বেড়েছে চালের দাম কমেছে ধানের

download-7.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
চালের দাম কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত এক সপ্তার ব্যবধানে আবারো বেড়েছে চালের দাম। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কাছে যেসব চাল বেশি জনপ্রিয় সে সব চালের দাম বেড়েছে অনেক। আড়তদারদের দাবী ঢাকা সহ বিভিন্ন চালের মোকামে দাম বাড়ায় কক্সবাজারে চালের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ধানের দাম কমেছে। মিল মালিকদের দাবী দেশীয় মোটা চালের দাম কম হওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কম দামে কিনতে হচ্ছে। মোটকথা সব দিক থেকেই গ্রাহক বা সাধারণ মানুষের লোকসান আর যে কোন হিসাব নিকাশে লাভে আছে ব্যবসায়িরা। সচেতন মহলের দাবী উচ্চ পর্যায়ে ঠিকমত তদারকী না থাকায় চালের বাজার বার বার অস্থির হচ্ছে আর মধ্যস্বস্তভোগীদের কারনে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
কক্সবাজার শহরের কালুর দোকান এলাকার চাল ব্যবসায়ি শামিমের দোকানে চালের দাম দেখতে গিয়ে দেখা গেছে কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় চাল মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে বস্তা প্রতি(৫০ কেজী) ২৬৭০ টাকা। পাইজাম ২২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া কাটারিভোগ ৩২০০ টাকা। তবে এই দোকানে বার্মার মোটা চাল আছে কয়েক ধরনের সেখানে ১৮০০ টাকা থেকে ২১০০ টাকা পর্যন্ত দামের চাল আছে। তিনি বলেন আসলে চালের মান নিয়ে দাম কক্সবাজারের মানুষ মিনিকেট বা পাইজাম ছাড়া কিনে না। আর গত ১ সপ্তার ব্যবধানে সেই সব চালের দামই বেড়েছে।
আরেকটু দূরে পিটিস্কুল বাজারে গিয়ে দেখা গেছে সেখানেই অনেকটা বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। এই বাজারে শামসুল আলম এবং নাছির উদ্দিন নামের ২ ব্যবসায়ির কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন,আমরা বড় বাজারের বিভিন্ন পাইকারী দোকান থেকে চাল কিনেএনে বাজারে বিক্রি করছি। মূলত সেখানেই দাম বাড়তি রাখছে। ১ মাস আগেও যে মিনিকেট বস্তা প্রতি ২২৫০ টাকা কিনে আনতাম সেটা এখন ২৪৫০ টাকার কমে দিচ্ছে না তাহলে আমরা খুচরা বাজারে কিভাবে ২৬০০ টাকার কমে বিক্রি করবো। আর পাইজাম বা আতব চাল আগে কিনে আনতাম ১৯০০ বা ২০০০ টাকায় কিন্তু এখন সেটা কিনতে হচ্ছে ২১৫০ টাকায়। সেকারনে আমাদের চালের দাম বাড়তি হিসাবে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বেলা ১১ টার দিকে এই বাজারে চাল কিনতে আসা উত্তর রুমালিয়ার ছড়ার মনির আহাম্মদ বলেন, আমি পেশায় রাজ মিস্ত্রির কাজ করি দৈনিক ৬০০ টাকা আয় হয় খুব বেশি হলে ৬৫০ টাকা। সে টাকা দিয়ে বর্তমান বাজারে সংসার চালানো খুব কঠিন। এর মধ্যে বেশির ভাগ টাকাই চলে যায় চাল কিনতে কারন খুচরা বাজারে কেজি প্রতি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা এখন শুনছি আরো বেশি দিনে যদি ৩ কেজি চাল লাগে তাহলে ১৬০ টাকা সেখানে চলে যায়। আর বাকি টাকা দিয়ে কিভাবে মাছ তরকারী, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া পরিবারের অন্যান্য ভরণ পোষন করবো আপনারাই বলুন। তিনি বলেন বর্তমান সরকার অনেক দিকে উন্নয়ন করছে সেটা ঠিক কিন্তু আমাদের মত গরীব মানুষের জন্য কি করেছে সেটা একবার ভেবে দেখা দরকার।
