এইচএসসি পরীক্ষার পরামর্শ

hsc_preparation_pic.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক॥
এইচএসসি উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রধান সিঁড়ি। এখানে ভালো করতে পারলে উচ্চশিক্ষার পথ অনেকখানি সহজ হয়ে যায়। আজ পরীক্ষার কিছু পরামর্শ জেনে নিই।

অনুশীলন ও আত্মবিশ্বাস

অনুশীলন মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে। তোমরা অনুশীলন করে নিজেদের যোগ্য করে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে। সাফল্যের জন্যে যথাযথভাবে অনুশীলন করতে হবে। এ সময় অহেতুক বিষয়গুলি না পড়ে প্রয়োজনীয় ও অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। অতীতে পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো স্ট্যাডি করে যেসব প্রশ্ন বারবার এসেছে, সেগুলোর প্রতি জোর দিতে হবে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয় সেসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর জেনে নিতে হবে। যেমন : জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম কী? (পুরাতন বই-এ নিশ্চিয় এই উত্তরটি নেই। এতে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।

পড়া মনে রাখা

সাধারণত পরীক্ষার সময় একটি বিষয় পরীক্ষার্থীরা খুব বেশি অনুভব করে যে, তার কিছুই মনে থাকছে না। এই জন্য অনেকেই হতাশও হয় মাঝেমধ্যে। অবশ্যই এটি সত্য যে, পরীক্ষা চলাকালে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে একটি বিষয়ের সব অধ্যয় পড়তে হয় বলে অনেক কিছু মনে রাখা কষ্টকর ব্যাপার। যদি একটু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে পড়ার ব্যাপারটাকে গুছিয়ে আনা যায় তাহলে তোমাদের মনে রাখাটা অনেকটাই সহজ হবে। এ জন্য প্রশ্নের উত্তর মনে রাখার জন্য বিভিন্ন কৌশল সৃষ্টি করতে হবে নিজেকেই।

নিজেকে একটু যাচাই করা

পরীক্ষা-পূর্ববর্তী সময়ে নিজেকে যাচাই করার উপযুক্ত উপায় হলো অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেখে লেখা। এতে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের সৃষ্টি হয়, কোনো ভুল থাকলে ধরা পড়ে ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রশ্নগুলোর মান ও পরীক্ষা হলের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় এতে। এছাড়া পরীক্ষার হলে কীভাবে কত সময়ে উত্তর দিতে তারও একটি ধারণা গড়ে উঠে।

টেনশন মুক্ত থাকা

পরীক্ষার হলের একটি পরিবেশ রয়েছে। সেই পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে নিজেকে। অনেকে পরীক্ষার পরিবেশটিকে অন্যরকম মনে করে ভয় করে। মনে রাখতে হবে এইচএসসি পরীক্ষা সাধারণ এসএসসি পরীক্ষার মতোই একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষা নিয়ে কোনো প্রকার টেনশন করা চলবে না। তাতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরীক্ষা দুটোই খারাপ হওয়ারসমূহ আশঙ্কা থাকে।

আত্মবিশ্বাস রাখা

প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকেই আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আত্মবিশ্বাস ভালো না থাকলে ভালো রেজাল্ট করা যায় না। বিশ্বাস রাখতে হবে তুমি অবশ্যই পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। আর তোমরা যারা এসএসসিতে আশানুরূপ রেজাল্ট করতে পারনি তারা এই পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করবে না। এসএসসির রেজাল্টের চেয়ে এই পরীক্ষার ফল অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

‘অমুক তো ভাই অনেক মেধাবী! তার সঙ্গে কি আমাদের তুলনা চলে?’ এই কথাটি যে কত জায়গায় কতবার শুনেছি হিসেব নেই। এই কথাটি শুনলে কেন যেন আমার ভীষণ রাগ হয়, ব্যাপারটা অনেকটা খেলতে নামার আগেই পরাজয় মেনে নেয়ার মতো। অমুক খুব ট্যালেন্টেড বুঝলাম, কিন্তু আমার চেয়ে কতগুণ মেধাবী সে? আমি যদি প্রতিদিন তার থেকে ডাবল খাটুনি করি কেন আমি তার চেয়ে ভাল করবো না?

আত্মসমালোচনা করা

একটু হিসেব করে দেখো তো আজকে সারাদিনে কীভাবে কেটেছে তোমার? হয়তো ক্লাসে গিয়েছো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছো, ঘুরাঘুরি খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি। আচ্ছা এবার অন্যকিছু ভাবা যাক। আচ্ছা বলো তো, তোমার কী কী শখ আছে? জীবনে বড় হয়ে কী হওয়ার ইচ্ছা? জীবনে শুধু পড়াশুনা করলেই হয় না। এর সঙ্গে প্রয়োজন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি। আর তার সঙ্গে যদি থাকে কিছু মোটিভেশনাল কথা, তাহলে জীবনে চলার পথ হয়ে ওঠে আরও সুন্দর।

নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করো, সেই শখ বা স্বপ্নটা পূরণ করার জন্য আজকে কী করেছো তুমি? প্রতিদিন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা, খেলা দেখা, সোস্যাল মিডিয়া ইত্যাদিতে বিপুল পরিমাণ সময় অপচয় হচ্ছে- এভাবেই কি কেটে যাবে একটি জীবন? আজকের দিনটিতে হোক নতুন করে শুরু সবকিছুর।

আমাদের কিছু অভিভাবক আছেন যারা তাদের ছেলেমেয়েদের পরীক্ষাকে অন্যরকম কিছু মনে করেন। তাদের মনে রাখতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বটে কিন্তু কঠিন বা ভয়ানক কিছু নয়। তাই পরীক্ষার্থীদের ব্যাপারে অভিভাবকদের একটু সতর্ক থাকা উচিত। তাদের ওপর পড়ালেখার অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। তাদের স্বাস্থ্য ও শরীরের প্রতি যত্ন নিতে হবে। ওদেরকে সুস্থ ও মানসিকভাবে ভালো রাখার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করতে হবে। তারা যেন আনন্দের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি তোমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়ে ভালো পরীক্ষা দাও। ভালো পরীক্ষার মাধ্যমে ভালো রেজাল্ট করবে এটিই আশা করি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top