নিহত চার রোহিঙ্গা শরনার্থী, আহত ৩ জাতিসংঘের ট্রানজিট ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড

download-1-4.jpg

উখিয়া প্রতিনিধি :
উখিয়ার কুতুপালং রাবার বাগানের জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রনাধীন অন্তবর্তী কালিন বা ট্রানজিট ক্যাম্পে অগ্নি কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি তাবু ঘর সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয়ে মা ও শিশু সহ চারজন রোহিঙ্গা শরনার্থী ঘটনাস্থলে অগ্নিদগ¦ হয়ে মারা গেছে এবং অপর তিন জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাদিন রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্টদের কেউ কোন ধরনের তথ্য দিতে সম্মত হয়নি।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থল উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির সংলগ্ন রাবার বাগান এলাকায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাউকে পাওয়া যায়নি। যাদের পাওয়া গেছে তারাও কোন কিছু জানাতে অস্কীকৃতি জানান। স্থানীয় রোহিঙ্গা শরনার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে বৃস্পতিবার রাত ৯টার দিকে জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক হাই কমিশন বা ইউএনএইচসিআরের নিয়ন্ত্রনাধীন শরনার্থী ট্রানজিট ক্যাম্পে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাশ্ববর্তী দোকানদার নুরুল আবছার জানান, ট্রানজিট ক্যাম্পটির চর্তুদিকে ঘেরা থাকায় সেখানে বাহিরের কারও যাওয়ার সুযোগ ছিল না। পরবর্তীতে প্রায় ঘন্টাখানেক পর আগুন ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। ততক্ষণে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় স্থল একটি তাবু ঘর সম্পূর্ণ আগুনে পুড়ে ছায় হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে জানতে গতকাল বিকেলে ট্রানজিট ক্যাম্প সংলগ্ন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও নরওয়ে রেড ক্রসের পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতালে কর্মরত বাংলাদেশী ও বিদেশী কেউ কোন ধরনের তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যদিও উক্ত হাসাপাতালে ঐ সময় পর্যন্ত অগ্নিদগ¦ হয়ে নিহত চার জন রোহিঙ্গা শরনার্থীর মরদেহ ও অপর আহত তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। ইউএনএইচসিআরের ট্রানজিট ক্যাম্পে গিয়ে অনুমতি না থাকায় ভিতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। এ ব্যাপারে কর্মরত কেউ কোন ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় রোহিঙ্গা ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে বৃস্পতিবার রাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নুর হাবা (৩০) ও তার মেয়ে দিলসান (৫) আরজুমা বেগম (দেড়) ও ছেলে আমিন শরিফ (৮) ঘটনাস্থলে অগ্নিদগ¦ হয়ে পুড়ে মারা যায়।
অপর তিন শিশু অগ্নিদগ¦ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় উক্ত ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। জানা গেছে তাবু ঘরের রোহিঙ্গারা মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। মোমবাতি পুড়ে বলে নিচের পলেথিনে আগুন লেগে পুরো তাবুতে ছড়িয়ে অগ্নিদগ¦ হয়ে এসব রোহিঙ্গা শরনার্থীরা হতাহত হন। এরা গত বুধবার উক্ত ট্রানজিট ক্যাম্পে এসে আশ্রয় নেয় বলে জানা গেছে। এরা সবাই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাচিডং এলাকা থেকে এসেছে। ইউএনএইচসিআরের হটলাইনে ফোন করে জানতে চাইলে তারা কোন কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী অগ্নিকান্ডের ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করে জানান, উক্ত পরিবার বুধবার মিয়ানমার থেকে এসে উক্ত ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চারটি লাশ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের কবরস্থানে তাদের আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে। এসময় পরিবার প্রধান আব্দুর রহিম তাবুর বাহিরে ছিল বলে তিনি জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top