বিবেকানন্দ বিদ্যা নিকেতনে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সঃ) উদ্যাপন

21.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
গতকাল ১৩ই জানুয়ারী, ২০১৮ ইং শনিবার বিবেকানন্দ বিদ্যা নিকেতনে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সঃ) উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যা নিকেতনের সহকারী শিক্ষক জনাব, মুহাম্মদ ওমর ফারুকের উপস্থাপনায় উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম কক্সবাজার-এর সহ-সভাপতি শ্রী দিলীপ দাশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সরওয়ার আকবর, সহকারী পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কক্সবাজার, মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব হযরত মাওলানা বশির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় মুফাসসির পরিষদ কক্সবাজার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মাওলানা মোতাহেরুল ইসলাম তাহেরী, খতীব, ঝাউতলা জামে মসজিদ কক্সবাজার এবং বিদ্যা নিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শ্রীমতি সুচিতা পাল।
বিদ্যা নিকেতনের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ নাছিমুর রহমান সোমেত-এর পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অয়ন পাল-এর গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিদ্যা নিকেতনের সহকারী শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ ওমর ফারুক। বক্তব্য রাখেন বিদ্যা নিকেতনের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াছির আরাফাত ইমন ও জান্নাতুল মাওয়া তুবা।
মুখ্য আলোচক জনাব হযরত মাওলানা বশির উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর শ্রেষ্ঠত্বের বড় পরিচয় পাওয়া যায় তার উত্তম চরিত্রে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং প্রতিটি বিষয়ে তাঁর নিকট হতে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। তাইতো পৃথিবীর অনেক বড় বড় কবি সাহিত্যিক ও বিজ্ঞানীরা হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ছিলেন মানব জাতির জন্য আদর্শ। তিনি দাস প্রথা বিলুপ্ত করে সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর আদর্শে আর্দশিত হলে সামাজে পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন প্রত্যেকের নিজ নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। পৃথিবী থেকে জঙ্গীবাদ বিলুপ্ত হতে পারে।
প্রধান অতিথি ও বিশেষ সম্মানিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তৃতায় বলেন- মহানবী (সঃ) ছিলেন সর্বজন স্বীকৃত আল-আমিন অর্থাৎ পরমবিশ্বাসী। তিনি ছিলেন আমানতদারি, সত্যবাদি, ন্যায় বিচারক ও ক্ষমার মূর্ত প্রতীক। বিদায় হজ্বের ভাষণে তিনি ধর্মের ব্যপারে কোন বাড়াবাড়ি না করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সুদ-ঘুষ, মদ্যপান, জুয়াখেলা, খুন, রাহাজানিসহ সকল প্রকার অন্যায় ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। অসহায় ও অনাথ শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। তাই আমাদের সকলের উচিত তাঁর জীবনী নিয়ে গবেষণা করা।
সভাপতি শ্রী দিলীপ দাশ তাঁর বক্তব্যে বলেছেন- সকল মহামানবের জীবনাদর্শ একসূত্রে গাঁথা এবং সকল ধর্মের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় একই। তাই দেশ ও সমাজকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন সকল ধর্মের মানুষের ঐক্য। এতেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে অনাবিল সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি। ধর্ম ধার্মিকের হাতে থাকলে এবং সঠিকভাবে স্ব স্ব ধর্ম প্রতিপালন করলে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষের অদ্ভ্যুদয় হয়। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর সমগ্র জীবন সারা বিশ্ববাসীর জন্য সৃষ্টিকর্তার অন্যতম রহমত। এ রহমত বিশ্বজনীন ও চিরন্তন।
পরিশেষে, “বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ও বিশ্বমানবতা” শীর্ষক বক্তব্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত ও মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। মিলাদ পরিচালনা করেন জনাব মাওলানা মোতাহেরুল ইসলাম তাহেরী, খতিব, ঝাউতলা জামে মসজিদ, কক্সবাজার।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top