পরে কক্সবাজার বড় বাজারের পাইকারী চাল ব্যবসায়ি আনোয়ার হোসেন বলেন আমরা আশুগঞ্জ সহ ঢাকা এবং নারায়নগঞ্জ থেকে চাল এনে বিক্রি করি,এমনিতেই অনেক দিন ধরে চালের দাম বাড়তি ছিল কিন্তু মাঝখানে বেশ কিছুদিন চালের দাম স্থিতি ছিল কিন্তু গত এক সপ্তাহর মধ্যে যে চালান এসেছে সেখানে প্রতিবস্তায় কমপক্ষে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। তাই আমাদের গ্রাহক পর্যায়ে আরো কিছু টাকা লাভ করে ২৬০০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এটা একদম ভাল চালটা। মিনিকেট ২৩০০ টাকাও আছে ২৪০০ টাকাও আছে। তবে তুলনা মূলক চালের দাম কিছুটা বেড়েছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার চাল ব্যবসায়ি মালিক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন,চালের দাম তেমন বেশি বাড়েনি। যা সামান্য বেড়েছে সেটা সহনীয় পর্যায়ে আছে। আর বর্তমান বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী চালের দাম এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করা যাবে না তাহলে কৃষক চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
এদিকে যে কৃষকের দোহাই দিয়ে বাজারে চালের দাম বাড়ছে সেই কৃষকের ধানের দামও কমেছে। গত মৌসুমে যে ধান ১আরি(৭কেজি) ২৮০ টাকা দামে কৃষকের কাছ থেকে কিনতো মিলমালিকরা। এখন সেই ধান কিনছে ২২০ টাকায়। আর দেশীয় মোটা চাল কিনছে ২১০ টাকায়।
আলাপ কালে পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়াপাড়ার কৃষক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, বর্তমানে আমার ১২ কানি জমির প্রায় ৩৫০ আরি ধান বাড়িতে আছে। দাম কমের কারনে বিক্রি করছি না। যদি সামনে ধানের দাম বাড়ে তাহলে বিক্রি করার আশায় রেখে দিয়েছি। তিনি বলেন গত মৌসুমে দেশীয় চিকন ধান বিক্রি করেছি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় এখন সেই ধান মিল মালিকরা চাইছে ২২০ টাকায়। আবার একই চাল আমরা বাজারে কিনতে গেলে অনেক বেশি দাম পড়ে। আর আমরাতো অসহায় মিলমালিকরা যদি ধান না কিনে তাহলে আমরা ধান কোথায় নিয়ে যাব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সরকার কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনার বিষয়টি সম্পুর্ণ শুভংকরের ফাকি। ধান মিল মালিকদের কাছেই বিক্রি করতে হয়। রামু গর্জনিয়া ইউনিয়নের কৃষক জাফর আলম বলেন,বাজারে চাল কিনতে গেলে প্রতি বস্তা ২৫০০ করে পড়ে আর আমরা ধান বিক্রি করতে গেলে একআরি(৭কেজি) ২০০ টাকার উপরে দেয় না। এখন উৎপাদিত সব ধানতো বাড়িতে খেতে পারিনা তখন বাধ্য হয়ে কিনতে হয়।
এ ব্যপারে বাংলাবাজার রাইসমিলের মালিক ছালামত উল্লাহ বলেন,এক সময় ধান ২৮০ টাকা কিনলেও এখন ২২০ টাকার উপরে কিনা হয় না। কারন এখন দেশীয় মোটা চালের দাম অনেক কম। তাই আমরা ধান কম দামে কিনছি আর এটা শুধু আমার মিলে নয় সব মিলে একই অবস্থা।
এদিকে চালের দাম বাড়তি আর ধানের দাম কমের দিকে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষক আখতার আলম,সিটি কলেজের শিক্ষক হাসেম উদ্দিন,আইনজীবি শাহাদাৎ হোসেন বলেন যে কোন যুক্তিতে ব্যবসায়িদের লাভ ঠিকই আছে। এটা উচ্চ পর্যায়ে তদারকীর অভাব এবং ব্যবাসয়িদের উচ্চাবিলাসীতার প্রভাব। সরকারের উচিত হবে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে চালের দাম সহনিয় পর্যায়ে নিয়ে আসা।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top