নতুন পোশাকে সেই এগারো শিশু

Shiekh-Rashel.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক :

ওদের স্কুল যাত্রা ছিল অনিশ্চিত। কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমানের বদন্যতায় তারা স্কুলে ভর্তির সুযোগ পায়। তারপর ছিল না তাদের স্কুল ড্রেস। এই কারণে প্রায় শুনতে হত শিক্ষকদের ভৎসর্ণা। মাঝেমধ্যে সহ্য করতে হত বেত্রাঘাত। সহপাঠীদের কাছ থেকে ছাড় পেত না তারা। পুরানো পোশাকে স্কুলে আসার কারণে বন্ধুরাও তাদের নিয়ে হাসি ঠাট্টা করত । কিন্তু আর তাদের সইতে হবে না শিক্ষকের ভৎসর্ণা কিংবা হতে হবে না বন্ধুদের তামাশার পাত্র। কারণ সেই ১১ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে স্কুলের নতুন পোশাক। কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূর্ণবাসন কেন্দ্র থেকে এবার পিইসি পাশ করা সমাজের অবহেলিত সেই এগারো শিশুর কথা বলছিলাম।
শনিবার বিকেলে আশ্রিত সেই এগারো শিশুর হাতে নতুন স্কুল ড্রেস তুলে দিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিৎ কুমার বড়ুয়া।
শেখ রাসেল পূর্ণবাসন কেন্দ্র সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে এই কেন্দ্র থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী পিএসসিতে পাশ করে। তাদের সহ মোট ১৬ জনকে জানুয়ারী মাসেই আমেনা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয় কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী। কিন্তু এদের এতদিন স্কুল ড্রেস ছিল না। এ নিয়ে স্কুলে অনেক কথা শুনত হত এই কেন্দ্রের শিশুদের। শেখ রাসেলের পক্ষ থেকে সমাজের অনেকের সাথেই যোগাযোগ করা হয়েছিল ওই শিশুদের স্কুল ড্রেসের জন্য। কিন্তু একবারের জন্য তৎকালীন ওসিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।
কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূর্ণবাসন কেন্দ্রের সোশ্যাল ওয়ার্ককার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, সমাজের হতদরিদ্র, বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে আমাদের সংস্থাটি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করি তাদের সর্ব্বোচ সেবা দিতে। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগীতা নিয়ে আমাদের পথচলা। স্কুলে ভর্তি করে দেওয়ার জন্য ও ড়্রসে দেওয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই পৌর মেয়র মাহাবুবুর রহমান এবং ওসি রনজিৎ কুমার বড়ুয়াকে।
নতুণ পোশাক পেয়ে আনন্দিত শেখ রাসেলের শিশু শামীমা আকতার বলেন, এতদিন স্কুল ড্রেসের জন্য আমরা শিক্ষকের ভৎসর্না আর বন্ধুদের কটু কথা শুনতাম। কিন্তু ওসি রনজিৎ স্যারের মহানুভবতায় এখন আমাদের নতুন পোশাক রয়েছে। আরেক শিশু সাবরিনা জাহান বলেন, সৃষ্টিকর্তা ওসি স্যারের মত মানুষকে বাচিয়ে রাখুক। তার মঙ্গল কামনা করি।
শামীমা আর সাবরিনার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে ওই এগারো সমস্বরে চিৎকার করে বলে জয় হোক মানবতার, জয় হোক ওসি রনজিতের।
তারা ছাড়া আর যারা নতুন পোশাক পেলেন তারা হলেন, মর্জিনা আক্তার,সাফা ইসলাম রাজনা, সিফা আক্তার, আশরাফিয়া, উর্মি সাদিয়া, ইয়াসমিন আক্তার, রুমি সুলতানা সুখী, জান্নাতুল বকেয়া ও চম্পা আক্তার।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিবেকের তাড়না থেকেই আমি ওই এগারো জনকে আমেনা খাতুন স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি।
এদিকে শিশুদের নতুন পোশাক দেওয়ার বিষয়ে ওসি রনজিৎ কুমার বড়ুয়া বলেন, দেখুন আমারও সন্তান রয়েছে। তারা স্কুলে যায়, প্রাইভেটে যায়, তাদের জন্য প্রায় সময় নতুন কাপড় চোপড় কিনি। অথচ সমাজের এই অবহেলিত শিশুদের স্কুল পোষাক নেই জানতে পারে নিজের বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠে । তখনি সিদ্ধান্ত নেয় এবছর তাদের স্কুল ড্রেস আমি দিব। যেই ভাবনা সেই কাজ। চেয়েছিলাম কেউ না জানে মত দিব। কিন্তু আপনাদের জন্য পারলাম না।
এ বিষয়ে কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূর্ণবাসন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, শেখ রাসেল সমাজের অবহেলিত অনাদারে বেড়ে উঠা শিশুদের আশ্রয়স্থল। এখানে যারা আসে আমরা তাদেরকে মানুষ করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সে কারণে সমাজের বিবেকবান লোকদের সহযোগীতা দরকার। এজন্য আমরা প্রায় সময় অনেকের কাছে সহযোগীতার জন্য যাই। যেখানে অনেকেই করে না। কিন্তু এবারই প্রথম আমরা একজন লোকের কাছে যাইনি অথচ তিনি আমাদের এগারো জন শিশুর জন্য নতুন স্কুল ড্রেস দিয়েছেন। এটি সত্যিই অন্যন্য বিরল।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি ও নতুন পোশাকের জন্য আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। কিন্তু এবারই প্রথম আমরা সহজেই সব পেয়ে গেছি। এজন্য পৌর মেয়র মাহাবুবুর রহমান, ওসি রনজিৎ কুমার বড়ুয়াকে ধন্যবাদ জানাই। আর ওই বিশেষ কৃতজ্ঞতা রইল বাংলানিউজ ও দৈনিক কক্সবাজারের জন্য।
উল্লেখ্য ৩ জানুয়ারী দৈনিক কক্সবাজারের প্রথম পৃষ্ঠায় “ পিইসিতে ভাল ফলাফল তবু ভবিষ্যত অনিশ্চিত ওদের ” শিরোনামে সেই ১১ শিক্ষার্থী নিয়ে দৈনিক কক্সবাজারে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top