বিশ্ব বেতার দিবস

p-1.png

॥ অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন ॥
আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিশ্ব বেতার দিবস। জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ইউনেস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বব্যাপী আজ ‘বিশ্ব বেতার দিবস-২০১৮’ উদযাপিত হচ্ছে। সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব বেতার দিবস পালিত হচ্ছে। এবার বিশ্ব বেতার দিবসের শ্লোগান হলো “ক্রীড়াঙ্গণে বেতার”।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযথভাবে সপ্তম বারের মতো পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘বিশ্ব বেতার দিবস।’ দিবসটি উদযাপনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে একটি অনুসরণীয় মডেল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব বেতার দিবস পালিত হচ্ছে। এতে অংশ নেয় বাংলাদেশ বেতার, প্রাইভেট এফএম এবং কমিউনিটি রেডিওগুলো।
অনেকেরই ধারণা ইন্টারনেটের অগ্রযাত্রার এই সময়ে রেডিও তার গুরুত্ব হারিয়েছে। ধারণাটি সঠিক নয় মোটেই। কারণ সময় যেমন বদলেছে, ঠিক তেমনই সময়ের সঙ্গে তালমিলিয়ে প্রচারণার ধরণও বদলে গেছে। এখনও মানুষ রেডিও শোনে। এখনও রেডিওর ওপর নির্ভর করে অনেক মানুষ।সারাবিশ্বে বেতার এখনও অন্যতম জনপ্রিয় গণমাধ্যম। বেতারের রয়েছে পৃথিবীর দুর্গম স্থানে পৌঁছানোর শক্তি। তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রসারের ফলে সম্প্রচার জগতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ২০০০ সালে থেকে বাংলাদেশে গ্রামীণ জনপদে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে উন্নয়নমূলক তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি সেবা, জীবনঘনিষ্ঠ যাবতীয় তথ্য জনগণের মাঝে সহজ ভাষায় প্রচারের লক্ষ্যে কমিউনিটি রেডিও চালু করতে সরকারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করে আসছে।
দেশে বর্তমানে ১৭টি কমিউনিটি রেডিও প্রতিদিন ১২৫ ঘণ্টারও বেশি সময় অনুষ্ঠান সমপ্রচার করছে। ১ হাজার তরুণের অংশগ্রহণে নতুন ধারার এ গণমাধ্যমটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ১৫টি জেলার ৬৮টি উপজেলার প্রায় ৫৫ লাখ জনগোষ্ঠী কমিউনিটি রেডিওর সুবিধা ভোগ করছে বলে জানিয়েছে বিএনএনআরসি। কমিউনিটি রেডিও স্টেশন পর্যায়ে ৫ হাজার ‘শ্রোতা ক্লাব’ গঠিত হয়েছে শ্রোতাদের সমন্বয়ে।
এদিকে তথ্য মন্ত্রণালয় কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সমপ্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি ও সদিচ্ছার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশ হচ্ছে কমিউনিটি রেডিও বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নকারী দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রধান খাতগুলোর সঙ্গে জনসাধারণের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, সামপ্রতিক ঘূর্ণিঝড় মহাসেন এবং কমেন-এর সময় উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর ভূমিকা সব মহলে প্রশংসিত হয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বেতারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বেতার শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, শিক্ষার মাধ্যমও বটে। গ্রামগঞ্জে একসময় রেডিওর অনেক চাহিদা ছিল। আবহাওয়ার খবরের জন্য নদীমাতৃক এলাকার একমাত্র সম্বল রেডিও। টিভির অনুষ্ঠান দেখতে হলে সময় বের করতে হয়, গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু বেতার শুনতে আলাদা করে সময় বের করতে হয় না। কাজের মধ্যে থেকেও বেতার শোনা সম্ভব। রেডিও সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম। জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, তা হোক সংকটে বা দুর্যোগে, বিশেষত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রেডিওর প্রেরণাদায়ক ভূমিকার কথা সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন। একাত্তরে ‘স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র’ ও বিবিসির সংবাদ রণাঙ্গনে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ধমনীতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছিল, তেমনি অবরুদ্ধ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রাণে জাগিয়ে রেখেছিল স্বাধীনতার আকাঙ্খা। সেদিন গণমাধ্যম হিসেবে রেডিওর শক্তি ও সম্ভাবনার দিকটি সবার কাছে উন্মোচিত হয়েছিল। রেডিওর সুবিধা হলো এই মাধ্যম সহজে এবং দ্রুত ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ও দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ সুবিধা না এ ছাড়া পথে ভ্রমণরত মানুষের বিনোদনের খোরাকও জোগাচ্ছে বেতার। আবহাওয়া, রাস্তার যানজট ও বিভিন্ন পরিবহনের সূচি জানিয়ে বেতার মানুষের অনেক উপকারে আসছে।
এই নতুন গণমাধ্যম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে তথ্য এবং যোগাযোগের অধিকার এনে দিয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতকরণে জনপ্রতিনিধি, সরকারি এবং বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনসাধারণের সংলাপ আদান-প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রধান খাতগুলোর সঙ্গে জনসাধারণের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সামপ্রতিক ঘূর্ণিঝড় মহাসেন এবং কমেন-এর সময় উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর ভূমিকা সব মহলে প্রশংসিত হয়। এ মুহূর্তে আরও অন্তত ৫০-৬০টি কমিউনিটি রেডিওর আনুমোদন দিলে গ্যাপ এলাকা যথা মিডিয়া ডার্ক এলাকাগুলো কমিউনিটি রেডিওর আওতায় আসবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top