রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়িতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক দম্পতি আহত

ramu-pic-hamla-12.02.18.jpg

স্টাফ রিপোর্টার, রামু :
রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে জমি নিয়ে বিরোধের জের প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক দম্পতি গুরতর আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, দক্ষিণ মিঠাছড়ি পূর্ব উমখালী মোক্তার বাপের পাড়া এলাকার মৃত আমির হামজার ছেলে রশিদ আহমদ (৬৫) ও রশিদ আহমদের স্ত্রী ছমুদা খাতুন (৫৬)। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহতদের কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বয়োবৃদ্ধ কৃষক দম্পত্তিকে বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকায় জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
হামলায় আহত রশিদ আহমদের ছেলে মো. আমির হোছাইন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিনি রামু থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, দক্ষিণ মিঠাছড়ি মধ্যম উমখালী এলাকার আনোয়ারুল হকের ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী আমান উল্লাহ ও পানেরছড়া এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে জাফর আলম ও পূর্ব উমখালী এলাকার মৃত ফয়েজ আহমদের স্ত্রী হাজেরা খাতুন, তার ৪ মেয়ে ও ছেলে মঈনুদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন তাদের স্বত্ত্বঃদখলীয় জমি জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো।
ঘটনার দিন কৃষক রশিদ আহমদ প্রতিদিনের মত বোরো আবাদ করছিলেন। এসময় উপরোক্ত সন্ত্রাসীরা আরো ১০/১২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বোরো খেতে গিয়ে রোপনকৃত বিপুল চারা বিনষ্ট করে ফেলে। এসময় বাধা দিতে চাইলে রশিদ আহমদকে দা ও লাটি-সোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরতর জখম করা হয়। হামলাকারিরা রশিদ আহমদকে প্রাণনাশের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে চোখ উপড়ে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এতে রশিদ আহমদের ডান পাশের চোখে গুরতর জখম পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে রশিদ আহমদের স্ত্রী ছমুদা খাতুনকেও দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে হামলাকারিরা।
রশিদ আহমদ ও তার স্ত্রীকে মারধর এবং সর্বস্ব লুট করে হামলাকারিরা তাদের সিএনজি গাড়িযোগে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এদের মধ্যে হাতের হাড় ভাঙ্গা ও চোখে গুরতর আঘাতজনিত কারনে রশিদ আহমদকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে রশিদ আহমদ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
হামলার শিকার রশিদ আহমদ জানান, হামলাকারিরা ইতিপূর্বে তাদের জমি-জবর দখলের চেষ্টা চালিয়েছিলো। এমনকি চলতি শীত মৌসুমে তাদের মুলা খেতও বিনষ্ট করে দেয়। অতীতের হামলা ও জমি নিয়ে বর্তমানে রামু থানা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বিচারও চলমান রয়েছে। হামলাকারি হাজেরা বেগম ও তার ৪ মেয়ে সমাজে ঝগড়াটে নারি হিসেবে পরিচিত। কারনে-অকারনে এসব মেয়েরা তাদের উপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুচ ভূট্টো জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে একটি পক্ষ ইতিপূর্বে সংসদ সদস্যের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দিয়েছিলো। এখন বিষয়টি সমাধানের জন্য দু’পক্ষকে পরিষদে আসতে বলেছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top