রাখাইন সফরে মিয়ানমারের ‘না’

rakain.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

নিরাপত্তা পরিষদকে ফেব্রুয়ারিতে রাখাইন সফরে যেতে নিষেধ করেছে মিয়ানমার। জাতিসংঘের রাখাইন পরিদর্শনের প্রস্তাব পুরোপুরি নাকচ না করলেও নেপিদো বলছে, এখন সফরের ‘উপযুক্ত সময়’ নয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত কুয়েতি রাষ্ট্রদূত মানসুর আয়াদ আল ওতাইবিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব কথা জানিয়েছে। কুয়েতের নেতৃত্বেই সফরটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।  সেখানকার সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এরপর থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সাংবাদিকদের রাখাইনে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে মিয়ানমার। গত বছর নভেম্বরেই ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ রাখাইন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়ানমার সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। নিরাপত্তা পরিষদ থেকে এক বিবৃতিতে সে সময় মিয়ানমার সরকারকে সাংবাদিকদের নিরাপদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আল ওতাইবি জানিয়েছেন, কুয়েত  নিরাপত্তা পরিষদের নেতৃত্ব দানকারী দেশ থাকাকালে ফেব্রুয়ারিতেই মিয়ানমারে নিরাপত্তা পরিষদের একটি সফর আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এবার তিনি জানালেন, ‘সফরটি ফেব্রুয়ারিতে হবে না। মিয়ানমার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেনি। তারা বলছে এখন সফরের উপযুক্ত সময় না। নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হয়তো মার্চ বা এপ্রিলে এই সফরের উদ্যোগ নিতে পারেন।’

২৫ আগস্টের উত্তেজনার পর থেকেই রাখাইনে প্রবেশাধিকার নেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংবাদমাধ্যমের। সে কারণে সেখানকার চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গত বছরেই বিবিসিসহ বেশ কিছু সাংবাদিককে সঙ্গে করে ওই এলাকা ঘুরে দেখিয়েছে মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তারা। বিবিসির দক্ষিণ এশিয়ার সংবাদদাতা জোনাথন হেড সে সময় জানিয়েছেন, তিনি নিজেই রাখাইনের বৌদ্ধদের রোহিঙ্গাদের গ্রামে আগুন লাগিয়ে দিতে দেখেছেন। সেখানে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী উপস্থিত ছিল। অ্যামনেস্টিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা শুরু থেকেই সত্য অনুসন্ধানে জাতিসংঘের অনুসন্ধানকারীদের ওই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মিয়ানমার এতে রাজি হয়নি।

কুয়েতি দূত জানান, রাখাইনে একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের সফর আয়োজনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে মিয়ানমার। নেপিডো বলছে, রাখাইনে এখন উত্তেজনা চলছে। তাদের এইসব কারণ দেখিয়েই আপাতত সফরে আসতে মানা করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top