পেকুয়ায় কাল ধর্মঘট, শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল

2-3.jpg

বার্তা পরিবেশক :

পেকুয়ায় আগামি কাল বুধবার ধর্মঘট ডেকেছে শ্রমিকরা। চাঁদাবাজি বন্ধসহ চাঁদাবাজচক্রের হোতাদের গ্রেফতার দাবিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন যৌথ এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। বৃহত্তর চকরিয়া-পেকুয়াসহ অভ্যন্তরিন সড়কে এ ধর্মঘট ডাক দেয়া হয়েছে। ওইদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা পেকুয়ায় ধর্মঘট পালিত হবে। সড়কে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় শ্রমিক সংগঠনগুলো। এদিকে সম্প্রতি পেকুয়ায় সিএনজি, অটোটেম্পু, অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের আধিপত্য নিতে উদ্বট পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৈধ কমিটিকে হঠিয়ে অপর একটি অবৈধ কমিটির অন্তরালে শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে টাকা। এতে করে মুল ধারার শ্রমিকরা ওই অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামসহ কঠোর কর্মসুচির ডাক দেয়। গত কিছুদিন ধরে এনিয়ে গোলযোগ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় পেকুয়ায়। অবৈধ কমিটির লেলিয়ে দেয়া অশ্রমিকদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছে বেশ কয়েকজন শ্রমিক। এর প্রতিবাদে সোমবার পেকুয়ার রাজপথে নামে শ্রমিকরা। বিকেলে পেকুয়া বাজারে প্রায় ৫শতাধিক শ্রমিক জড়ো হয়। এ সময় ব্যানার নিয়ে তারা সড়কে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ সময় এক অনির্ধারিত প্রতিবাদ সমাবেশ করে শ্রমিকরা। সিএনজি,অটোরিক্সা ও টেম্পু সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন পেকুয়া-বরইতলি-মগনামা শাখার সভাপতি নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের সেক্রেটারী মো.বারেক, কার্যকরী সভাপতি জামাল হোসেন, সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন বাবুল, যুগ্ন সম্পাদক অলি উল্লাহ, সহ-সম্পাদক মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক নেজাম উদ্দিন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো.ফিরুজ, দপ্তর সম্পাদক মো.শামীম উদ্দিন, লাইন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সদস্য জসিম উদ্দিন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা এ মিছিলে যোগ দেয়। পাশর্^বর্তী উপজেলা চকরিয়া থেকেও শ্রমিকরা এসে এ কর্মসুচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে। বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শ্রমিকরা রাজপথ উত্তাল করে। এ সময় বক্তরা বলেন শ্রমিকদের উপর এ আচরন বরদাস্ত করা হবেনা। পেকুয়ার কুখ্যাত চাঁদাবাজ, দখলবাজদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক অসন্তোসের অভিযোগ আনতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকরা এ চাঁদাবাজ চক্রের হোতাদেরকে পেকুয়ায় অবাঞ্চিতসহ তাদের খোঁজে বের করে শায়েস্তা করতে বাধ্য হবো। আমরা শ্রমিকদের উপর এ নিপীড়ন ও সড়কে তাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়েছি। শ্রমিকদের জিম্মি করে কলেজ গেইট চৌমুহনীতে স্লিপ দিয়ে টাকা আদায় করার ভয়াবহ পরিনতি এ চাঁদাবাজকে নিতে হবে। এদিকে আগামি কাল বুধবার সকাল সন্ধ্যা ধর্মঘট আহবান করছে শ্রমিক সংগঠন। ওইদিন ৫টি সড়ক ধর্মঘটের আওতায় আসবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত শ্রমিক কর্মসুচি চলমান থাকবে বলে সংগঠনের নেতারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় আরকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি: নং-৬২৬ কেন্দ্রিয় কমিটির যুগ্ন সম্পাদক কামাল আযাদ হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন আমরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছিলাম। চাঁদাবাজকে শ্রমিকরা ভয় পায়না। পেকুয়ায় কিছু পেশাদার চাঁদাবাজ ও দখলবাজ আমার শ্রমিকদের টার্গেট করেছে। অনেক ধৈর্য্য ধারন করেছি। এখন আর সহ্য করবনা। কারন আমার শ্রমিকদের উপর অত্যচার নির্যাতন ও চাঁদাবাজি বরদাস্ত করার মত নয়। প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তারা অদৃশ্য কারনে ওই চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেইনি। তাই বাধ্য হয়েছি রাস্তায় নামতে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও শ্রমিক অসন্তোষের এ দায় এ চাঁদাবাজ চক্রকে নিতে হবে। কোন শ্রমিক নিপীড়ন হলে হুশিয়ার করছি প্রয়োজনে শ্রমিকরা বৃহত্তর কর্মসুচি দিতে বাধ্য থাকিবে। শ্রমিক নেতা নাছির উদ্দিন, অলি উল্লাহ, মহিউদ্দিন বাবুল, আবুল কালাম জানায় ধর্মঘট পালিত হবে। এ বিষয়ে দু’দিন আগে যৌথ শ্রমিক ও মালিকদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও অভ্যন্তরীন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে এক দিনের ধর্মঘটের ডাক এসেছে। শ্রমিকদের নিয়ে খেলছে সেই কুখ্যাত চাঁদাবাজরা। আমরা তাদের গ্রেফতার ও কঠিন শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top