বেড়েছে আয়, কমেছে দারিদ্রতা

1476505706.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
সারা দেশের ন্যায় বর্ণাঢ্য কক্সবাজারে উন্নয়ন মেলা শুরু হয়েছে স্থানীয় শহীদ দৌলত ময়দানে। এবারের এ উন্নয়ন মেলায় ৯১ টির বেশি সরকারের সেবা ও উন্নয়নের অংশ নেওয়া দপ্তর তাদের স্টল বসিয়েছে। এতে কক্সবাজার হিসাব রক্ষন অফিসের স্টল থেকে তথ্য নিয়ে জানা গেছে বাংলাদেশের গত ১১ বছরের একটি সংক্ষিপ্ত উন্নয়ন চিত্র। এতে দেখা গেছে ২০০৬ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে দরিদ্রর হার ছিল ৪০ শতাংশ সেটা ২০১৬ সালে নেমে এসে দাড়িয়েছে ২৪.৩ শতাংশ অর্থাৎ ১১ বছরে ১৫.৭ শতাংশ দারিদ্রতা কমেছে। তবে ২০১৭ সালের তথ্য সরকারি ভাবে এখনো প্রকাশ না করা না হলেও গত বছর সহ ১৬% দারিদ্রতা কমেছে। একই সাথে মানুষের মাথা পিছু আয় ছিল বছরে ৫৩৪ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৪৩ হাজার ৯২০ টাকা সেটা ১১ বছরে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সালে বেড়েছে ৩ গুন অর্থাৎ ১,৬১০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৮০ টাকা সে হিসাবে ৮১ হাজার ৬৬০ টাকা বেড়েছে। সে হিসাবে গত ১ বছরে মাথা পিছু আয় বেড়েছে ১৪৫ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশের টাকায় ১১ হাজার ৩১০ টাকা। সচেতন মহলের মতে বাংলাদেশ যে কি পরিমান উন্নতি করছে সেটা এই সাধারন হিসাবেই বুঝা যায়। এ সময় অনেক দর্শনার্থী সচিত্র এই উন্নয়ন কার্যক্রম দেখে শেখ হাসিনার সরকারের ভুয়সী প্রসংশা করতে দেখা গেছে।
১১ জানুয়ারী কক্সবাজার শহীদ দৌলত ময়দানে শুরু হওয়া উন্নয়ন মেলায় বেশ কিছু স্টল পরিদর্শন করতে গিয়ে কক্সবাজার হিসাব রক্ষন অফিসের স্টলের সামনে সাধারন মানুষের ভীড় দেখে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বর্তমান সরকারের উন্নয়নের একটি সচিত্র প্রতিবেদন দেখছে সাধারন মানুষ। এ সময় সাধারন মানুষ কে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ধারাবাহিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে ধারনা দিচ্ছে কর্মকর্তারা। বিশেষ করে গত ১১ বছরে বাংলাদেশের যে বড় উন্নয়ন সূচক সে বিষয়ে মানুষ ধারনা পাচ্ছে। এ সময় জেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা সুকোমল বড়ুয়া বলেন দেশে যা কিছু উন্নয়ন হয় তাতে সব ছেয়ে বড় অবদান থাকে অর্থমন্ত্রনালয়ের। সে হিসাবে দেখা গেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তি মানুষের মাথা পিছু আয় ছিল ১১৮ ডলায় যা টাকার হিসাবে ৯৪৪০ টাকা, ২০ বছর পরে ১৯৯০-৯১ তে মাথাপিছু আয় ছিল ৩০৪ ডলার আর ১৫ বছর পরে সেটা বেড়েছে ৫০৪ ডলারে সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় ২০১৫-১৬ সালে মাত্র ১০ বছরে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৪৬৫ ডলার যা বহুগুন বেশি যা বাংলাদেশী টাকায় ১ লাখ ১৭ হাজার ২০০ টাকা।আর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাড়িয়েছে ১৬১০ মার্কিন ডলার সে হিসাবে ১ বছরে ১৪৫ ডলার আয় বেড়েছে যা বাংলাদেশী টাকায় ১১ হাজার ৩১০ টাকা। এ থেকে বুঝা যায় দেশে মানুষের আর্থিক যোগান বেড়েছে সাধারন মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। এছাড়া দারিদ্রতার হার ২০০৬ সালে ছিল ৪০ % সেটা ১১ বছর পরে ২০১৬-১৭ সালে কমে দাড়িয়েছে ২৪.৩ % অর্থাৎ এখন দরিদ্র বলতে কমে গেছে। মানুষ স্বনির্ভর হয়েছে। আর মূল্যস্ফীতির হার ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে ছিল ৯.৪ শতাংশ আর বর্তমানে সেটা নেমে দাড়িয়েছে ৫.৪ শতাংশ।
