দুই ছরা থেকে কোটি টাকার বালি উত্তোলন করে বিক্রি করছে পেট্রোবাংলাকে, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

download-2.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পেট্রোবাংলার বিভিন্ন মালামাল সংরক্ষণ স্থলের সংযোগ সড়কের জন্য রিকুইজিশান করা ২৫ একর জমির ক্ষতিপুরণের টাকা নির্ধারণ ও বিতরণ নিয়ে এখনো ধুয়াশা কাটেনি। জমির মালিকরা জানেন না প্রতি একরে কত টাকা ক্ষতিপুরণ দেওয়া হচ্ছে। জমির মালিকরা টাকা নিয়ে আসলে রাতে একটি প্রভাবশালী চক্র এসে অর্ধেক টাকা নিয়ে যায়।এ ছড়া ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য এক গুরুত্বপুর্ণ ছাড়া থেকে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোটি টাকা বালি উত্তোলন করে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ।
পানি চলাচলের ছরা থেকে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কোটি টাকার বালি উত্তোলন করে পেট্রোবাংলাকে বিক্রি করছে এহছানুল করিম নামের এক যুবদল নেতা। ওই বালি দিয়ে নির্মিত হওয়া রাস্তার জমির মালিকরা ক্ষতিপুরণের টাকা নিয়ে এখনো ধুয়াশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অলিখিত স্টাম্পে দস্তখত নিয়ে প্রতি ৪০ শতকে ৫০ হাজার টাকা করে দিলেও কত টাকা ক্ষতিপুরণ নির্ধারণ করা হয়েছে তাও জানে না জমির মালিকরা।
জমির মালিক জাফর আলম জানিয়েছেন, পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে ক্ষতিপুরণের জন্য কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে তিনি জানেন না। অলিখিত স্টাম্পে দস্তখত নিয়েই টাকা দেওয়া হচ্ছে। বলা হয়েছে কানি প্রতি ৫০ হাজার টাকা। এতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমাদের জানাতে হবে জমির ক্ষতিপুরণের টাকা কত ও কার কত জমি রিকুইজিশানে পড়েছে। এতে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জমির মালিকদের সাথে কোন আলোচনা হয়নি। এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আমাদের অবহিত করা হয়নি। আমরা তিন ফসলা জমি দেব তবুও কেন আমাদের সাথে কোন আলোচনা হবে না, এটি কেমনে হয়। রিকুইজিশান করা আমার জমির পরিমান কত এবং ক্ষতিপুরণের জন্য কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে তা পরিস্কার করতে হবে প্রশাসনকে।
ঝাপুয়ার শামসুল আলম জানিয়েছেন, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে একটি সরকারি ছরা থেকে যুবদল নেতা এহছানুল করিম কোটি টাকার বালি উত্তোলন করে পেট্রোবাংলাকে বিক্রি করছে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। যেভাবে বালি উত্তোলন করছে এতে বর্ষায় বৃষ্টি হলে ছরার দু’পাশ ভেঙ্গে বাঁধ ভেঙ্গে যেতে পারে। এ ছাড়াও সরকার এটি ইজরা দিলে অন্তত ৩০/৪০ টাকা রাষ্ট্রিয় কোষাগারে জমা হত। এ ছাড়া মোহাম্মদ শাহঘোনা ছারা থেকেও ব্যাপকভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালি। এটিও সরকার ইজরা দিলে বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় হত।
ছিকনিপাড়ার ছদর আমিন জনিয়েছেন, ইতোমধ্যে এই ছাড়া থেকে অন্তত ১ হাজার গাড়ি বালি বিক্রি করা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে বালি উত্তোলন করায় ছারার উপরিভাগে বৃষ্টি হলে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়ে পাহাড় ধসে পড়তে পারে। তাই এই বালি উত্তোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সবকিছু পরিবেশ সম্মত করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে মহেশখালী সহকারি কমিশনার(ভূমি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে থাকা মারুফ হাসান জানান, এ ব্যাপরে কেউ অভিযোগ করেনি। এভাবে বালি উত্তোলন করলে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Top