ইনডোরে জেলা বিএনপি’র কার্যক্রম

BNP-Flag-Logo.jpg

এম. বেদারুল আলম♦
জেলা বিএনপি’র কার্যক্রম বাস্তবে যেন ‘ইনডোর গেম’। কোন মন্ত্রণায় জাগাতে পারছেনা তৃর্ণমূলকে। জেলা বিএনপি’র নেতাদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রিয় কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম যতই শক্তভাবে পালনের দাবি করা হোক না কেন বাস্তবে জেলা বিএনপি যেন ‘কূম্ভকর্ণের ’ভুমিকায় দাবি তৃনমুলের কর্মীদের।

ফলে কার্যত জেলার এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ দলীয় কার্যক্রম যেন ভুতুড়ে নিবাস। যদিও মাঝে মাঝে ছোটখাট কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের শহীদ স্মরনীস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের আনাগোনা চোখে পড়ে। এক সময়ের উজ্জীবিত বিএনপি এখন যেন খেই হারিয়ে ফেলা কোন নাবিকের দীকভ্রান্ত তরি। ফলে নেতাদের সঠিক নেতৃত্ব সাধারণ কর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। পুলিশি ভয়ে পেয়ে বসা জেলা বিএনপির কার্যক্রমকে অনেকে ইনডোর গেম হিসাবে মনে করেন তৃনমূলের কর্মীরা। জেলার এবং তৃনমূলের নেতাকর্মীদের বক্তব্যে অন্তত সেটাই পরিস্কার।

পিএমখালী বিএনপির সভাপতি ছৈয়দ নুর বলেন, সরকার সারা দেশে বিএনপিকে বের হতে দিচ্ছেনা , মাঠে কোন কর্মসূচি চালাতে দিচ্ছেনা । ফলে গ্রেফতারের ভয়ে দেশের ৬৪ জেলায় বিএনপির কার্যক্রমের একই অবস্থা। শুধু কক্সবাজারের অবস্থার কথা বললে চলবেনা, আটক -গ্রেফতারের ভয়ে যেমন কোন কেন্দ্রিয় নির্দেশনা সফলভাবে করা যাচ্ছেনা তেমনি মাঠে এর প্রভাব ও বেশি দেখা যাচ্ছে। তার দাবি, সরকার আগে লাঠির মাধ্যমে দেশ চালাত এখন ক্রসফায়ারের মাধ্যমে মাঠ দমিয়ে রেখেছে। ফলে সঠিকভাবে দলীয় কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছেনা।

সাবেক হুইফ, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমরা কেন্দ্রের সকল কর্মসূচি নিদের্শমত চালিয়ে যাচ্ছি। অফিস কেন্দ্রিক কার্যক্রম চালানোর অর্থ হল সরকার মাঠে নামতে না দেওয়ার কারনে । সামান্য কর্মসুচি পালন করতে গেলেও এখন অনুমতি লাগে যেন মগের মুল্লুকে বসবাস। সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় দাবি করে তিনি বলেন , আমাদের উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওর্য়াড কমিটি পর্যন্ত সক্রিয় এবং কেন্দ্রিয় কর্মসুচি যথাযতভাবে পালন করছে। চলতি মাসেও কেন্দ্রিয় সকল কর্মসুচি পালন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিএনপির কার্যক্রম ইনডোরে পালিত হচ্ছে এমন দাবি নাকচ করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন, আমরা সকল কার্যক্রম অফিসের বাইরে এমনকি শহীদ মিনারে পালন করেছি। ২ হাজার নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছি। তবে পুলিশি বাধার কারনে কোন মিছিল,মিটিং করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা বিএনপির ইনডোর কার্যক্রম বিষয়ে জেলা বিএনপির মুখপাত্র , দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউসুফ বদরী বলেন, আমরা সরকারের কঠোর নীতির কারনে কর্মসূচি পালন করতে পারছিনা , উদাহারণস্বরুপ গত ৫ জানুয়ারি আমরা গণতন্ত্র হত্যা দিবসে মাইক ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে পায়নি। তবুও আমরা মাঠ গরম রেখেছি নানা কর্মসুচি পালনের মাধ্যমে। তার দাবি আমরা দলকে বেগবান রেখেছি, দল আগের চেয়ে আরো শাণিত, আমরা ১২ জানুয়ারি কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মী সমাবেশ করব এতে কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত হয়েছি। আগামি নির্বাচনে করনীয় সম্পর্কে তিনি আমাদের নির্দেশনা দেবেন। আমাদের জেলা বিএনপির ৮ উপজেলা , ৪ পৌরসভা এবং ২টি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি আগের চেয়ে সক্রিয়। আমরা আগামি নির্বাচনের জন্য দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ি কাজ করছি।

জেলা বিএনপির নিবার্হী সদস্য এডভোকেট আবু ছিদ্দিক ওসমানী জেলা বিএনপির ইনডোর কার্যক্রম সর্ম্পকে বলেন, আমরা মূলত প্রশাসনের বাধার কারনে কার্যক্রম চালাতে পারছিনা , ১ জনুয়ারি ছাত্র দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের জন্য নানা কর্মসুচি গ্রহন করি কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় করা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ইনডোরে তথা জেলা কার্যালয়ে সম্পন্ন করেছি।
দলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে জেলা বিএনপি আগের চেয়ে অনেক সক্রিয়ভাবে কেন্দ্রের নির্দেশিত সকল কার্যক্রম পালন করা হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও মূলত আটক এবং গ্রেফতারের ভয়ে শুধুমাত্র তাদের জেলা কার্যালয়ে চলছে কর্মসূচি পালন।

বেদিত এবং প্রকৃত রাজনীতিকরা কখনো আটক হওয়ার ভয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের মত ইনডোর কর্মসুচি পালন করেনা । দাবি আদায়ের সংগ্রামে ভীতুদের সফলতা যেন ‘ ডুমুরের ফুল ’ বলে মনে করেন অনেক তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। নেতারা সক্রিয় হলে তৃনমূল সক্রিয় হবে এমনটাই দাবি বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের। ইনডোর তথা অন্দরমহলে বসে দাবি আদায় যেন আকাশকুসুম ।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top