এ সময় উপস্থিত অর্থমন্ত্রনালয়ের উপ সচিব মোঃ রাশেদুল আমিন বলেন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন এখন সারা বিশ্বে প্রসংশিত। আর যা কিছু উন্নয়ত সব দৃশ্যমান এবং দেশের মানুষ এর সুফল পাচ্ছে আরো পাবে। তিনি বলেন ১১ বছর আগে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ছিল ৬৪ হাজার ৩৮২ কৌটি টাকা, আর ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সেটার আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ হাজার কৌটি টাকা। আর এত বড় বাজেট বাস্তবায়নে কোথাও এক টাকার ঘাটতি পড়েনি। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন সব কিছু করতে পারে। এছাড়া ২০০৫-০৬ সালে বৈদেশিক মুদ্রার মুজদ ছিল ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সেটা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, গত ১ বছরে বেড়েছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ থেকে বুঝা যায় বাংলাদেশ এখন কত দ্রুত উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর ১০ বছর আগে মোট রপ্তনির পরিমান ছিল ১০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর সেটা বর্তমানে ৩৪.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া আমদানী, প্রবাসী আয়,শিল্প ঋন বিতরণ, কৃষি ঋন বিতরন, বিদ্যুৎ বিতরণ, শিশু মৃত্যু হার কমানোসহ সব দিকে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আর সেটা সম্ভব হয়েছে এক মাত্র সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং দেশপ্রেমের কারনে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারনে। এছাড়া সর্বক্ষেত্রে অনিয়ম দূর্নীতি কমেছে সচ্চতা জবাব দিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। সেটাই প্রকৃত উন্নয়ন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা হিসার রক্ষন অফিসের সুপারিটেডেন্ট সুরজিত রায়, এবং অডিটর পংকজ কুমার বৈদ্য, মোঃ মহিউদ্দিন, মোজাফ্ফর আহামদ, উদয় শংকর দাশ,মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যাপক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন সরকারের উন্নয়ন মেলা পরিদর্শনে এসেছি আমার দেখা মতে এত জমকালো উন্নয়ন মেলা আগে কখনো হয় নি। বেশ জমজমাট এর মধ্যে সব দপ্তর তাদের সেবা বা কর্মকান্ড নিয়ে জনগণক ধারনা দিচ্ছে এর মধ্যে হিসাব রক্ষন অফিসের একটি তুলনা মূলক উন্নয়ন চিত্র দেখে বেশ ভাল লেগেছে। আমি মনে করি সত্যিকার অর্থে এখন দেশের যে উন্নয়ন হচ্ছে সেটা ধারাবাহিক থাকলে আমরা খুব দ্রুত একটি উন্নত দেশে পরিনত হবো।
এ সময় টেকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ রফিক ,তারাবানিয়ার ছড়ার নাছির উদ্দিন বলেন আমরা এসেছিলাম পৌরসভাটি একটি সনদ তুলার জন্য কিন্তু এখানে এত সুন্দর আয়োজন দেখে আমরা সত্যি অবাক, এখানে খুব সুন্দর করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হচ্ছে এবং প্রতিটি দপ্তর তাদের কি কি সেবা আছে সেটা জনগনকে জানাচ্ছে এতে মানুষের মধ্যে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারছে। আর আমরা দেখছি সাধারণ মানুষ খুব উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে এই উন্নয়ন মেলা দেখছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top