জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা বেড়েছে

download-2-5.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজার জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কাজে সক্ষমতা বেড়েছে। এতদিন সরকারি এই দপ্তরের কার্যক্রম তেমন বেশি চোখে না পড়লেও সম্প্রতি বেশ কিছু অভিযান,মাদক সহ আসামী আটক এবং মামলার কারনে বেশ আলোচনায় এসেছে জেলার মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর।এছাড়া আরো ভাল খবর হচ্ছে জেলার উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলা নিয়ে বিশেষ অঞ্চল গঠন করা হচ্ছে যেখানে থাকবে ৮৯ জনের জনবল কাঠামো সহ বিশেষ সুযোগ সুবিধা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জেলার মাদক পাচার এবং পরিবহন এবং ব্যবসায়িদের কে আইনের আওতায় আনা যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা। একই সাথে কক্সবাজারের বাস্তব অবস্থার নিরিখে জেলা অফিসে ও জনবল বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সচেতন মহল।
কক্সবাজার জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা অফিসের আওতায় মোট অভিযান চালানো হয়েছে ৬৪৭ টি এর এতে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে ৫৩ টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মামলা করা হয়েছে ১৯৬ টি আর জিডি করা হয়েছে ২ টি মোট ২৫১ টি মামলা করা হয়েছে। যা ২০১৬ সালে ছিল ১৫৬ টি সে হিসাবে ২০১৭ সালে ৯৫ টি মামলা বেশি করা হয়েছে। আর ২০১৭ সালে মাদক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬০ জনকে আবার পূর্বের পলাতক আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ জন। আর উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ইয়াবা আছে ৮৫ হাজার ৫৮৭ পিচ। অন্যদিকে ২০১৬ সালে ইয়াবা উদ্ধার ছিল ২০ হাজার ৩০৬ পিচ। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে ৭ টি মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে ৭ টি আর আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে ২১ জন। মাদক নির্মূলে সব মহলের সহযোগিতা চান তিনি।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল বলেন, কক্সবাজারে মাদকে ব্যাপকতা হিসাবে এখানে লোকবল খুবই অপ্রতুল অফিসে ২২ জনের মধ্যে আছে ১৬ জন তার মধ্যে সহকারী পরিদর্শক বা এএসআই ৩ জনের মধ্যে কেউ নাই। এখানে কর্মকর্তার পদ আরো বাড়ানো দরকার। তাছাড়া আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে এই বিশাল এলাকার মধ্যে কে কখন কোথায় মাদক পাচার করছে বা মজুদ করেছে সেটা খবর পাওয়া কঠিন তবু ও আমরা সাধ্যমত চেস্টা করছি। আমি চেস্টা করছি সততার সাথে কাজ করার জন্য।
তিনি বলেন একটি ভাল খবর আছে সেটা হলো জেলার উখিয়া এবং টেকনাফ উজেলাকে নিয়ে একটি বিশেষ অঞ্চল ঘোষনা করা হচ্ছে সেখানে ৮৯ জন লোকবল সহ নানান ধরনের আধুনিক সরঞ্জাম থাকবে। আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে সেই ফাইল জমা আছে আশা করছি খুব দ্রুত সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরে জেলার মানুষ মাদক বিরুধী কাজ আরো দেখতে পাবে। এছাড়া আমি মনেকরি মাদকের ভয়াবহতা কমাতে সর্বস্থরে সচেতনতা ছাড়া বিকল্প নেই সে জন্য আমরা জেলার ৩০০ স্কুলে মাদক বিরুধী কমিটি গঠন করেছি। সব জায়গাতে ছাত্রছাত্রীরা মাদকের বিরুদ্ধে ধারনা পাচ্ছে।
কক্সবাজারের নিবন্ধিত মাদক নিরাময় কেন্দ্র ফিউচার লাইফের পরিচালক জসিম উদ্দিন কাজল বলেন,বর্তমানে কক্সবাজার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসের কার্যক্রমে অনেক সক্ষমতা এসেছে কর্মকর্তারাও আগে ছেয়ে অনেক আন্তরিক। আমরা যখনি উনাদের সহযোগিতা চাই উনারা এগিয়ে আসেন। আর আমাদের সেন্টারে চিকিৎসাধীন রোগিদের সাথে মাঝে মধ্যে মত বিনিময় করে তাদের ভাল পরামর্শ দেয়। এছাড়া জেলার যেখানেই মাদকের ব্যাপারে কোন খবর থাকে সেখানে অভিযান চালাচ্ছে যত রাতই হউক উনারা অভিযানে যাচ্ছে।
কক্সবাজার আইনজীবি সমিতির সাবেক সহ সম্পাদক এড. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন,আগে এই দপ্তরের কার্যক্রম তেমন দেখা যেত না ইদানিং কোর্টে এবং কোর্টের বাইরে তাদের বেশ কার্যক্রম চোখে পড়ছে। বিশেষ করে কিছু দিন আগে ফেইসবুকে দেখেছি গভীর রাতে তারা একটি নামকরা হোটেলে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন কক্সবাজারে যেহারে মাদকের ভয়াবহতা সে হিসাবে এটা কিছুই না এখানে আরো দ্বিগুন জনবল এবং সরঞ্জাম দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে নামা উচিত।
পাহাড়তলী সমাজ সেবক মোঃ শেখ সেলিম বলেন আজ থেকে ১ যুগ আগেও কক্সবাজারকে সারা দেশের মানুষ আলাদা মর্যাদার চোখে দেখতো। কিন্তু মাদকের ভয়াবহতায় বিশেষ করে ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসনে আমাদের শত বছরের অর্জিন সুনাম একেবারে নস্ট হয়ে গেছে। আমার মতে সরকারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের একার পক্ষে এই ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব না। মাত্র ১৬ কর্মকর্তা কর্মচারী কি করবে? কোথায় যাবে? কাকে ধরবে? আমার জানা মতে তাদের বেশির ভাগ সময় মামলার স্বাক্ষি দিতেই চলে যায়। মাদকের আগ্রাসন কমাতে সমাজের সর্বস্থরের মানুষকে এক সাথে আওয়াজ তুলতে হবে। আর সর্ব প্রথমে রাজনৈতিক ভাবে মাদক ব্যবসায়িরা যেন আশ্রয় পশ্রয় না পায় সেটা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
আলাপকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন কক্সবাজার জেলা কমিটির সহ সম্পাদক অধ্যাপক অজিত দাশ বলেন,মাদক বর্তমান সমাজের জন্য একটি মারাত্বক ব্যাধি যা সবাইকে মিলে মোকাবেলা করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্টান একা এই বিশাল কাজ করতে পারবে না। তবে নতুন প্রজন্মকে বেশি করে এই মাদক বিরুধী কাজে লাগাতে হবে। স্কুল কলেজ গুলোতে বেশি করে সচেতনা মুলক কর্মসূচী,পাড়া মহল্লায় চলচিত্র প্রদর্শনি, এবং মসজিদ মন্দিরেও মাদকের বিষয়ে আলোচনার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top