ঐতিহ্যে’র ‘মোটেল প্রবাল’ এখন আর নেই!

Muhib-News-Pic.jpg.jpg-1.jpg

মুুহিববুল্লাহ মুহিব :
এক সময়ের মোটেল প্রবাল ও মোটেল উপলই ছিল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। যা সময়ের তালে তালে হারিয়ে যেতে বসেছে। কক্সবাজারের ঐতিহ্যে’র মোটেল প্রবাল এখন শুধু রোহিঙ্গাদের সেবা দিতে আসা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি ‘মোটেল প্রবালের মাঠেই গড়ে উঠছে চাইনিজ সার্কাস নামে একটি সার্কাস প্ল্যান। তার পাশেই মোটেল সড়ক ধরে গড়ে তোলা হচ্ছে দোকান-মার্কেট। ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠানকে এভাবে গড়ে তোলা মানেই শুধু পর্যটক নয় কক্সবাজারবাসী থেকে কেড়ে নেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের মোটেল প্রবালে এখন আর পর্যটক প্রবেশ করছেনা। করছে বিদেশী সংস্থাগুলোর গাড়ী। পর্যটক ও স্থানীয়দের প্রবেশে স্ব-ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিদেশী সংস্থাগুলো। অথচ কদিন আগেও পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত বা রাত্রী যাপন ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ বা গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশেও বাঁধা দেওয়া হচ্ছে।
মোটেল প্রবাল সুত্রে জানা যায়, পর্যটক নয় বিদেশী সংস্থাগুলোকে দিয়ে দেওয়ায় বেশী লাভবান হচ্ছে ‘মোটেল প্রবাল’। তাই বিদেশীদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে মোটেল প্রবাল কক্সবাজারের ঐতিহ্য বহন করে সে মোটেল প্রবাল আজ হারিয়ে যাচ্ছে। পর্যটন মন্ত্রণালয় বা পর্যটন কর্পোরেশনের অনুমোদন নিয়েই নাকি এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মোটেল প্রবালের গেইটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আজিম ও আনন্দ এ প্রতিবেদককে জানান, ‘মোটেল প্রবালে এখন কোন রুম ভাড়া হয় না। মোটেল প্রবাল এখন আর নেই। এটা এখন ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে সাধারন জনগণ, পর্যটক বা সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধ রয়েছে।
তবে কক্সবাজারের সচেতন মহল বলছে, বিদেশী সংস্থার হাতে তুলে দেয়া মানেই শুধু পর্যটকদের কাছ থেকে নয় মোটেল প্রবালকে কক্সবাজারবাসীর কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার ‘নাগরিক আন্দোলনের যুগ্ন আহবায়ক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, এভাবে যদি কক্সবাজারের ঐতিহ্যগুলোকে সংরক্ষণ না করে বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া হয় তাহলে কক্সবাজারের পর্যটনে বিরুপ প্রভাব পড়বে। যেভাবে বিদেশী নিরাপত্তার নামে স্থানীয় জনগণ, পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক।
‘কক্সবাজার আন্দোলনে’র চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম নোবেল বলেন, এটা আমাদের ঐতিহ্য। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যা করছে তা আমাদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের সামিল। তারা একবার আমাদের কাছ থেকে শৈবাল কেড়ে নিতে চাচ্ছে আবার মোটেল প্রবালও এখন বিদেশীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। কক্সবাজারবাসীর ঐতিহ্যকে এভাবে কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না। শীঘ্রই আন্দোলনে নামবো আমরা। এটা কখনো মেনে নেয়া হবে না।
তবে এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ ও বিপনন) জিয়াউল হক হাওলাদার দৈনিক কক্সবাজারকে জানান, এটা সরকারের সিদ্ধান্তে দেওয়া হয়েছে। এখানে পর্যটন কর্পোরেশনের কোন যোগসাজস নেই। সাংবাদিক বা সাধারন জনগণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কেন এমন প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এদিকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ অস্বীকার করে মোটেল প্রবালের ইউনিট ম্যানেজার মোঃ সরওয়ার উদ্দিন দৈনিক কক্সবাজারকে জানান, কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। সবাই প্রবেশ করতে পারবে। তবে উচ্চ মহলের সিদ্ধান্তে বিদেশী সংস্থাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

Top