ ছিল।

এ দ্বীপের ভ্রমণকাহিনি ঘিরে হুমায়ূন আহমদের লেখা দুটি বই ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘রূপালি দ্বীপ’ প্রকাশিত হওয়ার পরে দেশে-বিদেশের পর্যটকদের কাছে নারিকেল জিঞ্জিরা ভ্রমণে আগ্রহ বাড়ে। পাশাপাশি পর্যটনশিল্প বিকাশে হুমায়ূন আহমদের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।

কারণ, এ দ্বীপে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ সর্বপ্রথম ঢাকা থেকে এসে ‘সমুদ্র বিলাস’ নামে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন।

জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১৬ মার্চ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা জোলেখা খাতুনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২২ শতক জমি কেনেন হুমায়ূন আহমেদ। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। ওই সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিক ও মো. উসমানকে বাড়িটি দেখাশোনার জন্য মাসিক বেতনভুক্ত করে দায়িত্ব দেন।

জানতে চাইলে সমুদ্র বিলাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ পাপন খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আগের মালিকের কাছ থেকেই ছয় মাস আগে নতুন আরও ৩০ শতক জায়গা কেনা হয়েছে। ম্যাডাম (মেহের আফরোজ শাওন) এখন সময় সুবিধা করে সেখানে আধুনিক আরও কটেজ করবেন।’

পাপন জানান, সমুদ্র বিলাসে নিয়মিতই পর্যটক আসছেন। প্রতি কটেজে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top