হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা!

Untitled-1-copy.jpg

আজিম নিহাদ♦
ভূমি সেবা পেতে অফিসের পিয়ন বা বড়বাবু’র কাছে ধর্ণা দেয়ার আর প্রয়োজন নেই। এখন ক্লিক মাত্রই মিলছে সব ধরণের ভূমিসেবা। হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা সত্যিই বিস্ময়।

সরকারি যে’কটি প্রতিষ্ঠান জনগণের সাথে সরাসরি সেবা প্রদানে সম্পৃক্ত ভূমি অফিস তারমধ্যে অন্যতম। কিন্তু ভূমি অফিস এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখান থেকে সেবা পেতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ ও হয়রানি শিকার হতে হয় সেবাপ্রার্থীকে।

জটিলতায় আটকে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। কিন্তু এখন সেই দিন আর নেই। হাতের নাগালে একটি স্মার্টফোন থাকলেই যথেষ্ট। ওই ফোনে ক্লিক করলেই মিলবে সব ধরণের ভূমিসেবা। শুধু সেবা নয়, মিলবে অভিযোগের প্রতিকারও।

অত্যাধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতির এই ভূমি সেবা চালু হয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিসে। হ্যালো এসিল্যা- (hello acland) নামে একটি মোবাইল অ্যাপস নির্মাণ করা হয়েছে সদর উপজেলা ভূমি অফিসে। গুগল প্লে-ষ্টোর থেকে ওই অ্যাপসটি স্মার্টফোনে ডাউনলোড করে যেকেউ সেবা বা অভিযোগ করতে পারবে সহজেই।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের অন্যকোন ভূমি অফিসে ভূমি সেবার এই ধরণের মোবাইল অ্যাপস এখনও চালু হয়নি। প্রথমবারের মত সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন জনগণের দৌঁড় গোড়ায় সহজে ভূমিসেবা পৌছে দেওয়ার জন্য এই অ্যাপসটি নির্মাণ করেছেন। এই অ্যাপসটির সুবিধা পাবে শুধুমাত্র কক্সবাজার সদর উপজেলার জনগণ।

গুগল প্লে-ষ্টোর থেকে ডাউনলোড করার পর hello acland নামে ওই মোবাইল অ্যাপসটি খোলা মাত্রই তথ্য কণিকা ও অভিযোগ নামে দুটি অপশন আসবে। এরমধ্যে তথ্য কণিকায় সদর উপজেলার ১৯ টি মৌজার সকল ভূমি’র তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। তথ্য কণিকায় ক্লিক করলে খাস জমি ও অর্পিত সম্পত্তি নামে দুটি অপশন আসবে। এরপর খাস জমি সম্পর্কে জানতে চাইলে ‘খাস জমি’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর মৌজা ও দাগ নাম্বারের অপশন দেখাবে। মৌজা ও দাগ নাম্বার দিয়ে ক্লিক করলেই ওই জমির সম্পূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন সেবাপ্রার্থী। আর অর্পিত সম্পত্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মৌজা সিলেক্ট করলেই সব তথ্য মুহুর্তেই হাজির হবে আপনার সামনে।

hello acland মোবাইল অ্যাপসে অভিযোগ করা আরও সহজ। যেকেউ যেকোন মুহুর্তেই অভিযোগ করতে পারবেন মুহুর্তেই। এমনকি খোদ এসিল্যা-ের বিরুদ্ধেও। এরজন্য অভিযোগ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে ক্লিক করলে একটি পেইজ দেখাবে। ওই পেইজে বেশ কয়েকটি অপশন থাকবে। এরমধ্যে শুরুতে উল্লেখ করতে হবে অভিযোগের ধরণ। অ্যাপসেই ১০টি অভিযোগের ধরণ দেওয়া আছে। সেগুলো হল- ভূমি অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, খাস জমি দখল, অর্পিত সম্পত্তি দখল, সী-বীচ দখল, বন্যপ্রাণী শিকার, পাহাড় কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন, নদী দখল ও অন্যান্য।

এরপর অভিযোগ বক্সে চাইলে অভিযোগ সম্পর্কে ইচ্ছেমত বিবরণ দেওয়া যাবে। এরপর কোন স্থানে অপরাধ হচ্ছে সেই স্থানটি সিলেক্ট করতে হবে। অভিযোগকারির নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার দেওয়ার পর চাইলে অপরাধের ছবি, অডিও বা ভিডিও দৃশ্যও সংযুক্ত করা যাবে। এরপর send ক্লিক করলেই অভিযোগটি পৌছে যাবে এসিল্যা-ের কাছে। শুধু এসিল্যা- নয়, সঙ্গে সঙ্গে ওই অভিযোগটি পাবেন ইউএনও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও জেলা প্রশাসকও। তাই অভিযোগের প্রতিকার নিয়ে বিলম্ব করার সুযোগ নেই। অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই অভিযোগকারির নাম প্রকাশ না করার শর্ত জানিয়ে দেওয়া আছে অ্যাপসটিতে।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি নেওয়ার পেছনে উদ্দ্যেশ্য শোনালেন সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন। তিনি দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, কক্সবাজারে ৬০ শতাংশই খাস জমি। না জেনে, না বুঝে যেকেউ সহজে খাস জমি দখল করে বসে। কিন্তু এখন অ্যাপসের মাধ্যমে সহজেই বুঝতে পারবে কোন জমির কি অবস্থা। এরফলে অবৈধ দখলের মানসিকতা কিছুটা হলেও কমবে। কারণ প্রতিপক্ষের লোকজন অ্যাপস থেকে দ্রুত জমির অবস্থান জেনে নিয়ে তাঁর কাছে মুহুর্তেই অভিযোগ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, এখন কোথাও কোন অবৈধ দখল, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলনসহ ইত্যাদি অপরাধ কর্মকা- সংগঠিত হলেও একজন সাধারণ নিরীহ মানুষ সাহস করে অফিসে গিয়ে এসিল্যা-ের কাছে অভিযোগ করে না। কিন্তু এই অ্যাপস হওয়ার কারণে ক্লিক করেই মুহুর্তের মধ্যে যেকেউ যেকোন অভিযোগ করতে পারবেন তাঁর কাছে। এক্ষেত্রে অভিযোগকারির বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন থাকবে। এই অ্যাপস ব্যবহার সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়লে ধীরে ধীরে অনিয়ম-অবৈধ দখলদারিত্ব কমে যাবে বলে প্রত্যাশা তাঁর। তবে অভিযোগের নামে উদ্দেশ্যেমূলক বিভ্রান্ত করার অনুরোধ জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার উন্নয়ন মেলায় সদর উপজেলা ভূমি অফিসের স্টলে এই অ্যাপসটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক। এসময় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ড.এম এমদাদুল হক, জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।

সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে সব প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। কারণ এই ধরণের অ্যাপসের ফলে কাজে যেমন স্বচ্ছতা থাকবে, তেমনি দুর্নীতি-অনিয়মও রোধ করা যাবে। সদর উপজেলা এসিল্যা-ের এই উদ্যোগ সবার জন্য একটি অনুকরণীয় হয়ে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

হ্যালো এসিল্যা- মোবাইল অ্যাপসটি নির্মাণে কারিগরি সহযোগিতা করেছেন আইটি প্রতিষ্ঠান ‘দি টেক হোমস’। আগামি সাতদিনের মধ্যে গুগল প্লে-ষ্টোরে সম্পূর্ণভাবে অ্যাপসটি পাওয়া যাবে জানালেন টেক হোমস এর কর্ণধার শাহেদ আলী অলিদ।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top