সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুচের বাড়িতে হামলা, চোখ তুলে নেয়ার চেষ্টা

Pic-Chakaria-13.01.2018.jpg

বার্তা পরিবেশক :
পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কাঁকপাড়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুচ চৌধুরীর বাড়ি ঘেরাও করে সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা সাবেক চেয়ারম্যানকে ধরে নিয়ে চোখ উপড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। এতে তার বাম চোখ গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ ১০জন আহত হয়েছে। শনিবার বিকাল ৫টায় ঘটেছে এ ঘটনা। ওই এলাকায় এখন দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসি বলেছেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম তার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পেকুয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুরুতর আহত মোহাম্মদ ইউনুচ চৌধুরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেছেন লবণ মাঠের বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি নেতা ওয়াসিমকে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম আশকারা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানায়; শনিবার ১১টার দিকে প্রায় দই শতাধিক সন্ত্রাসী সশস্ত্রভাবে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুচ চৌধুরীর বাড়ি ঘেরাও করতে যায়। এ সময় এলাকাবাসি পুলিশকে খবর দিলে পেকুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ যাওয়ার পর সন্ত্রাসীরা সরে যায়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে ওই সময় পুলিশ মগনামার চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে চা নাস্তা খেয়ে চলে যায়। এতে চেয়ারম্যান ওয়াসিমের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। এদিন বিকাল ৫টার দিকে একই সন্ত্রাসীরা আবারও চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী বাড়ি ঘেরাও করে। এসময় সাবেক এই চেয়ারম্যানের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে তাকে কালারপাড়া এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে চোখ তুলে নেওয়ায় চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাঃ মুজিবুর রহমান বলেন, আহত মোহাম্মদ ইউনুচ চৌধুরীর অবস্থা গুরুতর। তার মাথা, চোখ সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সময় সন্ত্রাসীদের মারধরে ইউনুচ চৌধুরীর মা আমেনা বেগম(৮০), ভাই সরওয়ার(৩৭), ভাইয়ের স্ত্রী সেলিনা আক্তার(৩০), সাবেক চেয়ারম্যানের স্ত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস(৩০), লিয়ন(১৬), হেলাল, কালু সহ ১০জন আহত হয়েছে। তাদেরকে পেকুয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউনুচ চেয়ারম্যানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সকাল থেকে সন্ত্রাসীরা আমাদের বসতবাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ অব্যাহত রাখে। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা চেয়েও আমরা পাইনি। পরে সন্ধ্যায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমের নেতৃত্বে কালার পাড়া এলাকার কানা মানিক, পশ্চিম কূল এলাকার জিয়াবুল, কাজী মার্কেট এলাকার আব্দুল করিম, লিটন, আফজলীয়া পাড়া এলাকার কায়সার ও জয়নাল সহ অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী বাড়ীতে হামলা চালায়। এসময় তারা ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে গুলিবর্ষণ করতে করতে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা আমার স্বামীকে গুরুতর আহতাবস্থা উদ্ধার করি। মগনামা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুলতান মোঃ রিপন বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে সাবমেরিন স্টেশনের জন্য অধিগ্রহণ করা সরকারী জমি লবণ চাষের জন্য অবৈধ দখল নেয় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম। জমির বিনিময়ে প্রান্তিক লবণ চাষীদের কাছ থেকে তিনি অর্থ আদায় করতে থাকেন। এসব ঘটনায় বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান ওয়াসিমকে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম সহযোগিতা করে থাকেন। কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ও পেকুয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় দীর্ঘ দশমাস কারাভোগ করার পর শুক্রবার (১২জানুয়ারি) বিশাল গণ সংবর্ধনার মাধ্যমে এলাকায় ফিরেন আওয়ামীলীগ নেতা ইউনুচ চৌধুরী। তার ফিরে আসাতে প্রাণসঞ্চার হয় অত্যাচারিত জনসাধারণের মাঝে। প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠে লবণ চাষীরা। বন্ধ করে দেয়া হয় চেয়ারম্যান ওয়াসিমের চাঁদা আদায়। আর এতেই বেপরোয়া হয়ে উঠে ওয়াসিমের সশস্ত্র বাহিনী। তাই পরিকল্পিতভাবে তার উপর এ হামলা চালানো হয়। এলাকাবাসি জানান; চেয়ারম্যান ওয়াসিমের অত্যচার, চাঁদা আদায়, মামলা হামলার কারণে এলাকার মানুষ তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে। বর্তমান চেয়ারম্যানের এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুচ চৌধুরী। এ কারণে ওয়াসিম তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িত করে জেল খাটিয়েছে। দীর্ঘ দশ মাস জেল খেটে জামিনে মুক্তি পেয়ে মোহাম্মদ ইউনুচ চৌধুরী এলাকায় ফিরলে শুক্রবার তাকে বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। ওই সংবর্ধনায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। এতে চেয়ারম্যান ওয়াসিম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে প্রতিশোধ নিতে এ ঘটনা করেছে বলে এলাকাবাসি জানায়। এলাকাবাসি আরও জানায়; বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান ওয়াসিমকে আশকারা দিচ্ছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম। তার আসকরা পেয়েই ওয়াসিম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পেকুয়ার অনেক আওয়ামীলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম আওয়ামীলীগ হয়ে আওয়ামীলীগ নিধনে নেমেছেন। তার কারণে আওয়ামীলীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।
পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, পূর্ব শত্রুতা এবং এস.আলম গ্রুপের জমির দখল সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুচ চৌধুরীর উপর হামলাকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top