অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশনে বাধাগ্রস্থ চিকিৎসা সেবা

images-6.jpg

ওমর ফারুক হিরু :
চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) স্পষ্ট না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগির অভিভাবক আর ওষুধ বিক্রেতারা। এতে ক্ষতি হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবার। আর এই সমস্যা সমাধানে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র পড়ার উপযোগী ও স্পষ্ট এবং বড় অক্ষরে লিখতে হবে।
কিন্তু এই নির্দেশনা মানছেননা অনেক চিকিৎসক।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রাইভেটে দেখানো চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন বুঝা গেলেও কক্সবাজার সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগের অনেক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বুঝার উপায় নেই। এমনকি অনেক প্রেসক্রিপশন ওষধ বিক্রেতারাও বুঝতে পারছেনা। আবার অনেক প্রেসক্রিপশনে প্রচুর ভূল আর ভিন্ন রোগের ওষুধ দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিভিল সার্জন বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানান, এই ঘটনা বেশি ঘটছে ভূয়া ও অযোগ্য চিকিৎসদের হাতে। আর অনেক ভাল চিকিৎসকও দ্রুত প্রেসক্রিপশন লিখছে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র পড়ার উপযোগী ও স্পষ্ট এবং বড় অক্ষরে লিখানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
শহরের মধ্যম বাহার ছড়ার ভুক্তভোগী রোগী মোঃ ফারুক (২৮) জানান, জ্বর আর সর্দি হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। কিছুক্ষন অপেক্ষার পরে ফারুকের প্রেসক্রিপশনে লিখা শুরু করে দায়িত্বরত চিকিৎসক। ওই সময় চিকিৎসক ইশারায় জানতে চায় কি সমস্যা। উত্তরে মোঃ ফারুক বলা শেষ করার আগেই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন লিখা শেষ। মোঃ ফারুক ওই প্রেসক্রিপশন নিয়ে সেভরন (পুরাতন সেভরন) হাসপাতালের নীচে ৪ টি ফার্মেসিতে দেখিয়েও ৩ নাম্বার ওষধটি কেউ পড়ে বুঝতে পারেনি। উপরের ২টি ওষধ বুঝতেও তাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। কারন লিখাগুলো এত দ্রুত লিখা হয়েছে তা বুঝার উপায় ছিলনা।
তিনি আরো জানান, তবে সব চিকিৎসক এমন নয়। এমনও দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরী বিভাগ বা বর্হিবিভাগের প্রেসক্রিপশনে যে চিকিৎসক এই বাজে লিখা লিখল তিনিই আবার প্রাইভেটে দেখার সময় খুব সুন্দরভাবে লিখেন। আর যতœ সহকারে রোগীর কথা শুনেন।
শহরের টেকপাড়ার সাইফুল ইসলাম (২৫) নামে আরেক ভূক্তভোগী যুবক জানান, তারও সর্দি, জ্বর আর কাশি হয়েছিল। কিন্ত তার প্রেসক্রিপশনে বমি আর পায়খানার টেবলেটও লিখা ছিল। কারন চিকিৎসক তার শরীরের সমস্যাটা ঠিকমত শুনতেই চাইনি। অল্প কতটুকু শুনেই বাকিটা নিজের মত করে দ্রুত লিখে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ড. আব্দুস সালাম বিষয়টি স্বীকার করে জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করছেননা অনেক চিকিৎসক। এর ফলে ক্ষতি হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবার। আর এই সমস্যার জন্য বেশি দায়ী হল কিছু ভূয়া চিকিৎসক। যাদের প্রেসক্রিপশনেই অনেক বানান ভূল থাকে। লিখা থাকে ভূল ওষধের নামও। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারনে অনেক চিকিৎসক বাধ্য হয়ে দ্রুত লিখেন। তাই চিকিৎসকদের একটু সতর্ক থাকা উচিত যাতে করে তাদের লিখা সহজে বুঝা যায়। আর এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top