দ্বিতীয় দিনে জমজমাট উন্নয়ন মেলা

Nihad-News-Pic-2.jpg

bdr

কক্সবাজার রিপোর্ট :
দর্শণার্থী ও সেবাপ্রার্থীদের ভীড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে কক্সবাজার উন্নয়ন মেলা। প্রথম দিনের মত দ্বিতীয় দিনেও মেলায় ব্যাপক সাড়া পড়ে সেবাপ্রদানকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল গুলোতে।
শুক্রবার বিকালে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙন। প্রায় সব স্টলেই দর্শণার্থীদের ভীড় ছিল। তবে সেবাপ্রদানকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল গুলোতে সেবাপ্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষণীয়।
মেলায় সবচেয়ে বেশি ভীড় দেখা যায় স্বাস্থ্যবিভাগের স্টলে। কেউ রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করছেন, কেউ ডায়বেটিক পরীক্ষা, আবারও কেউ কেউ প্রেসার পরিমাপ করছেন বেশ আগ্রহে। ওই স্টলে সেবা প্রদানে দায়িত্বরতরাও আন্তরিকতার সাথে দ্রুত সময়ে সেবা দিয়ে সেবাপ্রার্থীদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
উন্নয়ন মেলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ যৌথভাবে একই স্টলে সেবা প্রদান করছেন। ওই স্টলে মিলছে বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং নির্ণয়, প্রেসার পরিমাপ, ডায়বেটিক পরীক্ষা, দ্রুত সময়ে ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয় পরীক্ষা (এডিটি), সার্বজনিন স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে কাউন্সেলিং, শিশুদের স্বাস্থ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক শিক্ষা, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টিসেবা সম্পর্কে সচেতনতামূলক সেবা।
ওই স্টলের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রনজন বড়–য়া রাজন। তিনি দৈনিক কক্সবাজারকে জানান, গেল বছরের চেয়ে এবারের মেলায় সেবাপ্রার্থীদের সাড়া অনেক বেশি। উৎসুক হয়ে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এছাড়াও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে দেখানো স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে ভিডিও ডকুমেন্ট গুলো বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখছে দর্শণার্থীরা।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টার হিসাব অনুযায়ী ওই স্টল থেকে ব্লাড গ্রপিং পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫০ জন, প্রেসার পরিমাপ করা হয় ২০০ জন, ডায়বেটিক পরীক্ষা করা হয় ১০০ জন, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে কাউন্সেলিং করা হয়েছে ৮০০ জনকে। এছাড়াও প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে দাঁড় করিয়ে প্রায় ১০০ জন শিশুকে স্বাস্থ্যাভ্যাস সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়।
একইভাবে কক্সবাজার পৌরসভা, ভূমি অফিসসহ সেবাপ্রদানকারি সব প্রতিষ্ঠানের স্টলে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সময়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে মেলায়।
সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন বলেন, ভূমি উন্নয়ন কর, ডিসিআর ও দাখিলা থেকে দুই দিনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় হয়েছে। মেলার শেষ দিনে তিনি আরও ব্যাপক সাড়া পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন।
পরে সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙনের মঞ্চে তথ্য প্রযুক্তি, সেবাখাত, অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশের অর্জন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাহিদুর রহমান। এতে আলোচনায় অংশ নেন কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্য থিং অং, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাফর আহমেদ, পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী প্রদীপ্ত খিসা, জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল ও কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক এস এম সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শেষ হবে আজ।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top