কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকাদারী কাজে বিএনপি

D-Coxsbazar_06.jpg

সৈয়দুল কাদের :
সরকারীভাবে তদারকির অভাব ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগ পাচ্ছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার না দিয়ে ওই প্রকল্পের কাজে উত্তরবঙ্গের অন্তত ২ শত লোক ইতোমধ্যে নিয়োগ পেয়েছে। প্রকৌশলীদের জাহাজের পাহারাদার, নৈশপ্রহরী সহ গাড়ি সরবরাহ, ট্রলার সরবরাহ সহ মালামাল সাপ্লাইয়ের কাজ করছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগে প্রধান্য পাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের লোকজন। প্রশাসন ও কোল পাওয়ারের পক্ষ থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের প্রাধান্য দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। স্থানীয়দের মধ্যে যারা নিয়োগ পেয়েছেন এবং কাজ করছেন এদের অধিকাংশই সরকার বিরোধী লোকজন। যাদের একটি বড় অংশ এই বৃহৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জাপানের প্রকৌশলীদের জাহাজ পাহারায় দায়িত্ব পালন করছেন মাতারবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মগডেইলের মোঃ আনচার। কর্মরত বিদেশীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও একজন সরকার বিরোধী লোক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে পাহারা দেওয়ার মত এই গুরুত্বপুর্ণ কাজ। একই সাথে নৈশ প্রহরী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম। মাতারবাড়ি ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রিদোওয়ান প্রকাশ লেদু সওদাগর দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন পন্য সরবরাহের। মাতারবাড়ি ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি নাজেম উদ্দিন দায়িত্ব পালন করছেন শ্রমিক সরবরাহের। ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাদশা মিয়ার ছেলে পারভেজ দায়িত্ব পালন করছেন গাড়ি সরবরাহের। ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ফোরকান দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন নৌ-যান সরবরাহের। ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার গোলাম কাদের সরবরাহ করছেন প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার মালামাল। এ ছাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নুরুন্নবী বালি ভরাটের কাজ করছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পেন্টা ওশান নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রানা ও গুপ্তা নামক দুইজন কর্মকর্তা এদের বিভিন্নভাবে কাজে নিয়োগ দিয়ে সুবিধা নিচ্ছেন। এতে কয়লা বিদ্যুত প্রকল্পে কর্মরতদের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে।

পেন্টাওশানের কর্মকর্তা রানা জানিয়েছেন, লাইন্সশীপ নামের একটি সংস্থার মাধমে এদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে পেন্টা ওশানের জড়িত থাকার বিষয় নয়। ওই সংস্থা যেভাবে লোক দিচ্ছে সেভাবেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

একই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিঃ গুপ্তা জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তথ্য পেতে হলে কোল পাওয়ারের মাধ্যমে আসতে হবে। নিয়োগ প্রাপ্তরা সরকার বিরোধী কিনা প্রশাসন বলতে পারবে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেই এদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছেন, আমাদের একটিই দাবী, যেন বাইরের লোক নিয়োগ দেওয়া না হয়। কিন্তু সকল শর্ত ভঙ্গ করে লাইন্সশীপ ছাড়াও ঢাকার অশোক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ২০০ শতাধিক উত্তরবঙ্গের লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতেই আমরা আতংকিত।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন জানিয়েছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের করার কিছু নেই। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়ার জন্য।

প্রকল্প পরিচালক আবুল কাসেম জানিয়েছেন, কাজ করছে ঠিকাদার। স্থানীয়রা যে কাজ পারবে না ওই লোকগুলো জেলার বাইরের থেকে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অনেক স্থানীয়কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা কে কোন দল করে কিংবা সরকার বিরোধী প্রচারণায় জড়িত কিনা তা জানা নেই। ৫ মাস আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান এর কাছে একটি তালিকা চেয়েছিলাম তা এখনো পাইনি। কবে পাব তাও জানিনা, তাই তালিকা পাবার আগে নিয়োগ বিষয়ে করার কিছুই নেই। যদি স্থানীয় প্রশাসন কোন তালিকা দেয় সেই তালিকাটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেব। সেই তালিকা থেকে যাতে স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয় সেই নির্দেশনাও দেব।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top