দৃশ্যমান হচ্ছে ২৫টি মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ

gate-banga.jpg

সৈয়দুল কাদের :
উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকার কক্সবাজারকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। সড়ক কিংবা নদী যেদিকেই তাকাইনা কেন সর্বত্র কাজ আর কাজ। স্থানীয় লোকজন যেটা কল্পনা করেনি এমন প্রকল্পের কাজও দৃশ্যমান। কক্সবাজারকে একটি উন্নত ও পরিপূর্ণ পর্যটন নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজর রয়েছে। তাই বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে কক্সবাজারে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে গত চার বছরে কক্সবাজারে ২৫টি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। যার অধিকাংশই এখন দৃশ্যমান। এ সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাল্টে যাবে কক্সবাজারের চেহারা। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির বড় একটি অংশ কক্সবাজার থেকেই অর্জিত হবে।
উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মহেশখালীতে বাস্তবায়িত হবে মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড নামে আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পেকুয়াার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। এ ছাড়া মহেশখালীতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণাধীন ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প ও বেজা কর্তৃপক্ষের পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাস্তবায়নাধীন মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্পটি ২০১৭ সালে পূর্ণতা পেয়েছে। এখন ইনানী-শিলখালী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে ১৭ ইসিবিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে শিলখালী-টেকনাফ পর্যন্ত আরও ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ২১৫ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে যার কার্যক্রম এখন চলমান রয়েছে।
মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, সমুদ্র পথ কিংবা সড়ক যেদিকেই দেখা যায় সেদিকেই চলছে উন্নয়ন কাজ। বাস্তবায়িত হচ্ছে মেগা প্রকল্প। যেখানে বঙ্গোপসাগরের মোহনা ঘটিভাঙ্গার পশ্চিমে জন-মানবের অস্থিস্ত ছিল না সেখানেই নির্মিত হচ্ছে গ্যাস সঞ্চালন লাইনের সংযোগ স্থল। এ সব বড়-বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের জন্য যে প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তা একটি দৃষ্ঠান্ত। এ ছাড়া অনুমোদন পাওয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মহেশখালীর মানুষের পেশার পরিবর্তন হবে। একই সাথে পরিবর্তন হবে জীবনযাত্রার মানের। ইতোমধ্যে কুতুবদিয়ার দৃশ্যপটও বদলে যেতে শুরু করেছে। উন্নয়ন হচ্ছে দৃশ্যমান।
কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী যেকোন সময়ের চেয়ে গত ৪ বছরে কক্সবাজারে রেকর্ড পরিমান উন্নয়ন হয়েছে। ইতোমধ্যেই পাল্টে যেতে শুরু করেছে কক্সবাজারের দৃশ্যপট। আমরা এ অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে চাই। এতে নতুন প্রজন্ম একটি আধুনিক কক্সবাজার উপহার পাবে।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করা সবকটি প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হয়েছে। বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। বাস্তবায়ন হয়েছে শেখ কামাল আন্তর্জাজিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট, মেডিকেল কলেজ, দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, রামুতে দ্বিতীয় বিকেএসপি, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণ, কোস্টগার্ডের স্টেশন নির্মাণসহ আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে মাতারবাড়ি-ধলঘাটা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও মহেশখালী ট্যুরিজম পার্ক প্রকল্প। অচিরেই গৃহীত সবকটি প্রকল্পের পুর্ণ বাস্তবায়ন হবে।

Top